কোন অভিসন্ধি, আফগানিস্তানের উন্নয়নের নামে তালিবানদের বিপুল অর্থ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি বেজিংয়ের
কোন অভিসন্ধি, আফগানিস্তানের উন্নয়নের নামে তালিবানদের বিপুল অর্থ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি বেজিংয়ের
তালিবান শাসনে আফগানিস্তারকে বিপুল অর্থ সাহায্যের প্রস্তাব বেজিংয়ের। প্রথম থেকেই আফগানিস্তানে তালিবানদের শাসনকে স্বীকৃতি জানিয়েছিল চিন। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে আফগানিস্তানকে অর্থ সাহায্যের কথা বলল বেজিং। অথচ আশরফ গনির শাসনকালে চিন কিন্তু কোনও রকম আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। তাহলে শাসক বদলেই কেন বদলে গেল প্রস্তাব। এর মধ্যে কোন অভিসন্ধি লুকিয়ে রয়েছে তা জল্পনা শুরু হয়েছে।

তালিবান শাসনে আফগানিস্তান
অবশেষে আফগানিস্তানে সরকার গড়ার কথা ঘোষণা করল তালিবানরা। েদশের ভার প্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মৌলা আকুন্দের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তালিবানদের নব নির্বাচিত সরকারে রাষ্ট্রপুঞ্জের তালিকাভুক্ত ১০ জঙ্গি রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতাও। তাতেই চাপে রয়েছে ভারত। কারন হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেকনজরে বরাবরই রয়েছে পাকিস্তান। সবসময় পাকিস্তানের পক্ষেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাক্কানিরা। এদিকে আবার পাক জঙ্গি সংগঠনও তালিবানদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। শোনা যাচ্ছিল পঞ্জশির দখল করতে নাকি পাকসেনা তালিবানদের সহযোগিতা করেছে।

তালিবানদের সমর্থন চিনের
তালিবানরা আফগানিস্তানের দখল নিতেই গোটা বিশ্ব যখন উদ্বেগে অস্থির হয়ে উঠেছিল ঠিক তখন চিন সবার আগে এগিয়ে এসে আফগানিস্তানে তালিবানদের শাসনকে স্বীকৃতি জানায়। তারপর একে একে রাশিয়া, কাতার, তুরস্ক আফগানিস্তানে তালিবান শাসনকে স্বীকৃতি জানিয়েছে। কিন্তু চিন একটু বেশি উৎসাহ দেখিয়ে আসছে বেজিং। তার গোপন কারন রয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। আফগানিস্তানে নাকি রয়েছে বহুমূল্য এক ধাতু। সেই ধাতুর লোভেই তালিবানদের স্বীকৃতি দিয়েছে বেজিং। এবং তালিবানদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে জিনপিং সরকার।

আফগানিস্তানকে অর্থ সাহায্য
তালিবানরা সরকার গঠনের পরের দিনই আফগানিস্তানকে বিপুল অর্থসাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চিন। সেদেশের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের উন্নয়নে বেজিং ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সাহায্য করবে। তারসঙ্গে খাবার, শীতের মোকাবিলায় সামগ্রি, ভ্যাকসিনও আফগানিস্তানকে সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও বেজিং আফগানিস্তানকে ৩ মিলিয়ন ভ্যাকসিন দান করার কথাও ঘোষণা করেছে। তবে কবে সেই ভ্যাকসিন পাঠানো হবে তা এখনও বেজিংয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে জানানো হয়নি।

অসন্তুষ্ট আমেরিকা
আমেরিকা কিন্তু চিনের এই পদক্ষেপে একেবারেই খুশি নয়। ট্রাম্পের সময় থেকেই বেজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কে তিক্ততা বেড়েছিল আমেরিকার। বাইডেন আসার পর কিছুটা ধামা চাপা পড়লেও ফের তালিবানদের সমর্থনে সম্পর্কে তিক্ততা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকা কিছুতেই আফগানিস্তানে তালিবানদের শাসন মেনে নিতে রাজি নয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গত ২০ বছর ধরে মার্কিন সেনার দৌলতেই আশরফ গনি সরকার টিকে ছিল। আমেরিকা বাহিনী সরিয়ে নিতেই ফের তালিবানরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবং আশরফ গনি সরকারের পতন হয়।












Click it and Unblock the Notifications