ভারত নয়, আমেরিকাকে বার্তা দিতেই লাদাখে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে চিন! সীমান্ত সমস্যার নেপথ্যে কোন কারণ?
গত ১৫ জুন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় এক ভয়াবহ সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সৈনিক শহিদ হন। চিনের তরফেও মারা যায় কমপক্ষে ৩৫ জন সেনা। এরপরই শান্তিবার্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিরন্তর আলোচনা চললেও উত্তেজনা কমার নাম নেই। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতকে নয়, লাদাখে এই উত্তেজনা সৃষ্টি করার পিছনে আমেরিকাকে বার্তা দেওয়াই মূল লক্ষ্য বেজিংয়ের।

করোনা সংক্রমণের মাঝে সীমান্তে উত্তেজনা তৈরিতে ব্যস্ত চিন
প্রসঙ্গত, সারা বিশেব যখন করোনা সংক্রমণে জর্জরিত তখন সীমান্তে উত্তেজনা তৈরিতে ব্যস্ত চিন। তবে শুধু ভারতের লাদাখ নয়, এই সময়ে প্রায় নিয়মিত ভাবে তাইওয়ানের আকাশসীমায় নিজেদের যুদ্ধ বিমান পাঠিয়েছে চিন। এই আবহেই আমেরিকা প্শান্ত মহাসাগর ও তাইওয়ান প্রণালীতে নিজেদের রণতরী মোতায়েন করেছে।

তাইওয়ান-চিন দ্বন্দ্ব
প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধের শেষে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখন্ড বলে দাবি করে চিন। তারা বলে, প্রয়োজন হলে, তাইওয়ানকে জোর করে হলেও চিনের সঙ্গে একীভূত করা হবে। সেই দাবির বিরোধিতায় সরব সাই ইং-ওয়েনকে চিনের আক্রোশ থেকে রক্ষা করতেই আমেরিকার এই রণতরী পাঠানোর কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকার হুঙ্কার
একই ভাবে লাদাখে চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও রণং দেহি মেজাজে আমেরিকা। প্রসঙ্গত, বহুদিন ধরেই চিনের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সংঘাত চলছিল। এরপর করোনা পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও খানিকটা যুদ্ধের দিকে ঘণীভূত হতে থাকে। এই পরিস্থিতি নিয়ে এবার বড় বার্তা দিলেন মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও।

মাইক পম্পেওর বক্তব্য
এদিন, মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও জানান, চিন ক্রমেই দক্ষিণ এশিয়ায় একটি 'আতঙ্ক' হয়ে উঠছে। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়ার কাছে চিন 'থ্রেট' হয়ে যাচ্ছে বলে ব্যাখ্যা করেন মার্কিন সচিব। যার ফলে এই দেশগুলি বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

চিনের চ্যালেঞ্জের উপযুক্ত জবাব
এর থেকেই বিশেষজ্ঞদের মত যে আদতে চিন এই সব দেশের বিরুদ্ধে উত্তেজনা তৈরি করে ওয়াশিংটনে বার্তা পৌঁছাতে চাইছে। এর জবাবে অবশ্য আমেরিকার সাফ বার্তা, মার্কিন সেনা চিনের তরফে আসা চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে উপযুক্ত জায়গায় মোতায়েন থাকবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় চিন-আমেরিকা দ্বন্দ্ব
যা পরিস্থিতি তাতে যেকোনও পক্ষ থেকে 'ভুল'বশে কোনও গুলি চললে তা আশ্চর্যের হবে না। আসলে ভারত ছাড়া বাকি সব দক্ষিণ এশিয়ার দেশের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েছে চিন। এবং বাণিজ্য যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নাজেহাল করেছে এই সুপারপাওয়ার। এই আবহে আমেরিকার মিত্রদেশগুলির সঙ্গে এই উত্তেজনা সৃষ্টি আসলে আমেরিকাকে উত্তেজিত করা।












Click it and Unblock the Notifications