চিন, আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত, ট্রাম্প ও শি বৈঠকের আগে ১০০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার
ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাতে যেন এবার বরফ গলতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, চিনা পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আর আরোপ করা হবে না। দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমঝোতা তৈরি হয়েছে, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগেই এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে স্বস্তি এনেছে।
চিনের এক সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২ দিনের বৈঠকে চিনের উপ প্রধানমন্ত্রী হে লিফেং ও মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদলের মধ্যে এই ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আসিয়ান সম্মেলনের প্রান্তে।

লিফেং বৈঠকটিকে "খোলামেলা, গভীর ও গঠনমূলক" আখ্যা দিয়ে বলেন, "চিন ও আমেরিকার অর্থনৈতিক সম্পর্কের মূল চেতনা হলো পারস্পরিক লাভ ও জয়ের পরিস্থিতি। সহযোগিতায় উভয় দেশই লাভবান হয়, সংঘাতে দুপক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত।"
অন্যদিকে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি কার্যত এখন বাতিল। ২ দিনের বৈঠকে অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ফলে নতুন শুল্ক আরোপ বা চিনের বৈশ্বিক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা আপাতত নেই।"
এই প্রস্তাবিত শুল্ক ছিল বেইজিংয়ের বিরল মাটির উপাদানের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের জবাবস্বরূপ, যা ইলেকট্রনিকস ও প্রতিরক্ষা শিল্পের মতো বৈশ্বিক খাতে অপরিহার্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সমঝোতা দুই দেশের বাণিজ্য উত্তেজনা কমাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে, যা চলতি মাসের শুরুতেই তীব্র রূপ নিয়েছিল। ট্রাম্পের ঘোষণামতো ১ নভেম্বর থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, তা আপাতত স্থগিত।
এদিকে, রবিবার মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেখানে তিনি ৫ দিনের এশিয়া সফরের সূচনা করেন। সফরের শেষ দিন, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প আশাবাদী হয়ে বলেছেন "আমার মনে হচ্ছে, আমরা চিনের সঙ্গে একটা ভালো চুক্তির পথে এগোচ্ছি।"
চিন ও আমেরিকার এই সাম্প্রতিক সমঝোতা বৈঠক এমন এক সময়ে এল, যখন বিরল মাটির খনিজ ও চুম্বকের ওপর চিনের নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে সংকট তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ২ দেশই একে অপরের শিল্পখাতে নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, যদিও চলতি বছরের মে ও অগাস্টে জেনেভায় শান্তি আলোচনায় সাময়িক সমঝোতা হয়েছিল।
তবে বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তাপ এখন কিছুটা প্রশমিত হলেও, ট্রাম্প ও শি এর বৈঠকের আগে এই সমঝোতা ভবিষ্যতে নতুন এক অর্থনৈতিক ভারসাম্যের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications