আমিনিকে শ্রদ্ধা জানাতে ইরানের রাস্তায় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী, নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষ
ইরানে আমিনির স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সংঘর্ষের মুখে বিক্ষোভকারী,
ইরানে মাহসা আমিনির স্মৃতিসৌধে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে দেশের নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ হয়। মহাসা আমিনির মৃত্যুর ৪০ দিনে শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ তাঁর শহর সাক্কেজে জড়ো হয়েছিলেন। নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

ইরানের একটি সংবাদ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ মহাসা আমিনিকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলে সাক্কেজ শহরে। ইরানের পুলিশ তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি হিংসার আকার নেয়। বিক্ষোভকারীদের পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন সাক্কেজ শহরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়।
বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গিয়েছে, হাজার হাজার মানুষ মহাসা আমিনির কবরস্থানের দিকে মিছিল করে যাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসেছিলেন আমিনিকে শ্রদ্ধা জানাতে। তাঁদের মধ্যে অনেকে নারী, জীবন, স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা স্বাধীনতা স্লোগান দিতে থাকেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রায় ১০ হাজার মানুষ আমিনিকে শ্রদ্ধা জানাতে সাক্কেজ শহরে এসেছিলেন।
ইরানের মানুষ যাতে কোনওভাবেই আমিনিকে শ্রদ্ধা জানাতে না পারে, কবরস্থানের দিকে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সমস্ত স্কুল, কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু আমিনিকে শ্রদ্ধা জানাতে ইরানের মানুষ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তাঁরা অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুর পথে নদী পেরিয়ে আমিনির কবরস্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ইরান প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিদেশি সাংবাদমাধ্যম ইরানে অশান্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ইরানে ইউরোপ ভিত্তিক ফার্সি ভাষার একটি সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলছে। বুধবার ইরানের সমস্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইরান সরকারের মুখপাত্র আলি বাহাদোরি জাহরোমি চলতি সপ্তাহে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন বিক্ষোভের মুখে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। ইরানের এক স্কুলে শাসকের স্তুতি গাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু স্কুল ছাত্রীরা অস্বীকার করলে, তাঁদের মারধর করা হয়। ঘটনায় এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়। যদিও ইরান প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইরান সরকার লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা স্বোচ্চার হয়ে উঠেছেন। তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির ছাত্র-ছাত্রীরা একসঙ্গে ক্যান্টিনে প্রবেশ করে। ইরানের ছাত্র-ছাত্রীদের একসঙ্গে ক্যান্টিনে প্রবেশের অনুমতি নেই। এরপরেই ইরান সরকার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন বন্ধ করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র-ছাত্রীরা পাশাপাশি বসে খাবার খায় বলে জানা গিয়েছে। আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে ইরানের তেল উৎপাদক সংস্থার কর্মীরা ধর্মঘট করে বলে অভিযোগ।












Click it and Unblock the Notifications