Bangladesh: গণভবনের দখল নিল বিক্ষোভকারীরা, ভাঙা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি, শ্রীলঙ্কার ছবি মনে করাল বাংলাদেশ
হাসিনা দেশ ছাড়তেই গণভবনের দখল নিলেন বিক্ষোভকারীরা। গণভবনের ঘরে ঢুকে তছনছ করছেন তাঁরা। ফ্রিজ খুলে খাবার বের করে নিচ্ছেন তাঁরা। একই ছবি কয়েক বছর আগে দেখা গিয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছিল সেখানে। সেই ছবিই ধরা পড়েছে বাংলাদেশে।
যে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার কাণ্ডারি সেই বঙ্গবন্ধুর মূর্তির উপরে উঠে হাতুড়ির মেরে মূর্তি ভাঙছেন বিক্ষোভকারীরা। বাংলাদেশে যা নজিরবিহীন ঘটনা বলাই যায়। সেই শেখ মুজিবর রহমানের মূর্তি ভাঙা হচ্ছে সেই দেশেরই নাগরিকদের হাতে তা নজিরবিহীন ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে আঁচ করেই কয়েক ঘণ্টা আগে বোন রেহানাকে নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়েন হাসিনা। দেশ ছাড়ার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

তারপরেই বিক্ষোভকারীরা কার্যত গণভবনের সামনে সব ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়েন হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে। কাতারে কাতার বিক্ষোভকারী সেখানে ঢুকে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সব ঘরের দরজার তারা ভেঙে ফেলেন। তাঁরা রান্না ঘর থেকে খাবার বের করে খেতে শুরু করেন । এমনকি ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে খেতে দেখা গিয়েছে একাধিক বিক্ষোভকারীকে।
লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। পুলিশের কাছ থেকে প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের রাস্তায় ভারী বুটের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের সামাল দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। কার্যত গণভবনে লুঠপাট চালাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। শুধু গণভবনই নয় বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের আশপাশেও ঢুকে পড়েছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনেও হামলা চালানো ঘটনা ঘটেছে। ধানমাণ্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন তছনছ করছে বিক্ষোভকারীরা।
ঢাকা সহ বাংলাদেশের একাধিক জায়গায় আওয়ামী লিগের কার্যালয়ে আগুন লাগানো হয়েছে। ধানমণ্ডিতে আওয়ামি লিগের শেখ হাসিনার কার্যালয়ে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়ছিলেন। লক্ষ লক্ষ বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। বিক্ষোভ আন্দোলনে প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ৫ জন পুলিশকেও হত্যা করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে শোনা যাচ্ছে শেখ হাসিনার বিমান বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পৌঁছে গিয়েছে। জানা যাচ্ছে দিল্লিতে যাচ্ছেন হাসিনা। প্রথমে শোনা যাচ্ছিল হাসিনা পশ্চিমবঙ্গ অথবা ত্রিপুরায় যাবেন। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। এদিকে বাংলাদেশে সেনা প্রধান সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, তাঁরা আর হিংসা চান না। আওয়ামি লিগ ছাড়া বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সর্বসম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে দেশে শান্তি ফেরাতে হবে। পুলিশ এবং সেনা বাহিনী কেউ গুলি চালাবে না আর। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গড়া হবে। এবং আজই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন সেনা প্রধান।












Click it and Unblock the Notifications