ভুটানের পূর্ব সীমান্তে চিনা আগ্রাসন! ভারতের উপর চাপ বাড়াতেই কি নয়া কৌশল বেজিংয়ের ?
ভুটানের পূর্ব সীমান্তে চিনা আগ্রাসন ! ভারতের উপর চাপ বাড়াতেই কি নয়া কৌশল বেজিংয়ের ?
লাদাখ সংঘর্ষের পর ভারতে চাপে রাখতে প্রতিদিনই নতুন কৌশল নিচ্ছে চিনা। সূত্রের খবর, ভারতের সঙ্গে সংঘাতের আবহে এবার ভুটানের সঙ্গে জমি-বিবাদে জড়িয়েছে চিন। এদিকে ভারত-ভুটান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা কূটনৈতিক মহলে সর্বজনবিদিত। এমতাবস্থায় চিন-ভুটান বিবাদের মাঝে ভারতকে নাক গলানোরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে জিনপিং প্রশাসন।

ভুটানের একাধিক ভূখণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি চিনের
সূত্রের খবর, ভারতের উপর চাপ বাড়াতে এবার ভুটানের ভূখণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি করল চিন। ভুটানের পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিম অংশে দীর্ঘদিন ধরেই চিনের সঙ্গে ভুটানের বিবাদ চলছে চিনের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে। ভারতের। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তবে পূর্ব অংশে চিনের দখলদারিই চিন্তা বাড়াচ্ছে নয়া দিল্লির। কারণ ওই অঞ্চলের সীমান্তে রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ। বেজিং লাগাতার যে অংশের দাবি করে যাচ্ছে।

সাকতেং অভয়ারণ্যের অনুদান নিয়ে আপত্তি চিনের
ইতিমধ্যেই ভুটানের বেশ কিছু এলাকা নিজেদের বলে দাবি করেছে চিন। এদিকে পূর্ব সীমান্তের কাছে সাকতেং অভয়ারণ্যের জন্য অনুদান পেতে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটি কাউন্সিলে আবেদন করে ভুটান। কিন্তু ভুটানের এই আবেদন নিয়ে আপত্তি জানায় চিন৷ তাদের দাবি, ওই এলাকা নিয়ে বিবাদ রয়েছে৷ ফলে তা নিজেদের বলে দাবি করতে পারে না ভুটান৷ যদিও চিনের আপত্তি সত্ত্বেও ওই এলাকার জন্য অনুদান পেয়েছে ভুটান। আর তার পর থেকেই আরও চড়ছে উত্তেজনার পারদ।

চিনকে কড়া বার্তা ভুটানের তরফেও
এদিকে সাকতেং অভয়ারণ্য ভুটানের ত্রাসিগাং প্রদেশে অবস্থিত। ইতিমধ্যেই থিম্পুর তরফেও এই বিষয়ে চিনকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে সাকতেং অভয়ারণ্যের গোটাটাই তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ৷ এদিকে ২০১৭ সালে ভুটানের অন্তর্গত ডোকলামে ঢুকে পড়েছিল লালফৌজ। সেখানেও রাস্তা নির্মাণের তোড়জোড় শুরু করে তারা। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে ভারতীয় সেনাও। ৭২ দিন ধরে দু' পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর অবশেষে ফেরে স্থিতাবস্থা।

ভুটানের পূর্ব সেক্টর নিয়ে বিরোধের কথা আগে শোনা যায়নি
প্রসঙ্গত এর আগে কখনও এই ওয়াইল্ড লাইফ স্যানচুয়ারি নিয়ে আলোচনা হয়নি। সূত্রের খবর, এই প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠল এই ইস্যু। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে সুবিধাবাদী চিন। অন্যদিকে ১৯৮৪ সাল থেকে সীমান্ত জট ছাড়াতে ভুটান ও চিনের মধ্যে ২৪ টি বৈঠক হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু ভুটানের সংসদ সূত্রে খবর, মধ্য এবং পশ্চিম সেক্টর নিয়ে দু'দেশের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও, পূর্ব সেক্টর নিয়ে কখনও কোনও বিতর্ক ছিল না। চিনের এই কৌশল আসলে দিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার জন্য ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির উপরে বেজিংয়ের রাগের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নাম না করে চিনকে ‘বিস্তারবাদী’ বলে কটাক্ষ মোদীর
কূটনীতিকদের বলছেন এটা একেবারেই নতুন দাবি করা হচ্ছে বেজিংয়ের পক্ষে থেকে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাইছে না নয়াদিল্লী। গোটা পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। এদিকে ইতিমধ্যেই লাদাখ সফরে গিয়ে নাম আগ্রাসী চিনকে বিস্তারবাদী বলে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এমতাবস্থায় অরুণাচলের গা ঘেঁষা ভূখণ্ড নিয়ে বেজিংয়ের সরব হওয়ার সিঁদুরে মেঘ দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications