বাংলাদেশের 'মঙ্গলযাত্রা' নাকি ভারতের ষড়যন্ত্র! ‘হিন্দুদের জন্মাষ্টমীর ধর্মাচার' বলল হেফাজতে ইসলাম
Bangladesh: আর মাত্র কয়েকটা দিন! সামনেই পয়লা বৈশাখ। বাংলাদেশের মানুষ এদিনটিকে একেবারে ধূমধাম করে উদযাপন করেন। সকালে সবাই মিলে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' করে থাকেন। এক অন্য ছবি বৈশাখের প্রথমদিনে দেখা যায়। আর তাতেই আপত্তি সে দেশের কট্টরপন্থী মৌলবাদীদের। আর এই 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'কে 'হিন্দুদের জন্মাষ্টমীর ধর্মাচার' বলে মনে করে কার্যত বন্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামের।
সংগঠনটি জানিয়েছে, 'মঙ্গল শোভাযাত্রাকে 'সর্বজনীনতা'র নামে সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে'। এমনকী এর পিছনে ভারতের ষড়যন্ত্র দেখছেন এই সংগঠন। 'বাংলা ট্রিবিউনে'র খবর অনুযায়ী, হেফাজতে ইসলামের অন্যতম দুই নেতৃত্ব মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজিদুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে।

যেখানে তাঁদের দাবি, 'পহেলা বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রাকে পরবর্তীকালে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ দেওয়াকে তারা ভারতীয় ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেন।' শুধু তাই নয়, 'মঙ্গলযাত্রা'কে ইউনেস্কো যে স্বীকৃতি দিয়েছে তা আরও একবার পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন করা হবে বলেও দাবি।
হেফাজতে ইসলামের বিবৃতিতে দাবি, ভুল সংশোধনের জন্য ইউনেস্কো কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হবে। আর তা যাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা দেন সে বিষয়ে জোর দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, '১৯৮৯ সালের পহেলা বৈশাখে প্রথম পালিত আনন্দ শোভাযাত্রাকে পরবর্তীকালে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ দেওয়াকে আমরা ভারতীয় ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখি। ঢাবির চারুকলা সব সময় মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করলেও পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো পহেলা বৈশাখের বানোয়াট মঙ্গল শোভাযাত্রাকে 'অধরা সাংস্কৃতিক ঐহিত্য' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।'
আর তাতেই আপত্তি কট্টরপন্থী এই সংগঠনের। বলে রাখা প্রয়োজন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলকালে বাংলাদেশের (Bangladesh)রাজনীতিতে বড় বদল এসেছে। রাতারাতি কট্টরপন্থী মৌলবাদীদের দাপট সে দেশে দেখা গিয়েছে। কখনও তারা সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার করছে কখনও আবার সে দেশের মহিলাদের উপর বিভিন্ন ধরনের ফতোয়া চাপাচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকাররের আমলে যাদের আস্ফালন একেবারে বন্ধ হয়েগিয়েছিল, ইউনূসের 'নতুন বাংলাদেশে' তাদেরই বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে। আর সেটাই অশনি সঙ্কেত বলছেন সে দেশের নাগরিকদের একাংশ। জানা যাচ্ছে, এহেন বিতর্কের পরেই ইউনূস সরকার পহেলা বৈশাখের আয়োজন সারা বাংলাদেশে একেবারে সীমিত আকারে করার নির্দেশ দিয়েছে। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হ্নয়েছে সে দেশের জনমানসে।












Click it and Unblock the Notifications