আফগানিস্তানে ফিরছে ফতোয়া, বোরখার আড়ালে মুখ ঢাকছেন মহিলারা! কেমন ছিল সে দেশের মানুষের জীবন?

গোটা বিশ্বের নজর এখন আফগানিস্তানের উপর রয়েছে। তালিবান জঙ্গিদের হাতে দেশ। প্রেসিডেন্টকে দেশ ছাড়া করে এখন আফগান প্রেসিডেন্টের মসনদে নিজেদের জায়গা শক্ত করেছে তালিবানরা। শুধু তাই নয়, গোটা দেশজুড়ে মাঝে মধ্যেই শোনা যাচ্ছে গুলি

Life In Afghanistan: গোটা বিশ্বের নজর এখন আফগানিস্তানের উপর রয়েছে। তালিবান জঙ্গিদের হাতে দেশ। প্রেসিডেন্টকে দেশ ছাড়া করে এখন আফগান প্রেসিডেন্টের মসনদে নিজেদের জায়গা শক্ত করেছে তালিবানরা। শুধু তাই নয়, গোটা দেশজুড়ে মাঝে মধ্যেই শোনা যাচ্ছে গুলির আওয়াজ। প্রাণ বাঁচাতে ছুটছেন আফগানরা।

কাবুল এয়ারপোর্টে আফগানদের ভিড়। পালাতে হবে যেভাবেই হোক পালাতে হবে...! চোখে মুখে শুধুই আতঙ্কের ছবি। যে কোনও সময়ে মৃত্যু অনিবার্য। ঘরবন্দি মহিলারা। দোকানে ভিড় বাড়ছে হিজাব কেনার। হঠাত করে যেন গোটা পরিস্থিতিটা বদলে গিয়েছে সে দেশের।

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল। একটা লম্বা সময়। তালিবান শাসনের মধ্যে ছিল আফগানিস্তান। সেই সময় সে দেশের মানুষ নরকের থেকেও খারাপ অবস্থার মধ্যে ছিল। মহিলাদের অবস্থা যে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। সেই যুগ আবার ফিরে আসছে সে দেশে। আর সেই ভেবেই আতঙ্কিত এখন আফগানিস্তানের মানুষ।

কিন্তু তালিবান শাসনের আগে কেমন ছিল সে দেশের মানুষের জীবন? এই প্রতিবেদনে আরও বিস্তারিত ভাবে জানানো হল।

তালিবানি শাসনের আগে কেমন ছিল মহিলাদের জীবন!

তালিবানি শাসনের আগে কেমন ছিল মহিলাদের জীবন!

দীর্ঘ তালিবান শাসনের অবসান ঘটে ২০০১ সালে। স্বাধীনতা স্বাদ পায় সে দেশের মানুষ। অন্যান্য দেশের মতো আফগামিস্তানও উন্নতি করতে শুরু করল। খেলা, সিনেমা থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে একটা জায়গা করে নিতে চাইল। বিশেষ করে যে মহিলারা একটা সময় বোরখার আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখত তাঁরা নতুন করে নিজেদের চিনতে শিখল।

বোরখা খুলে বিশ্বের সামনে নিজের পরিচয় তুলে আনলেন। সমস্ত ক্ষেত্রে মহিলারা যে কম যান না সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করলেন সে দেশের মহিলারা। অন্যান্য যে কোনও শিক্ষিত দেশের মতো আফগানিস্তানেও মহিলাদের ঘরাঘুরির সুযোগ ছিল। বাজারে যাওয়ার অনুমতি ছিল।

বেড়াতে যাওয়া থেকে শুরু করে সিনেমাতে যাওয়ারও সুযোগ ছিল। শুধু তাই নয়, শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। মহিলারা ধীরে ধীরে কাজেও যোগ দিচ্ছেলেন। কিন্তু হঠাত করে যেন সব বদলে গেল।

এই মুহূর্তে কেমন আছেন মহিলারা?

এই মুহূর্তে কেমন আছেন মহিলারা?

দীর্ঘ ২০ বছর পর তালিবানি শাসন ফিরেছে কাবুলে। আর তা ফিরতেই ফের একবার ঘরবন্দি মহিলারা। কোনও মহিলার একা বাইরে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় বের হতে হলে প্রয়োজন বোরখা এবং অবশ্যই বাড়ির প্রধান পুরুষকে নিয়ে ফিরতে হবে। এমনকি বেশ কিচু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে মহিলারা যারা চাকরি করছিলেন তাঁদের কাজ ছাড়তে বলা হয়েছে। মহিলাদের জন্যে একগুচ্ছ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তালিবাণদের তরফে।

হঠাত করে খালি হয়ে গিয়েছে বাজার!

হঠাত করে খালি হয়ে গিয়েছে বাজার!

অনেকে বলছেন গত ২০ বছরে গটা দেশে আতঙ্ক বলে ককিছু ছিল না। বুক ভরে নিঃশ্বাস নিত সেখানকার মানুষ। যে কোনও উৎসবের মরশুমে মানুষ বাজারে ভিড় জমাতো। কিন্তু হঠাত করে বদলে গিয়েছে ছবিটা। চারপাশ জুড়ে শুধু আতঙ্কের ছবি। রাস্তায় বন্দুক হাতে তালিবানি নজরদারি।

চুন থেকে পান খসলেই চলছে গুলি। চারপাশজুড়ে আতঙ্ক। ভয়ে মানুষ শুধু ছুটছে। বিভিন্ন দেশের বিমান সে দেশের নাগরিকদের উদ্ধারে নামলেই আফগানরা ছুটে যাচ্ছে। প্লেনে ওঠার চেষ্টা করছে।

এয়ারপোর্টে উপচে পড়া ভিড়!

এয়ারপোর্টে উপচে পড়া ভিড়!

প্রত্যেক রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাস্তার প্রহরাতে তালিবানরা। এই অবস্থায় কাবুল এয়ারপোর্টে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। প্রাণের বাচার ক্ষেত্রে বিমান শেষ ভরস আফগানিস্তানের মানুষের। যেভাবেই হোক পালাতে হবে। আর তাই একের পর এক দেশের বিমান কাবুলের মাটি ছুলেই রানওয়ের দিকে ছুটে যাচ্ছে আফগানরা।

কেউ চাকাতে নিজেকে বেঁধে পালাতে চাইছে। কেউ বা আবার বিমানের ডানাতে বসে যাচ্ছে। ভয়ঙ্কর এক ছবি কাবুলের মাটিতে। কিন্তু আগেও এমনটা ছিল না। আফগানরা সুন্দর ভাবে বিমানে যাতায়াত করতে পারত। বিমান সেবিকা ছিল। কিন্তু আজ সব বদলে গিয়েছে।

মহিলাদের বিজ্ঞাপন ঢেকে দেওয়া হচ্ছে

মহিলাদের বিজ্ঞাপন ঢেকে দেওয়া হচ্ছে

গোটা আফগানিস্তান এখন তালিবানদের দখলে। আর গোটা দেশের রাজত্ব ফিরতেই ঢেকে দেওয়া হচ্ছে সভ্যতা! গত ২০ বছরে আফগানিস্তান জুড়ে বিভিন্ন শপিং মল থেকে শুরু করে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তালিবানি শাসনে ঢাকা পড়ছে সেই সমস্ত নিদরশন।

সমস্ত বিজ্ঞাপনকে মুছে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলাদের বিজ্ঞাপনগুলি মুছে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শহরজুড়ে বিভিন্ন পোস্টারগুলিও ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এই পোস্টারের কারণে যাতে সে দেশের ব্যবসায়ীদের যাতে কোনও ফতোয়ার মুখে না পড়তে হয় সেজন্যে এই সিদ্ধান্ত।

তালিবানি ফতোয়া

তালিবানি ফতোয়া

দেশের ক্ষমতা হাতে পেয়েই একগুচ্ছ ফতোয়া জারি করা হয়েছে। ইসলামিক শরিয়া আইন এবং তার অতিরঞ্জিত একটা ভার্সন ইতিমধ্যেই কার্যকর করা শুরু হয়ে গিয়েছে আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে। জানা গিয়েছে, তালিবানি শাসনে নিজের স্বামী বা রক্তের সম্পর্ক আছে এমন কোনও পুরুষ সঙ্গী ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরনো নিষেধ।

পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে বাইরে বেরোলেও বোরখা এবং হিজাব পরাটা বাধ্যতামূলক। কোনও পায়ের আওয়াজকরা চলবে না। পা ঢাকা নিশ্চিত করতে হবে মহিলাদের। এমনকি রাস্তায় বের হলেও পা ঢাকা জুতো পড়তে হবে। শধু তাই নয়, ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী অবিবাহিত কিংবনা বিধবা মহিলাদের বিয়ে করবে তালিবানিরা। এছাড়াও একাধিক ফতোয়া দেওয়া হয়েছে।

খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+