শুরু হতে না হতেই একেরপর এক মণ্ডপে হামলা,,এবারও কি হিংসাত্মক দুর্গাপুজোর সাক্ষী হবে বাংলাদেশ? বাড়ছে উদ্বেগ
বাংলাদেশে সনাতনীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর আগেই অশান্তির ছায়া। চলতি মাসেই পুজোমণ্ডপ ও মন্দিরে একের পর এক হামলার ঘটনার খবর উঠে এসেছে। ২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত ৯টি মণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এমনই তথ্য সামনে এনেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
অন্যদিকে, দেশের সর্বত্র চলছে পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদের দাবি, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপুজো হবে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১,৯০০ বেশি। তবে সরকারি হিসেব বলছে, সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫২৬টিতে। ঢাকাতেই বেড়েছে বেশ কয়েকটি নতুন পুজো মণ্ডপ।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এ বছর দুর্গাপুজোতে কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। কিন্তু ঐক্য পরিষদের বক্তব্য, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলায় গণ্ডগোলের ঘটনা জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, উৎসব চলাকালীন দিনগুলোতে আরও বড় ধরনের সহিংসতা ঘটতে পারে।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ এক বিবৃতিতে বলেন, "পুজোর প্রাক্কালে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা আশান্বিত নই। বরং আশঙ্কা ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।" ঐক্য পরিষদ সরকারের কাছে উৎসবের সময় কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।
এদিকে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। বিএনপি আশ্বাস দিয়েছে, অতীতের মতো এ বারও হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকবে তারা। অপরদিকে, দুর্গামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর দাবি তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তাঁর বক্তব্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে।মোটের উপর সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই বাংলাদেশের হাজারো মণ্ডপ কি সত্যিই নির্বিঘ্নে উৎসবের সাক্ষী হবে, নাকি এবারের দুর্গাপুজোও আবারও হিংসাত্মক স্মৃতির দিকে নিয়ে যাবে?












Click it and Unblock the Notifications