Bangladesh: ঝাড়খণ্ডের পাঠানো বিদ্যুতে জ্বলে আলো, ডলার বকেয়া রেখে তবু আদানির থেকে সস্তায় বিদ্যুৎ চায় বাংলাদেশ!
Bangladesh on Adani: আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) হওয়া চুক্তিতে এবার নজর মহম্মদ ইউনূসের (Muhammad Yunus) সরকারের। আদানি গোষ্ঠীকে নিয়ে মার্কিন আদালত ঘুষকাণ্ডের (Adani Bribery Case) অভিযোগ আনতেই নতুন দাবি তুলেছে বাংলাদেশ।
বিদ্যুতের চুক্তিতে (Power Supply Agreement) কোনও দুর্নীতি না হয়ে থাকলে আদানিদের থেকে সস্তায় বিদ্যুৎ চাইবে বাংলাদেশ। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি সেদেশের বিদ্যুৎ ও শক্তি দফতরের উপদেষ্টা মহম্মদ ফয়জুল কবীরের।

সোলার এনার্জি সাপ্লাইয়ের কন্ট্র্যাক্ট পেতে ভারত সরকারের শীর্ষকর্তাদের ২৬.৫ কোটি ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। আমেরিকার বাজারে বিনিয়োগকারীদের থেকে এই টাকা তুলে ঘুষ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি মার্কিন আদালতের। গৌতম আদানি,সাগর আদানি-সহ ৭ জনকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। গৌতম ও সাগরের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানাও।
এমতাবস্থায় আদানি গোষ্ঠীসহ আরও ৬ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার ক্রিয়াকলাপ খতিয়ে দেখতে রিভিউ কমিটি গড়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। ২০১৭-তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আদানিদের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে কোনও দুর্নীতি জড়িয়ে রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট।
হাসিনার সঙ্গে হওয়া ওই চুক্তি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি গোষ্ঠী (Adani Group)। যদিও উপদেষ্টার দাবি, বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ পূরণ হয় আদানিদের মাধ্যমে। ওই চুক্তিতে একাধিক বেনিয়ম ধরা পড়েছে বলে দাবি তাঁর।
দুর্নীতির অজুহাত দেখিয়ে ফয়জুল কবীর আরও বলেন, "চুক্তিতে বেনিয়ম থাকলে পুনরায় দর কষাকষি করা হবে। তবে ঘুষ বা দুর্নীতি জড়িয়ে থাকলে তা বাতিল করা হবে। আদালতের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের উপর তা নির্ভর করছে। তবে দাম অত্যন্ত চড়া হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ সক্ষম।"
গত অর্থবর্ষে আদানি দাম কমালেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে দাবি বাংলাদেশের উপদেষ্টার। ২০২২-২০২৩ অর্থবর্ষে বাংলাদেশি ১৪.০২ টাকা ইউনিট প্রতি দর হেঁকেছিল আদানি গোষ্ঠী। তবে শুধু আদানি নয়, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী অন্যান্য সংস্থাগুলিকেও দাম কমানোর আহ্বান জানানো হবে বলে দাবি করেন ফয়জুল কবীর।
এদিকে বিদ্যুতের বিল বাবদ বকেয়া রেখেও হুঁশিয়ারি দিচ্ছে বাংলাদেশের ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। বিদ্যুতের বিল বাবদ ৮০ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকারকে সম্প্রতি চিঠি দেয় আদানি গোষ্ঠী। ১৫ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে, বাকি বকেয়া মেটানো হবে বলে আশ্বাস দেয় বাংলাদেশ। এদিকে সেই বকেয়া না মিটিয়ে আদানির নাম না করে এদিন হুঁশিয়ারি দেন ইউনূসের উপদেষ্টা। "কোনও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাকে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করতে দেব না," হুঁশিয়ারি ফয়জুল কবীরের।












Click it and Unblock the Notifications