উৎসবের মরশুমে করোনা ভাইরাসের চোখরাঙানি, ইউরোপের একাধিক দেশে জারি লকডাউন
উৎসবের মরশুমে ফের বিপদের সঙ্কেত ইউরোপ জুড়ে। ইউরোপে করোনা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত চিকিৎসক ও বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে এতটাই উদ্বেগ বাড়িয়েছে যে ক্রিসমাস ও নিউ ইয়ার্সের উৎসবের আগেই করোনা নিয়ন্ত্রণে লকডাউন কার্যকর হতে চলেছে। ইউরোপের মধ্যে অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও রাশিয়ায় দৈনিক কোভিড–১৯ কেস ও মৃত্যুর রেকর্ড তীব্রতা দেখা গিয়েছে। এই দেশগুলিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং ইউরোপের মধ্যে অস্ট্রিয়াই প্রথম দেশ যেখানে কোভিড–১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে।

জার্মানের ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল নাগরিকদের আর্জি জানিয়েছেন যে টিকাকরণ যেন তাঁরা করিয়ে নেন। ইতিমধ্যে দেশের সর্বোচ্চ কোভিড–১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মার্কেল বলেন, 'পরিস্থিতি এখন চূড়ান্ত নাটকীয়তায় চলে গিয়েছে।’ জার্মানের স্বাস্থ্য মন্ত্রী জেনস স্পান জানিয়েছেন যে জার্মানি হয়ত কোভিড–১৯ রোগীদের এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে বা এমনকী প্রতিবেশী দেশেও চিকিৎসার জন্য পাঠাতে পারে। স্পান বলেন, 'আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে আমাদের কোভিড রোগীদের শুধু একই অঞ্চলে নয়, জার্মানির অন্যান্য অঞ্চলে স্থানান্তর করতে হবে।’ শুক্রবারও জার্মানিতে দৈনিক করোনা কেস রেকর্ড হয়েছে ৫২,৯৭০টি। জার্মানের বাভারিয়া, কোভিড–১৯ কেসের বাড়বাড়ন্তর জন্য তাদের জনপ্রিয় ক্রিসমাস বাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
করোনা সংক্রমণের তীব্রতা কমাতে অস্ট্রিয়া ইতিমধ্যে লকডাউন কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেছে এবং দেশের গোচা জনসংখ্যাকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ টিকাকরণ করানোর জন্য বলেছে। অস্ট্রিয়ান চ্যান্সেলর আলেকজান্ডার শ্যালেনবার্গ বলেছেন, 'মানুষকে টিকাকরণের জন্য আমরা যথেষ্টভাবে রাজি করাতে পারছি না। কিন্তু এখন এটা নিয়ে কড়া বন্দোবস্ত করতে হবে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা পারস্পরিক সহযোগিতা দেখাননি। এই দুষ্ট চক্র ভাঙ্গার একমাত্র উপায় টিকাদানের হার বাড়ানো।’ দেশজুড়ে লকডাউন কার্যকর হবে আগামী সোমবার থেকে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই দেশে ১৫,৬০৯টি নতুন কেস দেখা দিয়েছে, যা মহামারি শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের তালিকায় পাঁচটি দেশের একটি হল রাশিয়া। টিকা প্রয়োগের পর কয়েক মাস আক্রান্ত ও মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গত সপ্তাহ থেকেই তা ফের বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্র, রেস্তোরাঁ কিংবা শপিংমলে গেলে টিকা সনদ সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবারও এই দেশে সর্বোচ্চ ১,২৫৪টি দৈনিক নতুন মৃত্যু সহ ৩৭,১৫৬টি নতুন করোনা কেস সনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই দেশে ১,২৫১ জন ও বুধবার ১,২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রাশিয়ার মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ করোনার দু’টি ডোজ টিকা নিয়েছেন।
এদিকে স্পেনে চালু করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ টিকাকেন্দ্র। প্রশাসন বলছে, পর্যটন মরশুম শুরু হওয়ার পর করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহে সংক্রমণের হার ৫২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।












Click it and Unblock the Notifications