ওমর হাদীর অভিযোগের পর তোলপাড় বাংলাদেশে, পদত্যাগ ইউনূসের সঙ্গীর
বাংলাদেশে খুন হওয়া যুবনেতা শরীফ ওসমান হাদীর ভাই ওমর অভিযোগ করেছেন যে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের একাংশ আসন্ন নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করিয়েছে। তাঁর এই দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র) মহম্মদ খুদা বকশ চৌধুরী নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিবাদ সমাবেশে ওমর হাদী বলেন, "আপনারাই ওসমান হাদীকে হত্যা করিয়েছেন এবং এখন এটিকে ব্যবহার করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা এই দায় এড়াতে পারবেন না।"

ভারত ও আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক হাদী ছিলেন গত বছরের হিংস্র ছাত্র-নেতৃত্বাধীন 'জুলাই বিপ্লব'-এর অন্যতম নেতা। এই আন্দোলন হাসিনাপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল; পরবর্তীতে তিনিই ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন। ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের প্রার্থী হাদী গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় মুখোশধারী বন্দুকধারীর গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
গুরুতর আঘাত পাওয়ার ছয় দিন পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ওমর আরও অভিযোগ করেন, সরকারের একাংশ কোনও "সংস্থা বা দেশের" নির্দেশে তাঁর ভাইকে হত্যা করিয়েছে। হাদী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন চেয়েছিলেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত না করার অনুরোধ করেছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইনকিলাব মঞ্চ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং খুদা বকশ চৌধুরীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করে।
আইন উপদেষ্টা এই মামলার বিচার বাংলাদেশের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হাদীর মৃত্যুর পর ঢাকায় উন্মত্ত জনতা তাণ্ডব চালায়। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে আগুন ধরায়। এছাড়া, ময়মনসিংহে এক হিন্দু কারখানার শ্রমিক দীপুকে জনতা পিটিয়ে হত্যা করে।












Click it and Unblock the Notifications