ট্রাম্পের শুল্কে ধোঁয়াশা, ১০%, ১৮% না কি ১৩.৫%, মার্কিন বাজারে ঠিক কত কর দেবে ভারত?
মার্কিন শুল্কনীতিতে নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় পণ্যের ওপর ঠিক কত হারে শুল্ক আরোপ হবে ১০ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, না কি ১৩.৫ শতাংশ তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল বিভ্রান্তি। কারণ, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে প্রেসিডেন্টের আরোপিত বিস্তৃত শুল্কনীতির আইনি ভিত্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতার ভিত্তিতে ভারতের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পর। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জেরে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল, সেটিও প্রত্যাহার করা হয়। মার্চের মাঝামাঝি চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু হঠাৎ মোড় ঘোরে শুক্রবার। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, শান্তিকালে পাঁচ দশক পুরনো ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে শুল্ক চাপাতে পারেন না। ফলে ভারতের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে যায়।
আইনি এই ধাক্কার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে তাহলে কি ভারত আগের মতোই 'মোস্ট ফেভার্ড নেশন' মর্যাদায় ৩.৫ শতাংশ শুল্কেই ফিরে যাবে?
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। রায়ের পরপরই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প নতুন নির্দেশ জারি করে সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। এর জন্য তিনি ব্যবহার করেন 'সেকশন ১২২' একটি প্রায় অপ্রয়োগিত আইন, যা প্রেসিডেন্টকে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়, পরে যার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এই নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে।
ট্রাম্প যদিও দাবি করেন, ভারতের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ শুল্কই বহাল থাকবে ও বাণিজ্য চুক্তিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তবে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়, আপাতত সব দেশের মতো ভারতের ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ শুল্কই কার্যকর হবে।
সে ক্ষেত্রে হিসাব বলছে ৩.৫ শতাংশ পুরনো শুল্কের সঙ্গে নতুন ১০ শতাংশ যোগ হলে মোট কার্যকর শুল্ক দাঁড়াতে পারে ১৩.৫ শতাংশে। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত স্পষ্টতা মেলেনি।
আগামী সপ্তাহে ভারত সরকারের একটি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারে। মার্কিন প্রশাসনও নাকি ১৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহালের নতুন আইনি পথ খুঁজছে।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা, বিশেষ করে বস্ত্র ও রত্নশিল্পের মতো শ্রমনির্ভর খাত। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রই ভারতের পণ্যের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। তবে শেষ পর্যন্ত কোন হার কার্যকর হয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।












Click it and Unblock the Notifications