'ক্রসফায়ার' নিয়ে বিতর্ক: এমপিদের বক্তব্যে দ্বিমত ওবায়দুল কাদেরের

ধর্ষণকারীদের ক্রসফায়ারে হত্যার সমর্থনে কয়েকজন সংসদ সদস্য সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন
Getty Images
ধর্ষণকারীদের ক্রসফায়ারে হত্যার সমর্থনে কয়েকজন সংসদ সদস্য সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন

বাংলাদেশে ধর্ষণকারীদের 'ক্রসফায়ারে' হত্যার সমর্থনে কয়েকজন সংসদ সদস্য সংসদে যে বক্তব্য তুলেছেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত মতামত বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারকে সরকার এবং দল সমর্থন করে না।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টারের পক্ষে দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির যে সংসদ সদস্যরা এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন, তারা সরাসরি ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টারের দাবি করার বিষয় অস্বীকার করেছেন।

ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টার চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য এসেছে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার বা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে তা বন্ধের দাবি করে আসছে।

কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এবং সরকার এসব অভিযোগ কখনও স্বীকার করেনি।

এমন প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের মিত্র জাতীয় পার্টির কয়েকজন সদস্য যখন খোদ সংসদে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে হত্যার সমর্থনে বক্তব্য দিয়েছেন, তখন সেই বক্তব্য ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

তবে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এমন বক্তব্য সেই সংসদ সদস্যদের একান্তই ব্যক্তিগত।

"যারা বক্তব্য রেখেছেন এনকাউন্টারের পক্ষে, আমার মনে হয়, এটা তাদের ব্যক্তিগত মতামত। এটা সরকার বা দলের কোনো বক্তব্য নয়। আমরা এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারকে সাপোর্ট করতে পারি না। এটা সংবিধানের আওতার বাইরে। কারণ এটা সংবিধান সম্মত নয়।"

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

“বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে স্বাধীন তদন্তের সুযোগ নেই”

'মাদক ব্যবসার চেয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা বড় অপরাধ'

'বন্দুকযুদ্ধের' ঘটনায় আইনি প্রতিকারের উপায় কী

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা মনে করেন, সংসদে কোনো সদস্য যখন বক্তব্য দেন, তিনি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তা করে থাকেন। সেখানে কারও ব্যক্তিগত কোনো মতামতের বিষয় নেই।

শীপা হাফিজা বলছিলেন, সংসদে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমর্থনে বক্তব্যে তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

"আমরা খুবই বিস্মিত। এবং বার্তাটা হচ্ছে তাহলে কি পার্লামেন্ট দেশের আইনকে যথোপযুক্ত মনে করেন না বা কার্যকরী মনে করেন না। দেশের বিচারবিভাগকে কি কার্যকরী মনে করেন না? এরকম একটা আশংকা আমাদের মাঝে আসে।"

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

গত ১৪ই জানুয়ারি মঙ্গলবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে বন্দুক যুদ্ধের কথা বলে এনিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছিলেন। সংসদের রেকর্ডে তার এই বক্তব্য রয়েছে।

তবে তিনি বিবিসির সাথে আলাপকালে বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টারের সমর্থনে বক্তব্য দেয়ার বিষয় স্বীকার করেননি।

সেই আলোচনায় অংশ নেয়া অন্যরাও সরাসরি এমন কোনো বক্তব্য দেয়ার বিষয় অস্বীকার করেছেন।

তবে রেকর্ডে দেখা যায়, জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেছিলেন, ১০/১২ ক্রসফায়ার ঘটলেই ধর্ষণের ঘটনা কমে আসবে।

তিনি এখন বিবিসিকে বলেছেন, ধর্ষণের মামলায় যেহেতু সাক্ষী পাওয়া যায় না। সেকারণে এসব মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে। পলে এই অপরাধ কমছে না। বরং উদ্বেগ বাড়ছেই।

এমন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি মাদক এবং জঙ্গি দমনের মতো ধর্ষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।

তরিকত ফেডারেশনের নেতা নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর বক্তব্য ছিল, তাঁর ভাষায় ধর্ষকদের ক্রসফায়ার করলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদও সংসদে সেই আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন।

কিন্তু কেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন-এই প্রশ্নে মি: আহমেদ বলেছেন, "আসলে পার্লামেন্টে জাতীয় পার্টির দু'জন সদস্য বক্তব্য রেখেছেন। তারা বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। এই যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যখন একজনকে আক্রমণ করে, তিনি কিন্তু নাই। স্পটেই ডেথ। ভারতে বাস থেকে নামার পর একজন ডাক্তার মেয়েকে চারজন ধর্ষণ করেছে। চারজনকেই ক্রসফায়ার দিয়েছে। তারপর আর ভারতে এমন ঘটনা ঘটে নাই।"

তিনি আরও বলেছেন, "এজন্য প্রশ্ন উঠেছে যে যারা ছোট শিশুদের সাথে এমন পাশবিক নির্যাতন করে, তাদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নাই। যখন চিহ্নিত হচ্ছে যে এই লোকটা ধর্ষণের পর হত্যা করেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেতো স্পটেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। সেই কথা বলা হয়েছে।"

BBC
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+