বাংলাদেশ এখন 'জিহাদিস্তান'! হিন্দু নিধনের বিরুদ্ধে সোচ্চার তসলিমা নাসরিন
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হিংসা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন তসলিমা নাসরিন। এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন যে, "একজন জিহাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই কয়েক হাজার জিহাদি বাংলাদেশ জুড়ে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করছে। যে যা পাচ্ছে ধ্বংস করছে আগুন ধরাচ্ছে, সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছে।"

তসলিমা নাসরিনের কথায়, বাংলাদেশে যে সমস্ত ঘটনা ঘটে চলেছে, তা মোটেই স্বাভাবিক নয়। তাঁর মতে, চরমপন্থীরা পরিকল্পনা করেই দেশজুড়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এক জিহাদির মৃত্যুর কারণে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে গাছে বেঁধে পুড়িয়ে মারার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কোথাও অনুশোচনার একফোঁটা চিহ্নও দেখা যায়নি। বরং 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি তুলে সেই হত্যা কাণ্ডকে ঘিরে উল্লাস করা হয়েছে। তসলিমার মতে, এই ঘটনাটিই চরমপন্থার আসল চেহারা সামনে এনে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন শরীফ ওসমান হাদি। তিনি হলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া গণ আন্দোলনের এবং বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম মুখপাত্র ও প্রধান মুখ। ১২ই ফেব্রিয়ারি ঢাকা-8 কেন্দ্র থেকে তিনি বাংলাদেশ নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসাবেও লড়তেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঠিক ৬ দিন পরই সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে তিনি মৃত্যু বরণ করলেন। জানা গিয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে যে বিদ্রোহ হয়েছিল, তাতে শরীফ ওসমান হাদির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই আন্দোলন হওয়ার পরই শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটেছিল। আসন্ন নতুন বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে রয়েছে সাধারণ নির্বাচন। হাদি আসন্ন সেই নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভ শুরু হয় বাংলাদেশে। রেহাই পেলেন না সেখানকার সাংবাদিকেরাও। গতকাল রাতেই বাংলাদেশের দুই সংবাদপত্র অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 'প্রথম আলো' এবং 'দ্য ডেলি স্টার'-এর দফতরে প্রথমে ভাঙচুর হয় তারপরেই ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। তাঁর মৃত্যুর কারণে শনিবার সেখানকার অন্তর্বতী সরকার একদিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।












Click it and Unblock the Notifications