বেলজিয়াম আদালতের রায়, মেহুল চোকসি ভারতে প্রত্যর্পণযোগ্য, ন্যায্য বিচার নিশ্চিত দাবি আদালতের
ভারতীয় ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির বিপক্ষে আরও এক বড় ধাক্কা। বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প আদালত রায়ে জানিয়েছে, চোকসির ভারতে প্রত্যর্পণে কোনও আইনি বাধা নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ ভারতে চোকসিকে ন্যায্য বিচার ও নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, চোকসি বেলজিয়ামের নাগরিক নন, আইন অনুযায়ী তিনি একজন বিদেশি নাগরিক। আদালত আরও বলেছে, এটি কোনও রাজনৈতিক, সামরিক বা কর সংক্রান্ত মামলা নয়, এছাড়াও ভারত সরকার তার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, জাতি, ধর্ম বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে।

চোকসির দাবি ছিল, ২০২১ সালে তাকে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা থেকে ভারতীয় গোয়েন্দাদের নির্দেশে অপহরণ করা হয়েছিল। আদালত সেই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে রায়ে বলা হয়েছে, অপহরণের প্রমাণ নেই।
চোকসিকে বেলজিয়ামে গ্রেপ্তার করা হয় ১১ এপ্রিল, ভারতের সিবিআই এর প্রত্যর্পণ অনুরোধের ভিত্তিতে। ১৩,০০০ কোটি টাকার পিএনবি জালিয়াতি মামলায় চোকসির একার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল।
তিনি প্রায় ৬,৪০০ কোটি টাকা তছরুপ করেছেন। আদালত জানায়, ভারতের অনুরোধে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের এই গ্রেপ্তার আইনসম্মত।
রায়ের ফলে ভারতের প্রত্যর্পণ মামলায় প্রথম বড় সাফল্য মিলেছে। চোকসির আইনজীবীরা চাইলে বেলজিয়ামের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন। একজন ভারতীয় আধিকারিক বলেন, "এই রায় ভারতের পক্ষে প্রথম বিজয়। এখন তার প্রত্যর্পণের পথে প্রথম আইনি ধাপ পরিষ্কার।"
৬৬ বছর বয়সি চোকসি এখনও রয়েছেন অ্যান্টওয়ার্প কারাগারে। একাধিকবার জামিনের আবেদন করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বেলজিয়াম আইন বিভাগ ভারতের সিবিআই ও পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সহায়তায় তাঁর জামিনের বিরোধিতা করেছে। আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছেন, চোকসি একজন 'ফ্লাইট রিস্ক', অর্থাৎ তিনি পালানোর সম্ভাবনাময় ব্যক্তি, তাই মুক্তি দেওয়া যাবে না।
এদিকে ভারত বেলজিয়াম সরকারকে আশ্বাস দিয়েছে, চোকসিকে ভারতে আনা হলে তাঁর নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। তাঁকে রাখা হবে মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলের ১২ নম্বর ব্যারাকে, যেখানে ভিড় বা একাকী কারাবাসের আশঙ্কা নেই। সেই ব্যারাকে আরেকজন আর্থিক অপরাধীও থাকতে পারেন।
সেই জেলে রয়েছে ইংরেজি ও স্থানীয় সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল, ভিডিও কনফারেন্স সুবিধা ও টেলিমেডিসিন পরিষেবা। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, ব্যারাকের প্রতিটি বন্দির জন্য বরাদ্দ জায়গা ইউরোপীয় কমিটি ফর দ্য প্রিভেনশন অফ টর্চার অ্যান্ড ইনহিউম্যান ট্রিটমেন্ট তথা সি পি টি এর ন্যূনতম মান পূরণ করে।
এই রায়ের ফলে চোকসিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার শুরু করার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের পথ আরও একধাপ এগিয়েছে। এখন অপেক্ষা, চোকসি কি শেষ চেষ্টা হিসেবে বেলজিয়ামের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন?












Click it and Unblock the Notifications