রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ জনসনের, কারণ নিয়ে জল্পনা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অবিরাম যুদ্ধের মাঝেই কিয়েভে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অবিরাম যুদ্ধের মাঝেই কিয়েভে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। হঠাৎই শনিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বরিস জনসনের এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে জল্পনা তৈরি হয়। ইউকেতে ইউক্রেনের দূতাবাস উভয় নেতার আলোচনার একটি ছবি টুইট করেছে।

কিন্তু কেন হঠাৎ বরিস জনসন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ছুটলেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। জনসন অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সংহতি প্রদর্শনের জন্য রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করতে ইউক্রেনে গিয়েছিলেন। এদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব প্রীতি প্যাটেল শুক্রবার রাশিয়ান সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের পুনর্বাসনের ধীর প্রক্রিয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মন্ত্রী সর্বশেষ যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, সরকার যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা ইউক্রেনীয়দের ৪১ হাজার ভিসা দিয়েছে। তবে তাদের মধ্যে মাত্র ১২ হাজার ৫০০ জন যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে। শুক্রবার একটি সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, তার দেশের নিরাপত্তা পরিষেবা রাশিয়ান সেনাদের যোগাযোগে বাধা দিয়েছে, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল।
ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচুক জানিয়েছেন, শনিবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বেসামরিক লোকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য দশটি মানবিক করিডোর খোলা হবে। করিডোরগুলি বাসিন্দাদের ডোনেটস্ক, লুহানস্ক এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেবে।
এদিকে ইউক্রেন সরকারের মুখপাত্রও দাবি করেছেন, ইউকে প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেনের জনগণের কাছে সংহতি প্রদর্শনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করতে ইউক্রেন ভ্রমণ করেছেন। ব্রিটিশ প্রধনমন্ত্রী বরিস জনসন কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার কথা জানান এবং আরও আর্থিক ও সামরিক সহায়তা নিয়েও উভয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কিয়েভে এক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বলেছেন যে ব্রিটেন দেশটিকে ১২০টি সাঁজোয়া যান এবং নতুন অ্যান্টি-শিপ মিসাইল সিস্টেম দেবে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে শনিবার কিয়েভে গিয়ে দেখা করার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যে জেলেনস্কির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেবেন, তা স্পষ্ট ছিল। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্রামতোর্স্কের রেলস্টেশন হামলার জন্য বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া দাবি করেছেন। এটিকে রাশিয়ান বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের সর্বশেষ উদাহরণ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। এর ফলে তার দেশকে রক্ষার জন্য আরও বেশি করে পশ্চিমা দেশমুখী করে তুলবে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কূটনীতির মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা লড়াই করতে প্রস্তুত। আবার রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার জন্য এখনও প্রস্তুত। কিন্তু রাশিয়া তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ইউক্রেন ক্রমশ ধ্বংসের পথে চলেছে, অথচ বিশ্ব এখনও হাত গুটিয়ে বসে আসে বলে আক্ষেপও রয়েছে জেলেনস্কির।












Click it and Unblock the Notifications