কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে জোর বেজিংয়ের, চিন-ভুটান নতুন মউ সাক্ষরে কেন সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত
কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে জোর বেজিংয়ের, চিন-ভুটান নতুন মউ সাক্ষরে কেন সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত
নেপালের পর বহুদিন আগেই যে চিনের নজর ভুটানের উপর পড়েছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকী সম্প্রতি ভূটানের সঙ্গে একটি মউ চুক্তি সাক্ষর করে নিয়েছে চিন। দুই দেশের সীমান্ত সংক্রান্ত যে সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে একটি সমাধানের জন্যই এই চুক্তি বলে জানানো হয়েছে। যদিও চিনের এই অবস্থান বিশেষ ভালো চোখে দেখছে না ভারত। এদিকে এমতাবস্থায় এবার ভুটানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের উপরেও জোর দিচ্ছে বেজিং।

সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত
এদিকে বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত হওয়া এই চুক্তিকে 'তিন পদক্ষেপ রোডম্যাপ' চুক্তি বলছে দুই দেশ। ১৪ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে দু'দেশ। এদিকে চুক্তিতে সই করার পর চিনের বিদেশমন্ত্রীর সহকারী উ জিয়াংহাওকে রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি এই চুক্তি দু'দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।' আর এখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত।

ভুটানের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ?
এদিকে ভূটানের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ট সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল এই দেশ। এমনকী বাণিজ্যিক ও পর্যটন খাতেও ভারতীয় অর্থনীতির উপর অনেকটাই নির্ভরশীল ভুটন। কিন্তু এখন ভারতের এই প্রতিবেশী দেশটির দিকে নজর দিয়েছে চিন। আর তাতেই চাপ বাড়ছে নয়া দিল্লির উপর। এদিকে ভুটানের সঙ্গে চিনের মউ সাক্ষের বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিকে দেখা যায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরন্দিম বাগচিকে।

কী বলছে বিদেশ মন্ত্রক
ভুটান-চিন মউ নিয়ে অরিন্দম বাগচি বলেন, ভুটান ও চিনের মধ্যে (বৃহস্পতিবার) সমঝোতা স্মারকের বিষয়টি আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখছি। সবাই জানেন ১৯৮৪ সাল থেকে চিন ভুটান সীমান্ত নিয়ে দরকষাকষি করছে। ভারতও একইভাবে দরকষাকষি করছে।" প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ডোকলাম সীমান্তে ভারত ও চিন সংঘর্ষের জেরে তৈরি হয় তীব্র দোলাচল। এমনকী যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ারও উপক্রম হয় দুই দেশের মধ্যে। এদিকে ওই এলাকাটি নিজেদের বলে বরাবরই দাবি করে আসছে ভুটান।

আদৌও ভারতের কথা হয়েছিল ভুটানের সঙ্গে ?
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে ভুটানের সঙ্গে নতুন মউ সাক্ষর করে আদপে ভারতের উপরেই পাল্টা চাপ তৈরি করতে চাইছে জিনপিং সরকার। এমনকী এরজেরে ডোকালাম ক্ষতও নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে। এদিকে এই মউ চুক্তি সাক্ষর করার ক্ষেত্রে ভূটানের সঙ্গে ভারতের কোনও আলোচনা হয়েছিল কিনা জানতে চাওয়া হয় বিদেশমন্ত্রকের কাছে। যদিও সেই বিষয়ে এখনও কোনও উত্তর মেলেনি। তবে চিনের কূটনৈতিক অবস্থানে যে উদ্বেগ অনেকটাই বেড়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।












Click it and Unblock the Notifications