প্যাংগং সো হ্রদের কাছে ব্রিজ তৈরি প্রায় শেষ, নতুন করে সিঁদুরে মেঘ জমছে লাদাখে
প্যাংগং সো হ্রদের কাছে ব্রিজ তৈরি প্রায় শেষ, নতুন করে সিঁদুরে মেঘ জমছে লাদাখে
১৪ বার দুই দেশের সেনা পর্যায়ের বৈঠক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কোনওটাই তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। এরইমধ্যে আবার চাঞ্চল্য বাড়িয়েছে উপগ্রহ চিত্র। তাতে দেখা গিয়েছে প্যাংগং সো হ্রদের কাছে ব্রিজ নির্মাণ প্রায় শেষ করে ফেলেছে বেজিং। প্যাংগং সো হ্রদের কাছেই রয়েছে গালওয়ান উপত্যকা। এই গালওয়ান উপত্যকা নিয়েই দুই দেশের মধ্যে যত বিবাদ চিন দাবি করেছে গালওয়ান উপত্যকা তাঁদের অংশের। ভারত তা মানতে নারাজ। এই নিয়ে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্য ধুন্ধুমার লড়াই হয়ে গিয়েছে।

কয়েকদিন আগেই চুশূলে বসেছিল দুই দেশের সেনা পর্যায়ের ১৪ তম বৈঠক। ভারতের পক্ষ থেকে তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাঙালি লেফটেন্যান্ড জেনারেল অনিন্দ্য সেনগুপ্ত। খুব সম্প্রতি তিনি লাদাখে এসেছেন দায়িত্ব নিয়ে। তিনিই বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন। প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে চলেছিল বৈঠক। শুরু হয়েছিল সকাল সাড়ে ৯টায়। শেষ হয়েছিল রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ। কাজেই বৈঠক দীর্ঘ হলেও সমস্যার সমাধান কিছু মেলেনি। ভারতের পক্ষ থেকে বারবার হটস্প্রিং এলাকা থেকে সেনা সরানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেটা নিয়ে চিনের পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক বক্তব্য মেেলনি।
এদিকে আবার ১ জানুয়ারি গালওয়ান উপত্যকায় চিনের পতাকা উড়ছে এবং তার িনচে দাঁড়িয়ে চিনা ফৌজ সেদেশের জাতীয় সঙ্গীত গাইছে। চিনের সংবাদ মাধ্যমগুলিতে ১জানুয়ারি প্রচার করা হয়েছিল সেই ভিডিও। তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটা ভাইরাল হয়ে যায়। যার আঁচ এসে পড়ে ভারতেও। যদিও এই নিয়ে কেন্দ্রের তরফে কোনওবিবৃতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিরোধীরা এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য দাবি করেছিলেন। তাঁরা দাবি করেছিলেন লাদাখের পরিস্থিতি এখন কেমন তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিবৃতি দেওয়া উচিত।
তারইমধ্যে আবূার অরুণাচল প্রদেশ নিয়েও তৎপর হয়ে উঠেছে চিন। সম্প্রতি জানা গিয়েছে চিন তার নতুন সীমান্ত আইন প্রণয়ন করেছে। তাতে অরুণাচল প্রদেশের ১৪টি গ্রামকে নতুন নামকরণ করে নিজেদের ম্যাপে চিহ্নিত করেছে। তার পরেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়। নাম বদল করলেই সত্যিটা বদলে যাবে না। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সেখানে এক ইঞ্জি জমিতে চিন পা রাখতে পারবে না।
তার কয়েকদিন আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা পেন্টাগনের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে চিন অরুণাচল প্রদেশে ভারতের সীমান্তে একাধিক গ্রাম তৈরি করে ফেলেছে। স্যাটালাইট ইমেজে নাকি ধরা পড়েছে সেই ছবি। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে পরে দাবি করা হয় এরকম কোনও গ্রাম তৈরি করা হয়নি। ভারতের এক ইঞ্চি জমিতেও তারা দখল নিতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে।
তারই মধ্যে আবার গালওয়ান উপত্যকায় ব্রিজ নির্মাণের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এতে কিছুটা হলেও যে চাপ বাড়বে ভারতের তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ ব্রিজ নির্মাণ হয়ে সীমান্তে চিনা ফৌজের পথ সুগম হবে। কয়েকদিন আগে সীমান্তে কর্তব্যকত জওয়ানদের জন্য একাধিক সরঞ্জামের বন্দোবস্ত করেছিল েবজিংসরকার। প্রবল শীতের মধ্যে যাতে জওয়ানদের কোনও কষ্ট না হয় সেকারণে তাঁদের জন্য বিশেষ অক্সিজেন থেরাপি এবং পোশাকের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications