গত বছরের ডিসেম্বরে উহানে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে, চাপে পড়ে জানালো বেজিং
গত বছরের ডিসেম্বরে উহানে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে, চাপে পড়ে জানালো বেজিং
গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এই করোনা ভাইরাস। এখন তা মহামারির রূপ নিয়েছে। প্রথম থেকেই এই রোগটি লুকিয়ে যাওয়ার দায় নিতে হয়েছিল বেজিংকে। সোমবার চিনের পক্ষ থেকে জানানো হল, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ উহানে এই নোভেল করোনা ভাইরাস প্রথম সনাক্ত হয়, যেটিকে অজানা কারণের জন্য নিউমোনিয়ার তালিকায় রাখা হয়েছিল। চিনেই সর্বপ্রথম এই রোগ যেমন দেখা দেয় তেমনি তারাই প্রথম এই রোগটি নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বেজিংকে এই রোগ লোকানোর দায় নিতে হয়েছে।

চিনে আক্রান্ত ৮১,৭০৮ জন
দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) সোমবার জানিয়েছে যে, করোনা ভাইরাস প্রকোপের পর থেকে এই মহামারিতে এই দেশে মারা গিয়েছে ৩,৩৩১ জন এবং রবিবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮১,৭০৮ জন। এখনও ১,২৯৯ জনের চিকিৎসা চলছে এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৭৭,০৭৮ জন রোগী। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী, এই মারণ কোভিড-১৯ রোগ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং প্রাণ হারায় ৭০,৫৯০ জন ও ১৮০ টি দেশ ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ১.২ মিলিয়নের বেশি মানুষ আক্রান্ত করোনায়। ভারতে এই রোগে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১১ জন ও আক্রান্তের সংখ্যা ৪,২৮১।

ডিসেম্বরে জরুরি ভিত্তিতে বিজ্জপ্তি জারি করে স্বাস্থ্য কমিশন
শেষ ডিসেম্বরে মধ্য চিনের হুবেই প্রদেশের উহান রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র প্রথম অজানা কারণে নিউমোনিয়ার কেস সনাক্ত করে। ৩০ ডিসেম্বর উহান মিউনিসিপ্যাল স্বাস্থ্য কমিশন তাদের অন্তর্গত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে এক জরুরি ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এবং তাতে বলা হয় যে অজানা কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা করতে হবে। কোভিড-১৯ সঙ্কট নিয়ে চিনকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এবং করোনা ভাইরাসকেসগুলিকে লুকিয়ে রাখার জন্য বেজিংকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে মারণ করোনা ভাইরাসের প্রাথমিক তথ্য চিন লুকিয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বকে তার বড় মূল্য দিতে হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে জন স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অবক্ষয়ের জন্য দায়ি বেজিং। তিনি বলেন, ‘ওরা (চিন) যেটা করেছে তার জন্য বিশ্বকে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে এবং এই রোগ নিয়ে কিছু না জানানোর জন্য বিশ্বকে আরও বড় মূল্য দিতে হবে।'

চিন–আমেরিকার সংঘাত
চিনের জাতীয় সুরক্ষা কাউন্সিল টুইট করে জানিয়েছিল যে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে প্রাথমিক রিপোর্টকে দমন করেছে এবং চিকিৎসকদের শাস্তি দিয়েছে, যার ফলে চিন এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বিশ্বব্যাপী মহামারী প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলি হারিয়ে ফেলেছে। এই টুইটের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়। ২৬ মার্চ মার্কিন সচিব মাইক পম্পিও জানিয়েছেন যে চিনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি আমেরিকানদের স্বাস্থ্য ও তাদের জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট হুমকির সৃষ্টি করেছে এবং বেজিং ইচ্ছাকৃতভাবে করোনা ভাইরাসের তথ্য লোকানোর জন্য প্রচার চালিয়েছে যাতে বিশ্ববাসী এই গুরুতর সঙ্কট না বুঝতে পারে। যদিও চিন আমেরিকার এই অভিযোগ নস্যাৎ করে জানিয়েছে যে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ নিয়ে তাদের কাছে স্বচ্ছ কোনও ধারণা ছিল না যা ভাগ করে নেওয়ার মতো। বরং চিন দাবি করেছে যে বিশ্বব্যাপী সঙ্কটটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে উন্মুক্ত ও অত্যন্ত দায়িত্বশীল পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications