রণংদেহি বেজিং, পালোসিকে অভ্যর্থনার চরম শাস্তি তাইওয়ানে মিসাইল হানা চিনের
রণংদেহি বেজিং, পালোসিকে অভ্যর্থনার চরম শাস্তি তাইওয়ানে মিসাইল হানা চিনের
মার্কিন ঘনিষ্ঠতার চরম শাস্তি দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বেজিং। তাইওয়ানকে উচিত শিক্ষা দিতে শেষ পর্যন্ত মিসাইল হানা চিনা নৌসেনার। জানা গিয়েছে তাইওয়ানের দক্ষিণপূর্ব এবং উত্তর পূর্ব জলসীমান্তে চিনা নৌসেনা একাধিক মিসাইল ছুড়েছে। চিনের এই পদক্ষেপ নতুন অশান্তি বয়ে নিয়ে আসছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

তাইওয়ানে মিসাইল হানা বেজিংয়ের
একের পর এক হুঁশিয়ারিতে মন ভরেনি বেজিংয়ের। ন্যান্সি পালোসির সফরের পর থেকে তুমুল হুঙ্কার দিয়ে চলেছে তারা। শেষ পর্যন্ত তাইওয়ানের জলসীমান্তে মিসাইল হানা শুরু করেছে চিনা ফৌজ। গত তিনদিন ধরেই তাইওয়ানের জলসীমান্তে হুঙ্কার দিয়ে চলেছে চিনা রণতরী। আকাশ এফোঁড় ওফোঁড় করে উড়ে বেড়াচ্ছে চিনা যুদ্ধ বিমান। তার উপরে মৌখিক হুঁশিয়ারিতো রয়েইছে। গতকালই চিনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন পালোসির সফরের চরম মূল্য দিতে হবে তাইওয়ানকে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাইওয়ানের দক্ষিণপূর্ব এবং উত্তর পূর্ব জল সীমান্তে পর পর মিসাইল হানা শুরু করল বেজিং। সমুদ্রে দাপিয়ে েবড়াচ্ছে চিনের রণতরী।

বন্ধ বাণিজ্য
তাইওয়ানের আমদানি-রফতানি গতকালই বন্ধ করে দিয়েছে বেজিং। আমেরিকার সাহায্য কীভাবে আসবে তার হুঙ্কার দিয়েই গতকাল বেজিং ঘোষণা করেছে তাইওয়ানের সঙ্গে কোনও রকম বাণিজ্য তারা করবে না। তাইয়ান থেকে ফল এবং সামুদ্রিক মাছ আমদানি করে থাকে চিন। গতকাল থেকে চিনের ঘোষণার পরেই তাইওয়ানের বন্দরগুলিতে থমকে রয়েছে সব জাহাজ। সবরকম রফতানি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাইওয়ানকে এক প্রকার ভাতে মেরে শিক্ষা দিতে মরিয়া বেজিং। কারণ চিনের সঙ্গে রফতানি বাণিজ্যের কারণে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা থাকে তাইওয়ানের । সেটা বন্ধ হয়ে গেলে তাইওয়ানের অর্থনীতি চরম ধাক্কা খাবে।

চরম শাস্তির হুঁশিয়ারি
মার্কিন স্পিকার ন্যান্সি পালোসির তাইওয়ান সফরকে কিছুতেই সহজভাবে নিতে নারাজ চিন। তাইওয়ানকে নিজেদের দেশের অংশ বলে মনে করে বেজিং। আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা চরমে উঠেছে চিনের। আমেরিকা কয়েকদিন আগেই চিনের সঙ্গে সবরকম বাণিজ্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। তার উপরে রয়েছে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের উপসর্গ। সবমিলিয়ে একেবারে বুনো ওল আর বাঘা তেতুলের সম্পর্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেরিকার সঙ্গে চিনের। তার মধ্যে তাইওয়ানে ন্যান্সি পালোসির পা রাখা ছাইচাপা আগুন উস্কে দিয়েছে। গতকাল জিনপিংয়ের হুঁশিয়ারির সুর ধরেই চিনের বিদেশমন্ত্রী বলেছিলেন তাইওয়ানকে এর চরম মূল্য দিতে হবে। যাঁরা বেজিংয়ের বিরোধিতা করবে তাঁরাও রেহাই পাবে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য চিনের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান।

পাশে থাকার বার্তা পালোসির
এদিকে ন্যান্সি পালোসি গতকাল তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। পালোসির এই সফর আর বার্তা যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তাতে কোনও সন্দেহ নেই। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির উপরে চিনের জোরজুলুম যে আর চলবে না প্রচ্ছন্নে সেই বার্তাই দিয়ে গিয়েছেন পালোসি। আর চিনের আগ্রাসন থেকে বাঁচতে ছোট্ট দেশ তাইওয়ানও আমেরিকার হাত ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications