বাংলাদেশের অস্থিরতা আরও গভীর, ওসমান হাদির মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই গুলিবিদ্ধ আরেক যুবনেতা
বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ফের নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। ইনক্লাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে উত্তেজনার মধ্যেই এবার গুলিবিদ্ধ হলেন আরেক যুবনেতা। সোমবার খুলনায় মাথায় গুলি লাগে বাংলাদেশ ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির খুলনা বিভাগীয় প্রধান মোতালেব সিকদারের।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হামলায় সিকদারের মাথার বাঁ দিক দিয়ে গুলি ঢুকে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনা ঘটল মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে, যখন ৩২ বছর বয়সি যুবনেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। হাদি ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনের অন্যতম মুখ। চলতি মাসের শুরুতে ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
প্রথমে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাদিকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই গত সপ্তাহে তাঁর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুকে ঘিরেই বাংলাদেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। হাদির সমর্থকদের অভিযোগ, হত্যাকারীরা ভারত পালিয়ে গেছে ও অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
যদিও বাংলাদেশ পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের অবস্থান সম্পর্কে এখনও নির্দিষ্ট কোনও তথ্য তাদের হাতে নেই। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান,
"ফয়সালের শেষ অবস্থান সম্পর্কে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।"
এদিকে শনিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই হাদির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তিনি হাদির হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন ও যুবনেতার আদর্শকে স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দেন।
ইউনুস বলেন,
"আপনাকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। আজ ঢেউয়ের মতো লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে জড়ো হয়েছেন। দেশে ও দেশের বাইরে থাকা কোটি কোটি বাংলাদেশি এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন। আমরা আপনাকে কথা দিতে এসেছি আপনি যা দেখিয়েছেন, তা শুধু আমরা নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম পূরণ করবে।"
পরপর দুই যুবনেতার উপর হামলার ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজনৈতিক সহিংসতার এই ধারাবাহিকতা দেশটির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।












Click it and Unblock the Notifications