বাংলাদেশে পুড়ল বিছানার চাদর, মমতাকে নিশানা! আমলকি চোষার কথা বলে আলু-পেঁয়াজ নিয়ে আজব দাবি রুহুলের
Bangladesh Situation: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর আক্রমণের নিশানা এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ললিপপের পাল্টা দিলেন আমলকি চোষার কথা।
বিএনপির এই নেতা আগেই নিজের গায়ের শাল পুড়িয়ে প্রচারে আসেন। তারপর গত বৃহস্পতিবার তিনি স্ত্রীর শাড়িও পুড়িয়েছিলেন।

আজ রাজশাহীতে ভারতে তৈরি বিছানার চাদর পোড়ালেন তিনি। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ, ভুবন মোহন পার্কে দেশীয় পণ্য কিনে হও ধন্য ব্যানার লাগিয়ে ভারতীয় পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্য ব্যবহারের বার্তা দিয়ে কর্মসূচি পালন করেন তিনি।
সেখানেই রিজভী জয়পুরে তৈরি বেডশিটে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন নেতা-কর্মীরা। রিজভী সেই সময় বলেন, ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে বেডশিট পুড়িয়ে দিলাম। অনুষ্ঠানের শেষে ১০০ ও ২০০ টাকায় লুঙ্গি ও শাড়ি বিক্রি করা হয়।
বাংলাদেশীদের কলকাতা দখলের বাসনা নিয়ে নানা মিম ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। রিজভীদের যে তাতে চরম খোঁচা লেগেছে তা পরিষ্কার। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল বলেছিলেন, ওরা কলকাতা দখল করতে এলে আমরা কি ললিপপ খাব?
রিজভী বলেন, ভারতের এক নেতা চট্টগ্রাম দখলের কথা বলেছেন। একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের এলাকা দখলের এই দাবি শুনে মনে হয় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা তাঁদের বিবেচ্য নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ ভাবতাম। কিন্তু তাঁর মধ্যেও কট্টর হিন্দুত্ব রয়েছে। ওঁরা চট্টগ্রামের দিকে তাকালে আমরা কি আমলকি চুষব?
রিজভীর কথায়, ভারতের মানুষের সঙ্গে তো আমাদের কিছুই হয়নি। এক ফ্যাসিস্টকে (শেখ হাসিনা) ছাত্র-জনতা তাড়িয়েছে। তিনি ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তাতেই এত মনোকষ্ট। আজগুবি অপপ্রচার করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা হচ্ছে। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- সকলেই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। সেটাকে নস্যাতের চেষ্টা হচ্ছে।
বিএনপি নেতা পাল্টা দাবি করেন, অসম-সহ ভারতেই সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে সাম্প্রদায়িক শাসক দল। রিজভী বলেন, আমাদের দেশের লোকজন সেখানে চিকিৎসা করাতে যান। বেড়াতেও যান। কিন্তু সে সব নিয়েও যে সব কথা বলা হচ্ছে তাতে তাদের মন কত ছোট সেটাই স্পষ্ট।
আলু-পেঁয়াজ নিয়েও রিজভী আজব দাবি করেছেন। তিনি ভারতের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বড়াই করেন, পেঁয়াজ, আলু, রসুন, চাল রফতানি বন্ধ করে দেবেন! জেনে রাখুন, গত বছর থেকে আলু আমদানি করেছেন শেখ হাসিনা। ২০২৩ সালের আগে আলু আমদানি করা হতো না।
রিজভীর কথায়, আমরা পেঁয়াজ রফতানি করেছি। ২৭ থেকে ২৮ লাখ টন পেঁয়াজ দরকার হয় বাংলাদেশে। আমাদের দেশে উৎপাদন হয় ৩৭ লাখ টন। কিন্তু নানা কারসাজি করে দর বাড়ানো হয়। ভারত থেকে কোটি কোটি ডলার দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। আমাদের সরবরাহ ঠিক করা গেল, পেঁয়াজ, চাল ভারত থেকে কেউ নেবে না!












Click it and Unblock the Notifications