Sheikh Hasina: 'শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইই', ফের ভারতের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা বাংলাদেশের
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পেতে ভারতের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেদেশের রক্ষণাবেক্ষণে আসা তদারকি সরকার যে নিরপেক্ষ নয়, এ যেন তারই প্রমাণ। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখে ফেরত নিয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার যে দাবি বিএনপি ও অন্যান্য আওয়ামী লিগ বিরোধী দল করে আসছে, তদারকি সরকার যেন সেই সুরেই গান গাইছে।বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্য ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার প্রেক্ষিতে, সেদেশের আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছেন যে বাংলাদেশ আশা করবে ভারত তাঁদের প্রত্যর্পণ চুক্তিকে সম্মান করবে। সরকার বিরোধী বিক্ষোভের অভিযোগের কারণে জারি করা পরোয়ানায় বলা হয়েছে, ১৮ নভেম্বরের মধ্যে হাসিনাকে আদালতে হাজির হতে হবে। সেজন্যই তদারি সরকারে তরফে আসিফ নজরুল হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতকে আইনি বাধ্যবাধকতাগুলির দিকে নজর দিয়ে বলেছেন।

দিল্লির তরফে আগেই জানানো হয়েছে যে, হাসিনা বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের মধ্যে পড়ে নিরাপত্তার কারণে ভারতে আশ্রয় চেয়েছিলেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা গত ৫ অগাস্ট ভারতে আসার পর থেকে সেদেশের জনসাধারণের দৃষ্টির বাইরে রয়েছেন। যদিও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষিতে তিনিই কূটনৈতিক এবং আইনি ঝামেলার কেন্দ্রবিন্দু। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রায় ২০০টি মামলা হয়েছে। প্রধানত ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ থেকে হত্যার অভিযোগ সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসিনা বিরোধী বাংলাদেশি নেতা রুহুল কবির রিজভী হাসিনাকে "একজন খুনি এবং অপরাধী" বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ৮ অগাস্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। তবে অভিযোগ হাজারের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সেই সময়ের মধ্যে। কোটা আন্দোলন থেকে যেভাবে হিংস্রতা ছড়িয়েছে এবং এত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়।
তদারকি সরকার হাসিনাকে কাঠগড়ায় তুলে বিচার নিশ্চিত করতে তাই প্রত্যর্পণে জোর দিয়েছে। যেনতেন প্রকারেন হাসিনাকে দেশে ফেরত পেয়ে সাজা পেতে দেখতে চাইছে সেদেশের একটা বড় অংশ। আর সেজন্য ভারতের সঙ্গে শত্রুতাতেও বাংলাদেশের একটা অংশের মানুষের আপত্তি নেই। অথচ, এদেশ থেকে আনাজ সরবরাহে ঘাটতি নেই। বাংলাদেশ থেকে লঙ্কা থেকে শুরু করে নানা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে নিজের দেশের প্রয়োজন মেটাচ্ছে মহম্মদ ইউনূসের দেশ।
উপরন্তু মহম্মদ ইউনূস ভারত থেকে কেন হাসিনা রাজনৈতিক বিবৃতি দিয়েছেন তার সমালোচনা করেছেন। তিনিও চাইছেন, হাসিনাকে ভারত বাংলাদেশে ফেরত পাঠাক। অর্থাৎ তিনিও বিএনপির সুরেই গান গাইছেন প্রথম থেকেই। প্রসঙ্গত, হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। তবে সেমস্ত দিক বিবেচনা না করে বাংলাদেশ চটজলদি সমাধান হিসাবে আপাতত শুধু হাসিনাকে দেশে ফেরত চেয়ে কাঠগড়ায় তুলে শাস্তি দিতে পারলেই খুশি, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications