Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

দক্ষিণ আফ্রিকায় জি 20 সম্মেলনে বড় বার্তা, মার্কিন চাপে নতি স্বীকার নয়, ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দিল বিশ্বজোট

জোহেনসবার্গের মঞ্চে এবার ইতিহাস গড়ল জি 20 সম্মেলন। সম্মেলনের একেবারে শুরুর দিনেই সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হল যৌথ ঘোষণাপত্র এমন নজির অতীতে নেই। আরও বড় কথা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি ও বয়কট সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্বে দাঁড়িয়ে থাকা জি 20 দেশগুলি নিজেদের অবস্থান থেকে একচুল সরে আসেনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ঘোষণাপত্রের কোনও শব্দ, কোনও বাক্য "পুনরায় আলোচনার" জন্য খুলে দেওয়া হবে না। তাঁর সুরেই বোঝা গেল, ওয়াশিংটন ও প্রিটোরিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েন যে আরও প্রকট হচ্ছে, তা আর ঢাকাও যাবে না।

20

জলবায়ু, উন্নয়ন বিচার, সন্ত্রাস বিরোধী অবস্থান ভারতের সুরেই প্রতিধ্বনি ২০২৫ সালের জি 20 লিডার্স ডিক্লারেশন জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উন্নয়ন বিচার ও ঋণ সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে "নিঃসন্দেহে, নিঃশর্তে" কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে জানানো হয়েছে 'ভাল সন্ত্রাসবাদী' বা 'খারাপ সন্ত্রাসবাদী' বলে কিছু নেই। ভারতের দীর্ঘদিনের দাবি এখানেই নতুন শক্তি পেল।

বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী করার ডাকও উঠে এসেছে। ডব্লিউটিও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সম্মেলনের মূল মন্ত্র "সলিডারিটি,ইকিওয়ালিটি, সাসটেনাবিলিটি"সমগ্র ঘোষণায় ছড়িয়ে রয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দু স্পষ্টভাবে গ্লোবাল সাউথ।

রয়টার্স জানিয়েছে, ঘোষণাপত্রের ভাষা নিয়ে মার্কিন অসন্তোষ ছিল প্রবল, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত অংশ নিয়ে। কিন্তু রামাফোসা সাফ জানিয়ে দেন
"এটি পুনর্আলোচনা করা যাবে না।"

এপি কে দেওয়া বিবৃতিতে তাঁর মুখপাত্র ভিনসেন্ট ম্যাগউইন্যা জানান সাধারণত ঘোষণাপত্র সম্মেলনের শেষে গৃহীত হয়। কিন্তু এ বার এতটাই সর্বসম্মতি ছিল যে শুরুর দিনেই তা গ্রহণ করা হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুপস্থিত থাকায় ঘোষণাপত্র গ্রহণ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু সদস্য দেশগুলি তা মানেনি।

ভাঙন, বৈষম্য, সংঘর্ষে অস্থির বিশ্ব সম্মিলিত পথ খুঁজছে জি 20
বিশ্ব রাজনীতির প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও বৈষম্য বাড়তে থাকায় অসন্তোষ স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে ঘোষণায়। জোর দেওয়া হয়েছে জাতিসংঘ সনদের নীতি মানার ওপর সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ নয়, জোর প্রদর্শন নয়, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সব জাতি ধর্ম ভাষার সমান মর্যাদা রক্ষা।

সুদান, কঙ্গো, প্যালেস্তাইন ভূখণ্ড ও ইউক্রেন সহ বিভিন্ন সংঘর্ষস্থলে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এই সম্মেলনে তিন দিনের সফরে অংশ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথম বৈঠকে তাঁর বক্তব্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধিই ভবিষ্যতের পথ।

তিনি এক্স হ্যাণ্ডেলে লিখেছেন "উন্নয়নের মাপকাঠিগুলি পুনর্বিচার করার এটি উপযুক্ত সময়। ভারতীয় সভ্যতার মূল্যবোধ বিশেষত 'সমগ্র মানবতাবাদ' আগামী পথ দেখাতে পারে।"

মোদী ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির সঙ্গেও বৈঠক করেন।

সম্মেলনের মূল আলোচ্যসূচি ছিল জলবায়ু পদক্ষেপ ও শক্তি রূপান্তর যা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিপরীত। ঘোষণায় "ক্লাইমেট চেঞ্জ" শব্দের অন্তর্ভুক্তিকে অনেকেই ট্রাম্পের প্রতি সূক্ষ্ম কিন্তু স্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করছেন।
বৈজ্ঞানিক মতের বিপরীতে গিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন অস্বীকারের প্রবণতার বিরুদ্ধে বিশ্বের বড় শক্তিগুলি সম্মিলিত অবস্থান নিয়েছে এই ঘোষণায় সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+