ফের কাঠগড়ায় বেজিং! চিনা হ্যাকারদের বিরুদ্ধে করোনা গবেষণার তথ্য-চুরির অভিযোগ আমেরিকার
ফের কাঠগড়ায় বেজিং! চিনা হ্যাকারদের বিরুদ্ধে করোনা গবেষণার তথ্য-চুরির অভিযোগ আমেরিকার
করোনা সংক্রমণ শুরুর সময় থেকেই চিন-আমেরিকা দ্বৈরথ ঘিরে টানাপড়েন চলছে বিশ্ব রাজনীতিতে। মঙ্গলবার মার্কিন আইন বিভাগের একটি সিদ্ধান্তের জেরে ফের সেই আগুনে ঘি পড়ল। ইতিমধ্যেই মার্কিন আদালতে দুই চিনা হ্যাকারের বিরুদ্ধে আমেরিকার ভিন্ন ভিন্ন সংস্থার কয়েক লক্ষ কোটি টাকার বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্য এবং করোনা গবেষণার অতি মূল্যবান তথ্য চুরির অভিযোগে উঠেছে। মার্কিন আইনি আধিকারিকদের মতে, গত কয়েক মাসে চিনা হ্যাকাররা রীতিমত গবেষণা করে মার্কিন সিস্টেমের ফাঁকফোকর খুঁজে বার করেছে এবং সেই পথে তথ্য পাচার হয়েছে। এই তথ্য যে চিনা সরকারের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আর বলার অপেক্ষা থাকে না।

মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সতর্কীকরণ অগ্রাহ্য
মার্কিন আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনা হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মার্কিন ব্যবসাবাণিজ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে করোনার প্রতিষেধক-চিকিৎসা সম্বন্ধিত গোপন তথ্য চুরির অভিযোগে রয়েছে। এক আধিকারিকের কথায়, "এটা অন্তত স্পষ্ট যে করোনার গবেষণা সংক্রান্ত তথ্যগুলি পেলে চিনা সরকারের খুব একটা সমস্যা হবে না।" সূত্রের খবর, ইতিপূর্বে মার্কিন ও পশ্চিমী গোয়েন্দা সংস্থাগুলি মাসের পর মাস ধরে আমেরিকাকে এই ব্যাপারে সতর্ক করা সত্ত্বেও গুরুত্ব দেয়নি প্রশাসন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কোনও বিদেশি হ্যাকারের বিরুদ্ধে বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য চুরির অভিযোগ মার্কিন মুলুকে এই প্রথম।

চাপানউতোর আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানে
মার্কিন আইন বিভাগের উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নী জন ডেমার্স একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, "রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি চিনও আমেরিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। টাকার বদলে তথ্য চুরির বরাত দিয়ে ডেকে আনা হচ্ছে এথিক্যাল হ্যাকারদের এবং এইভাবেই আমেরিকার কষ্টসাধ্য পরিশ্রম এবং করোনার বিষয়ে প্রাপ্ত অতি-মূল্যবান তথ্য গ্রাস করে নিজের খিদে মেটাচ্ছে চিনের কমিউনিস্ট দল।" জন ডেমার্সের এই বক্তব্য স্বভাবতই ঝড় তুলেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আঙিনায়।

চুরি করা হয়েছে নাকি শুধুমাত্র চেষ্টা হয়েছে, সে বিষয়ে ধোঁয়াশা
আন্তর্জাতিক সূত্রের মতে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার চলাকালীন এ বিষয়ে কোনও প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়নি যে চিনা হ্যাকাররা মার্কিন প্রশাসনের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নথি চুরি করতে সক্ষম হয়েছে নাকি শুধুমাত্র উঁকিঝুঁকি দিয়েই ক্ষান্ত থেকেছে তারা। মার্কিন সংস্থাগুলির তরফে আইনজীবী জানান, এ বছরের জানুয়ারি মাসে চিনা হ্যাকাররা ম্যাসাচুসেটসের একটি করোনা গবেষণাকারী সংস্থার তথ্য চুরির চেষ্টা করে এবং মেরিল্যান্ডের একটি ওষুধ ফার্মের করোনা গবেষণা শুরু করার ঘোষণার এক-সপ্তাহের মধ্যে তাদের কম্পিউটার সিস্টেমে উঁকিঝুঁকি দেয়। যদিও কিছু আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে নিজেদের সপক্ষে যুক্তি খাড়া করে ক্রমশ চিনকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোণঠাসা করতে চাইছে আমেরিকা।

এ মাসের শুরুতে মামলা দায়ের হয় ওয়াশিংটনের যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালতে
গত সপ্তাহের শুরুতে ব্রিটেন, কানাডা ও আমেরিকার প্রশাসনে একযোগে তথ্য-চুরির অভিযোগ আনে এবং এক্ষেত্রে হ্যাকারদের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসাজশের কথাও জানান হয়। এ মাসের শুরুতেই মূলত ওয়াশিংটনের যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালতে এই সমস্যার নিষ্পত্তি করতে মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার এই মামলার ফিতে খোলা হয়। আমেরিকার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তরফ থেকে চৈনিক দূতাবাসে একটি ই-মেইল মারফত হ্যাকারদের কার্যক্রম সম্পর্কে মন্তব্য জানাতে চাওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি চিন সরকারের তরফে।












Click it and Unblock the Notifications