ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একজোট বিরোধীদের 'আজাদি মার্চ' হচ্ছে পাকিস্তানে
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন পাকিস্তানের বিরোধীদলগুলি। বিক্ষোভের ডাক দেওয়া নেতাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জমিয়ত উলামা-ই ফজলের নেতা ফজলুর রহমান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন পাকিস্তানের বিরোধীদলগুলি। বিক্ষোভের ডাক দেওয়া নেতাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জমিয়ত উলামা-ই ফজলের নেতা ফজলুর রহমান। ২৭ অক্টোবর ইমরান সরকার বিরোধী আজাদি পদযাত্রায় ইসলামাবাদে দীর্ঘ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে তাঁর দলের অনুগামী। দলটির জারি করা সাম্প্রতিক নির্দেশনা থেকে এমন তথ্যই জানা গেছে।

বিক্ষোভের মাঝেও পড়াশোনায় ব্যঘাত না
পাকিস্তানজুড়ে জমিয়ত উলামা-ই ফজলের কয়েক হাজার মাদ্রাসা রয়েছে। জমিয়ত উলামা-ই ফজলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নেতাকর্মী, সমর্থক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করে পাঠ্যবই ও পবিত্র কোরান নিয়ে আসতে হবে। বিক্ষোভে যোগ দিয়ে তাদের যাতে লেখাপড়ায় ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্যই এ নির্দেশনা বলে জানানো হয়েছে।

ইমরান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ইমরান খান সরকারকে অদক্ষ ও অবৈধ ঘোষণা দিয়ে মঙ্গলবার তিনি এ বিক্ষোভ ডেকেছেন। ফজলুর রহমান বলেন, গত বছর কারচুপির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী ইমরান খানকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ফজলুর রহমান বলেন, "আমরা ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাদের শাসন করার কোনো অধিকার নেই, অবিলম্বে তাদের পদত্যাগই আমাদের মূল দাবি।" তিনি জানিয়েছেন, ২৭ অক্টোবর গোটা দেশ থেকে আজাদি মার্চ শুরু হয়ে তা রাজধানী ইসলামাবাদে যাবে ৩১ অক্টোবরে।

নিজের দেশেই চাপে রয়েছেন ইমরান খান
পাকিস্তানের অর্থনীতি সামাল দিতে এমনিতেই সরকার হিমশিম খাচ্ছে। তার উপর ফজলুর রহমানের বিক্ষোভের ঘোষণায় দেশটিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা বাড়ল। পাশপাশি আরও কোণঠাসা অবস্থায় পরেছে ইমরান খান। জমিয়ত উলামা-ই ফজলের এই বিক্ষোভে নিজেদের গা বাঁচিয়ে সায় দিয়েছে পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলোও।
এদিকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে সরকার বলছে, রাজধানীর জনজীবন কাউকেই অচল করতে দেয়া হবে না।

দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের জন্য তৈরি
যারা আজাদি পদযাত্রায় অংশ নিতে চায় তাদের খাবার-দাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে নিতে আহ্বান জানিয়েছে জমিয়ত। যাতে তারা অন্তত পাঁচ দিন চলতে পারেন। দলটি তাদের নেতাকর্মীদের ৩২ দফার নির্দেশনা দিয়েছে। জেইউআই-এফের সিন্ধুপ্রদেশের প্রাদেশিক আমির মাওলানা রশিদ সুমরো এই নির্দেশনা জারি করেন। গাড়ি ভাড়া করে লোকজনকে একমুখী পথ দিয়ে ইসলামাবাদে নিয়ে আসতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জমিয়তের স্থানীয় স্তরের সংগঠনগুলিকে। ইসলামাবাদে অন্তত সপ্তাহব্যাপী অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে জমিয়তের নেতাকর্মীদের।

শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় অস্ত্রের উপর নিষেধাজ্ঞা
কোনও লাইসেন্সধারী কিংবা অবৈধ অস্ত্র, ছোরা, লাঠি ও রড বহন করতে মানা করা হয়েছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রার বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিক্ষোভের সময় যাতে সরকারি-বেসরকারি কোনও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে কর্মীদের।












Click it and Unblock the Notifications