করোনা ভাইরাস: বিশ্বে কোভিড-১৯ য়ে মৃতের সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়েছে
বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গবেষকরা বলছেন এখনও পৃথিবীর বহু দেশ থেকে নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার খবর আসছে।
জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি সংকলিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে, এই দশ লাখের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মৃত্যু ঘটেছে আমেরিকা, ব্রাজিল আর ভারতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ এটাকে ''বেদনাদায়ক এক মাইলফলক'' এবং ''অনুভূতি অবশ করে দেয়া'' পরিসংখ্যান বলে উল্লেখ করেছেন।
এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, প্রত্যেকটি মানুষের জীবন মূল্যবান।
''এরা ছিলেন কারোর বাবা ও মা, কারোর স্বামী, কারোর স্ত্রী, ভাই, বোন, বন্ধু, সহকর্মী। এই রোগের নিষ্ঠুর আঘাতে তাদের কষ্ট বহুগুণ বেড়েছে।''
চীনের উহানে এই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রথম শুরু হবার প্রায় দশ মাসের মধ্যে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস দশ লাখ জীবন কেড়ে নিয়েছে।
আরও পড়ুন:
- করোনাভাইরাস নিয়ে আপনার যা জানা প্রয়োজন
- করোনাভাইরাস যেভাবে শরীরের ক্ষতি করে
- 'হার্ড ইমিউনিটি' সম্পর্কে যেসব তথ্য জেনে রাখতে পারেন
প্রথম এই রোগ চীনে দেখা দেবার পর তা ছড়িয়েছে ১৮৮টি দেশে এবং বিশ্ব জুড়ে কোভিড শনাক্তের সংখ্যা তিন কোটি ২০ লাখের বেশি।
এই ভাইরাসের কারণে জারি করা লকডাউন আর অন্যান্য পদক্ষেপে বহু দেশের অর্থনীতি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, বহু মানুষের জীবন জীবিকা বিপন্ন হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে নেমে এসেছে মন্দা।
এরই মধ্যে এই ভাইরাসকে পরাস্ত করার লড়াই চলছে। কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরির একাধিক প্রচেষ্টা চলছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ার করেছে যে কার্যকর একটা টিকা আবিস্কারের আগেই মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ লাখে পৌঁছে যাবে।
কোভিড-১৯এ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে আমেরিকায়। সেখানে মৃতের সংখ্যা ২ লাখ পাঁচ হাজার। ব্রাজিলে মারা গেছে ১ লাখ একচল্লিশ হাজার সাতশ আর ভারতে ৯৫ হাজার ৫০০।
কোথায় কোভিড-১৯ ছড়াচ্ছে সবচেয়ে দ্রুত?
আমেরিকায় কোভিড শনাক্ত হওয়া রোগীর নথিভুক্ত সংখ্যা ৭০ লাখের বেশি, যা বিশ্বের মোট আক্রান্তের এক পঞ্চমাংশের বেশি।
জুলাই মাসে সেখানে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ যাবার পর অগাস্টে সংক্রমণের হার কমেছিল। কিন্তু এখন আবার তা বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
ভারতেও করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় ৯০ হাজার করে রোগীর করোনা শনাক্ত হয়েছে।
ভারতে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৬০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আমেরিকার পর আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। তবে দেশটির জনসংখ্যার হিসাবে দেশটিতে কোভিড আক্রান্তের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪৭ লাখের বেশি, এবং আক্রান্তের হিসাবে ব্রাজিল পৃথিবীতে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
আর্জেন্টিনায় নতুন সংক্রমণ এখন দ্রুত বাড়ছে এবং দেশটিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে পুরো আফ্রিকা মহাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। আফ্রিকায় এই ভাইরাসে মারা গেছে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকায় জনগোষ্ঠীর বয়স তুলনামূলকভাব কম। তরুণ জনগোষ্ঠী, কম ঘিঞ্জি বসতি, উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে আফ্রিকা মহাদেশে এই ভাইরাস কম ছড়িয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এছাড়াও আফ্রিকা যেভাবে গঠনমূলক পদক্ষেপ নিয়ে এই ভাইরাস মোকাবেলা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার প্রশংসা করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিভিন্ন দেশে হিসাবের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং পরিসংখ্যান নথিভুক্ত করার ভিন্ন ভিন্ন প্রণালী এবং পাশাপাশি বিক্ষিপ্তভাবে পরীক্ষা চালানোর ফলে আসলে কোভিড-১৯ এ কত মানুষ মারা গেছে বা কত মানুষ প্রকৃতভাবে করোনায় আক্রানত হয়েছে তার সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে তারা বলছেন মৃত ও আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি।
বাংলাদেশ
বাংলাদেশে জনসংখ্যার প্রতি দশ লাখে ৩০ জনের করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হিসাব দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মঙ্গলবার যে হিসাব দিয়েছে তাতে বলা হচ্ছে দেশটিতে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত হয়েছে মোট ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৩ জন।
ভ্যাকসিনের সন্ধানে
প্রাণঘাতী এই ভয়াবহ ভাইরাস মোকাবেলা করতে বিশ্বব্যাপী ২৪০টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কাজ বর্তমানে চলছে। এর মধ্যে ৪০টি ভ্যাকসিন ক্লিনিকাল ট্রায়ালে রয়েছে অর্থাৎ সীমিত পর্যায়ে মানুষের ওপর পরীক্ষা চলছে।
নয়টি ভ্যাকসিন পরীক্ষার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যেগুলো কয়েক হাজার মানুষের শরীরে পরীক্ষার কাজ বর্তমানে চলছে।
কোন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করতে সময় লাগে সাধারণত কয়েক বছর, কিন্তু বিশ্বব্যাপী এই জরুরি অবস্থা মোকাবেলার তাগিদ থেকে বিজ্ঞানীরা দ্রুততম সময়ে টিকা তৈরির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পড়তে পারেন টিকা তৈরি নিয়ে কীধরনের প্রচেষ্টা চলছে:
- করোনাভাইরাস টিকা নিয়ে সর্বশেষ: আশার আলো কতটা?
- রাশিয়ার টিকায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতার লক্ষণ
- বিশ্বের সাতশ কোটি মানুষের কাছে কীভাবে করোনার টিকা পৌঁছন হবে?
- আবার শুরু হচ্ছে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল
- বাংলাদেশে রুশ ভ্যাকসিন তৈরির সম্ভাবনার কথা জানালেন মন্ত্রী
- অক্সফোর্ডের উদ্ভাবিত টিকা বানানোর জন্য তৈরি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট
- বেক্সিমকো-সেরাম চুক্তি, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন সরবরাহ হবে বাংলাদেশে
















Click it and Unblock the Notifications