মার্কিন মুলুক থেকে নির্বাসিত হয়ে দেশে ফিরেছেন ব্রাজিলিয়ানরা, কিন্তু তাঁদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাতে শিহরিত ব্রাজিল
গত সপ্তাহেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন মুলুক ছাড়া হয়েছেন ৫৩৪ জন অবৈধ অভিবাসী। তাঁদেরকে চিহ্নিত করে মার্কিন প্রশাসন। আর চিহ্নিত হতেই তড়িঘড়ি তাঁদেরকে গ্রেফতার করে তাদের নিজেদের দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু তাঁদেরকে কীভাবে পাঠানো হয়েছে তাঁদের নিজেদের দেশে? সমস্ত ব্যবস্থাপনা ছিল নাকি অত্যাচারিত হয়েই নিজেদের দেশে ফিরেছেন সেই সকল অবৈধ অভিবাসীরা? এবার এই সকল প্রশ্নের উত্তর এল সামনে।
ব্রাজিল সরকার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত কয়েক ডজন অভিবাসীর প্রতি হাতকড়া পরা অবস্থায় বিমানে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ব্রাজিলের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এমন ঘটনা মানবাধিকারের প্রতি "প্রকাশ্য অবজ্ঞা"। আর এর জন্যে ব্রাজিল সরকার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন বিরোধী নীতির প্রেক্ষাপটে এই বিতর্কটি প্রকাশ্যে এসেছে। ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর মানাউসে অবতরণ করা এক ফ্লাইটে ৮৮ জন ব্রাজিলিয়ান নাগরিককে হাতকড়া পরা অবস্থায় ফেরত পাঠানো হয় বলে জানা গিয়েছে।
ব্রাজিলের বিচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মার্কিন কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই ধরনের আচরণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এ বিষয়ে ব্রাজিলের বিচারমন্ত্রী রিকার্ডো লেভানডভস্কি বলেছেন, এটি ব্রাজিলীয় নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের প্রতি অবজ্ঞার প্রকাশ।
- কিন্তু এই বিতাড়িত অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
ফ্লাইটে থাকা একজন যাত্রী, ৩১ বছর বয়সী কম্পিউটার টেকনিশিয়ান এডগার দা সিলভা মৌরা এই প্রসঙ্গে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "বিমানে আমাদের জল দেওয়া হয়নি, হাতকড়া এবং পায়ে বাঁধা অবস্থায় আমাদের রাখা হয়েছিল। আমরা বাথরুমেও যেতে পারিনি"।
একই ফ্লাইটে থাকা আরও এক যাত্রীর কথায়, এই ঘটনাকে "একটি দুঃস্বপ্ন" বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, "এসি ছাড়া চার ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে অনেকের শ্বাসকষ্ট হয়েছিল"।
স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যাচ্ছে, যে মার্কিন মুলুক থেকে তাঁদের অত্যাচার করেই বিতাড়িত করা হয়েছে। আর এই বিষয়টিকে ভালো ভাবে নিচ্ছে না ব্রাজিল প্রশাসন।
প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। দক্ষিণ মার্কিন সীমান্তে "জাতীয় জরুরি অবস্থা" ঘোষণা এবং গণ নির্বাসনের পরিকল্পনা এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সেখানে অত্যাচারের কথা কোথাও বলা নেই। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অন্য চিত্রই। আর যা একেবারেই মেনে নিচ্ছে না ব্রাজিল সরকার।












Click it and Unblock the Notifications