তাঁর ক্ষমতা হারানোর পিছনে বড় ভূমিকা, দাবি হাসিনার! সেই সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অবস্থান কোথায়, কেনই বা গুরুত্ব
সোমবার সরকারের পতনের পরে শনিবার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে প্রথমবারের জন্য প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি দেশে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির জন্য আমেরিকাকে দায়ী করেছেন।
সহযোগীদের মাধ্যমে গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকার কাছে হস্তান্তর না করায় তাঁকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত হতে হয়েছে। শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করেছেন, যাতে তাঁকে লাশের স্তুপ দেখতে না হয়।

- তফাত গড়েছিল সেন্ট মার্টিন
শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারতেন, যদি তিনি আমেরিকার কাছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সার্বভৌমত্ব সমর্পণ করতেন। সেখানেই প্রশ্ন উঠছে, কেন সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে বাজি ধরেছিলেন শেখ হাসিনা, আর হাতে গেলে আমেরিকাই বা কী সুবিধা পেত ওই দ্বীপ থেকে?
- কোথায় অবস্থান?
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজার-টেকনাফের প্রায় নয় কিমি দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশে প্রায় তিন বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে রয়েছে সেন্ট মার্টিন। একটা সময় এই দ্বীপ টেকনাফের অংশ ছিল। মধ্যবর্তী সময়ে টেকনাফে কিছু অংশ সমুদ্রের জলে ঢুবে যায় এবং দক্ষিণের অংশে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দ্বীপে পরিণত হয়।
বর্তমানে এই দ্বীপে বাসিন্দার সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের কিছু বেশি। তাঁদের মূল জীবিকা মাছ ধরা।
- রাজনৈতিক ইতিহাস
ব্রিটিশ শাসনের সময়ে চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নাম অনুসারে এই দ্বীপের নাম হয় সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। ১৯০০ সাল নাগাদ ব্রিটিশরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে ব্রিটিস ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। স্থানীয় কেউ কেউ এটিকে নারকেল দ্বীপও বলেন। এটা বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। বর্তমানে এটি জীব মৈচিত্র, পরিবেশ, মৎস্য, পর্যটন-সহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
- কেন দ্বীপের দখল চেয়েছিল আমেরিকা?
বর্তমানে প্রায় নয় কিমি দীর্ঘ এবং ১.২ কিমি চাওড়া দ্বীপের দখল চেয়েছিল আমেরিকা। তারা সেখানে একটি বিমান ঘাঁটি তৈরি করতে চেয়েছিল। তা করতে পারলে আমেরিকা বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। এই দ্বীপ থেকে শুধু ভারত নয় চিনের ওপরেও নজরদারি করতে পারবে আমেরিকা।
কৌশলগতভাবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার সমুদ্র পর্যবেক্ষণ করা যায়। আকষ্মিক যুদ্ধ শুরু হলে এই দ্বীপের মাধ্যমে এলাকায় যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে আমেরিকা। যে কারণে শুধু আমেরিকা নয়, চিন-সহ অন্য শক্তিধর দেশগুলির লক্ষ্য রয়েছে এই দ্বীপের দিকে।
গত বছরেও হাসিনার অভিযোগ
গত বছরের জুনে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপি নির্বাচনে জয়ের বিনিময়ে আমেরিকার হাতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ তুলে দিতে চায়। তিনি আরও বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আমেরিকার কাছে দ্বীপটি বিক্রি করে দেবে। দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা নেই বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। যদিও আমেরিকা হাসিনার অভিযোগ খণ্ডন করে বলেছিল এব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications