ফাঁসি হল বঙ্গবন্ধু মুজিবের খুনি মাজেদের, খুশির হাওয়া বাংলাদেশে
ফাঁসি হল বঙ্গবন্ধু মুজিবের খুনি মাজেদের, খুশির হাওয়া বাংলাদেশে
ফাঁসি হল বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবর রহমানের অন্যতম খুনি আব্দুল মাজেদের। জানা গিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১২ টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি হয় আব্দুল মাজেদের। মুজিবর রহমানের খুনের মামলায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আব্দুল মাজেদকে।

শনিবার দুপুরে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মহরা দেয় জল্লাদরা। জেল কর্তৃপক্ষের তরফে ১০ জনের জল্লাদের দল তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল।
কারাগার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধের পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়েছিল, তাঁরা যাতে মাজেদের সঙ্গে শেষ দেখা করতে পারেন তার জন্য। স্ত্রী, শ্যালক-সহ পরিবারের ৫ সদস্য দেখা করার জন্য গিয়েছিলেন সেখানে। ওই কারাগারের ফাঁসির মঞ্চ তৈরির পর এই প্রথম ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হল সেখানে।
সোমবার রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ ঢাকার মীরপুরের সাড়ে এগারো নম্বর থেকে গ্রেফতার করা হয় আব্দুল মাজেদকে। তাঁকে বাসস্ট্যান্ডের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি স্থানীয় প্রশাসনের। জিজ্ঞাসাবাদের নিজের নাম জানান তিনি।
গত সোমবার ঢাকা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর ভবিষ্যৎ পরিণত কী হতে চলেছে, তা বুঝতে পেরেছিলেন আব্দুল মাজেদ। কেননা তাঁর ফাঁসির আদেশ আগেই হয়ে গিয়েছিল। সূত্রের খবর অনুযায়ী যে সময় ফাঁসির আদেশ হয়েছিল, সেই সময় তিনি পরিচয় গোপন করে ছিলেন কলকাতায়। গ্রেফতার হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনও জানান তিনি। কিন্তু সেই আবেদন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ খারিজ করে দেন।
ঢাকায় যাওয়ার আগে তিনি কলকাতায় ছিলেন প্রায় ২২ বছর। এমনই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ঢাকার পুলিশের কাছে করেছিলেন বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত খুনি আব্দুল মাজেদ। সোমবার রাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পলাতক আসামি আব্দুল মাজেদকে। মঙ্গলবার তাঁকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এএম জুলফিকার হায়াত।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভেঙে পড়ে আব্দুল মাজেদ জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে তিনি গত মাসেই ফিরেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি কলকাতা ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় থেকেছেন বলে জানা গিয়েছে। নির্দিষ্টভাবে কোনও জায়গায় তিনি বেশি দিন থাকেননি। বাংলাদেশ পুলিশ কলকাতা পুলিশের থেকে মাজেদের আশ্রয়স্থল জানার চেষ্টা করছে বলে জানা গিয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে খবর ভারতীয় নাগরিকের প্রমাণ পত্র যোগার করেছিলেন তিনি। ছিল ভারতীয় পাসপোর্টও।
১৯৯৭-তে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাবার খুনিদের বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। সেই সময় থেকে মাজেদের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকায় সরকারি বাসভবনে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে মুজিবর রহমানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সবাই সেনাকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। আব্দুল মাজেদ ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার ছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications