অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় তেহরান কাঁপল, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনাচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ। এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে রবিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই অভিযানের পর গোটা অঞ্চলজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই লেবাননের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত ঘরবাড়ি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি যে দ্রুত অবনতি ঘটছে, তা স্পষ্ট তাদের এই সতর্কবার্তায়।

হামলার জেরে ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ঘাঁটি, নৌঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। রাজধানী তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়, একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহর।
ইরানের সরকারি সূত্রের দাবি, হামলা শুরুর পর থেকে অন্তত ২০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লা আলী খামেনি ও আরও একাধিক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক আধিকারিক।
এই মৃত্যুর ঘটনাকে 'শহিদত্ব' বলে উল্লেখ করে ইরানের সামরিক কমান্ডাররা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরান পাল্টা আঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলিকেও নিশানা করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র দুবাই এর বিমানবন্দর ও আইকনিক স্থাপনা বুর্জ খলিফা কে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে খবর।
একই সঙ্গে বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতেও আঘাত হানার দাবি করেছে তেহরান। ফলে সংঘাত এখন কেবল ইরান ও ইজরায়েল বা ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।
এই সংঘাতের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, 'অপারেশন এপিক ফিউরি' তে একযোগে হামলা চালিয়ে ৪৮ জন শীর্ষ ইরানি নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনীর ন'টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস ও নৌ সদর দপ্তর কার্যত গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, এই অভিযানে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন ও পাঁচজন গুরুতর আহত। আরও কয়েকজন সামান্য জখম হয়েছেন, যাঁদের চিকিৎসা শেষে পুনরায় দায়িত্বে ফেরানো হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই সংঘাত দ্রুত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। আঞ্চলিক শক্তিগুলির অবস্থান ও পাল্টা পাল্টি সামরিক পদক্ষেপ গোটা বিশ্বকেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে মধ্যপ্রাচ্য আরও এক দীর্ঘ ও বিধ্বংসী যুদ্ধের সাক্ষী হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications