মাসুদ আজহারের সমর্থন তুলে কি চিন চাইছে ভারত বিআরআই-তে যোগ দিক? ব্যাপারটা অত সহজ হবে না

সম্প্রতি জয়েশ-ই-মহম্মদের (জেইএম) মাসুদ আজহারের পিছন থেকে সমর্থন তুলে নিয়ে তাঁকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের তালিকাভুক্ত করার পথ থেকে বাধা সরিয়ে নিয়েছে চিন।

সম্প্রতি জয়েশ-ই-মহম্মদের (জেইএম) মাসুদ আজহারের পিছন থেকে সমর্থন তুলে নিয়ে তাঁকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের তালিকাভুক্ত করার পথ থেকে বাধা সরিয়ে নিয়েছে চিন। বেইজিং পরপর চারবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এই উদ্যোগে জল ঢালার পরে তার এই পরিবর্তিত অবস্থানে স্বভাবতই খুশি ভারত। শাসকদল বলছে, এতে কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরই। সংবাদমাধ্যম বলছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এটা ভারতের বড় কূটনৈতিক জয়।

মাসুদ আজহারের সমর্থন তুলে কি চিন চাইছে ভারত বিআরআই-তে যোগ দিক? ব্যাপারটা অত সহজ হবে না

তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণে যে এই জয় ভারতের তাতে কোনও সন্দেহ নেই, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এটাও ভুলে চলবে না যে মাসুদের পিছনে সমর্থন সরিয়ে নেওয়ার পিছনে চিনেরও রয়েছে অন্য অভিসন্ধি এবং তা হল নয়াদিল্লির উপরে পাল্টা চাপ সৃষ্টি করা তাদের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআইতে অন্তর্ভুক্তির জন্যে।

'দ্য প্রিন্ট' পত্রিকার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিন ভারতের উপরে বিসিআইএম বা বাংলাদেশ-চায়না-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার রেলপথ বিআরআই-এর মধ্যে ঢোকাতে চাইছে এবং ব্যাপারটি ত্বরান্বিত করতে চাইছে সে-দেশের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং-এর আসন্ন ভারত সফরের আগেই।

বিসিআইএম রেল করিডোরের ভাবনা তৈরী হয় ১৯৯৯ সালে এবং ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও চিনের প্রিমিয়ার লি কেকিয়াং-এর মধ্যে এই বিষয়ে একটি সমঝোতা সাক্ষরও হয়। চিনের বিআরআই প্রকল্প তখনও চার বছর দূরে।

ভারতের পক্ষে বিআরআই/সিপিইসিকে সমর্থন করা কঠিন

বিআরআই-এর বিষয়ে ভারত বরাবরই বিরোধিতা করে এসেছে কারণ এই প্রকল্পের অংশ সিপিইসি (চায়না-পাকিস্তান ইকোনোমিক করিডোর) পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীরের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে এবং এই প্রকল্পটিকে সমর্থন করা মানে ভারতের নিজের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সমঝোতা করা। 'দ্য প্রিন্ট' কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এও জানিয়েছে যে নয়াদিল্লি বিসিআইএম-কে বিআরই-এর অন্তর্গত করতে রাজি নয় কারণ তাতে দেশের উত্তরপূর্বের সুরক্ষাও বিঘ্নিত হতে পারে বলে কেন্দ্রের আশঙ্কা। এই মাসের পরের দিকে কিরঘিস্তানের রাজধানী বিশকেকে ভারত এবং চিনের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে হতে চলা বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। গতবছর চিনের উহানে মোদী এবং জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠকি আড্ডার সময়েও বিসিআইএম-এর বিষয়টি নিয়ে কথা হয় যদিও এই ব্যাপারে ভারতের পদক্ষেপ কী হবে তা জানতে চিন চেয়ে রয়েছে চলতি লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল কী হয়, তার দিকে।

জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগে চলা মোদী তো চিনের প্রকল্পে যোগ দিতে পারবেন না আরওই

চিনের সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা হলেও নয়াদিল্লির কোনও সরকারের পক্ষেই বিআরআইতে যোগ দেওয়া সহজ কাজ হবে না, এমনকী ছাপ্পান্ন-ইঞ্চি ছাতি বৈশিষ্ট্য মোদীর পক্ষেও না। কারণ প্রবল জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগে ভর দিলে চলা মোদী ও তাঁর বিজেপি যদি বিআরআই প্রকল্পকে মেনে নন, তাহলে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিরোধীপক্ষ তাদের ছেড়ে কথা বলবে না আর বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে যদি মোদীর দল কম সংখ্যক আসন পায়, তাহলে তো আরওই নয়। রাহুল গান্ধী মোদীর চিন নীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার তাঁকে ঠুকে কথা বলেছেন।

মোদী সরকার তার প্রথম মেয়াদে বিএমআইসি প্রকল্পকে কম গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং তার জায়গায় বিমসটেক-এর (বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা এন্ড তাইল্যান্ড ইকোনোমিক কো-অপারেশন) উপরে জোর দিয়েছে যাতে চিন ফ্যাক্টরটি দূরে রাখা যায় কিন্তু বেইজিং যেভাবে ভারতের নানা ছোট প্রতিবেশী দেশগুলিকে নিজের বিআরআই প্রকল্পে ঢুকিয়ে নিচ্ছে, তাতে ভারতের বিকল্প মঞ্চের লক্ষ্যটি কতটা পূরণ হবে, তা বলা কঠিন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+