জানুয়ারিতেই তিব্বতে ট্যাঙ্ক মোতায়েন করে লাদাখ আক্রমণের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছিল চিন!
লাদাখ দখল করার ছক চিন গত বছরের শেষে বা এবছরের জানুয়ারিতেই কষেছিল। এমনটাই জানাচ্ছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। জানা গিয়েছে জানুয়ারি মাসেই চিন তিব্বতে টি ১৫ ট্যাঙ্ক মোতায়েন করে প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল লাদাখ আক্রমণের। এবং জুনে যে ঘটনাটি ঘটল তা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত হানা।

ভারত-চিন বিবাদের সূত্রপাত
ভারতের দিকে গত বছর তৈরি করা ২৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবরুক-শিয়ক-ডিবিও রোড তৈরি করা নিয়েই চিনের মূল আপত্তি৷ এই রাস্তাটি তৈরির ফলে সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর যাতায়াত এবং নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি সুবিধে হয়েছে৷ তবে পরপর সংঘর্ষ ও চিনের আপত্তি সত্ত্বেও ভারত এই রাস্তা তৈরির কাজ জারি রাখবে বলে জানা গিয়েছে।

চিন এখনও অবস্থান করছে প্যাংগংয়ে
হটস্প্রিং থেকে সরে গেলেও নাছোড়বান্দা চিন এখনও অবস্থান করছে প্যাংগংয়ে। লাদাখে ভারত-চিন উত্তেজনা কমার কোনও নাম নেই। যেই প্যাংগং সো নিয়ে এত বিতর্ক, সেখানে চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৫ এ ফিরে এসেছিল, তবে তারা এখনও ফিঙ্গার ৪-এর রিজলাইন দখল করে রয়েছে। চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮-এর মধ্যকার ৮-কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তাদের তৈরি কাঠামোগুলিকেই এলএসি বলে দাবি করে যাচ্ছে এখনও।

গ্রিন টপের উপর থেকে চিনা সেনা দখলদারি সরাতে চাইছে না
লাদাখের প্যাংগং হ্রদের কাছে গ্রিন টপের উপর থেকে চিনা সেনা দখলদারি সরাতে না চাওয়াতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হচ্ছে চিনের। জানা গিয়েছে রবিবার মোলডোতে অনুষ্ঠিত ভারত-চিন বৈঠকেও দিল্লির পক্ষ থেকে পিএলএ-কে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়। তবে চিনা সেনা এই বিষয়ে একগুঁয়ে মনোভাব পোষণ করছে। আর এতেই আরও পারদ ছড়ছে সীমান্তে।

লাদাখের খুব কাছেই চিন ৫০০০০ সেনা মোতায়েন করেছে
এরই মধ্যে জানা গিয়েছে যে লাদাখের খুব কাছেই চিন আরও ৫০০০০ সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। তাছাড়া টি ১৫ ট্যাঙ্কও মোতায়েন করেছে চিন। এর পাল্টা জবাব হিসাবে ভারতও ১২টি ট্যাঙ্ক সেখানকার সীমান্ত রক্ষার লক্ষ্যে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ৪০০০ জন সৈনিকের একটি আস্ত ব্রিগেডও ডিবিওতে মোতায়েন করেছে ভারত। তাছাড়া ভারতীয় নৌসেনা উত্তেরের বেসগুলিতে মিগ ২৯ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। উত্তর লাদাখে ভারত পি৮আই এয়ারক্রাফ্ট মোতায়েন করেছে। এই যুদ্ধবিমানগুলি সাবমেরিন প্রতিহত করতে সমর্থ।

লাদাখের উত্তেজনা কমছে না
যেখানে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছিল, ঠিক তখনই সেনার এই সিদ্ধান্ত খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। চিনের তিন দফায় সেনা সরানোর প্রক্রিয়ার উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত। কোনও ভাবে যদি চিন সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে তাহলে ভারতও থমকে যাবে। সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি যাতে কোনও ভাবে লঙ্ঘন না করা হয় সেদিকে নজর রাখছে ভারতীয় সেনা। এর জন্য দিনের পাশাপাশি রাতেও বায়ুসেনার বিমান এবং চিনুক ও অ্যাপাচে হেলিকপ্টর টহল দিচ্ছে লাদাখের সীমান্ত জুড়ে।

প্যাংগং সো নিয়ে এত বিতর্ক
যেই প্যাংগং সো নিয়ে এত বিতর্ক, সেখানে চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৫ এ ফিরে এসেছিল, তবে তারা এখনও ফিঙ্গার ৪-এর রিজলাইন দখল করে রয়েছে। চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৪ থেকে আঙুলের ৮-এর মধ্যে ৮-কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তাদের তৈরি কাঠামোগুলিকেই এলএসি বলে দাবি করে যাচ্ছে এখনও।

টহল দেওয়া নিয়ে দুই দেশের বিবাদ
টহলদারী সীমান্ত নিয়ে বরাবরই ভারত ও চিনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ছিল। ভারত বিশ্বাস করে 'ফিঙ্গার ১' থেকে 'ফিঙ্গার ৮' পর্যন্ত টহল দেওয়ার অধিকার রয়েছে তাদের এবং চিন মনে করে যে 'ফিঙ্গার ৮' থেকে 'ফিঙ্গার ৪' পর্যন্ত টহল দেওয়ার অধিকার রয়েছে তাদেরই। ১৫ জুন, এই 'ফিঙ্গার ৪' এলাকাতেই উভয় পক্ষের সেনার মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ বাঁধে। 'ফিঙ্গার ৪'-এ এই জন্যেই উল্লেখযোগ্য হারে সেনার সংখ্যা বাড়িয়েছিল চিন, যাতে ভারতীয় সেনারা আর 'ফিঙ্গার ৮' এর দিক দিয়ে টহল দেওয়ার সুযোগ না পায়।












Click it and Unblock the Notifications