রাশিয়ায় রাজনাথ ম্যাজিক, পাকিস্তানকে অস্ত্র না বিক্রি করার সিদ্ধান্ত মস্কোর
চিনের সঙ্গে লাদাখ সমস্যা ঘনীভূত হওয়ার মাঝেই ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হচ্ছে। আর এই অবস্থায় পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমেই দূরত্ব বাড়ানোর পন্থা অবলম্বন করল মস্কো। রাশিয়া জানিয়ে দেয়, তারা পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ করবে না। প্রসঙ্গত, রাজনাথের রাশিয়া সফরকালে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মস্কো ফের বুঝিয়ে দিল যে তারা দিল্লির সঙ্গে বন্ধুত্বকে কতটা গুরুত্ব দেয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক রাজনাথের
এদিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্গেই শোইগু। সেই বৈঠকেই উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে একে-২০৩ অ্যাসল্ট রাইফেলসের কারখানা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পর রাশিয়া জানিয়ে দেয়, তারা ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে কোনও রকম অস্ত্র সরবারহ করবে না।

পাকিস্তান কাশ্মীরে তৎপরতা বাড়িয়েছে
প্রসঙ্গত, চিনের সঙ্গে লাদাখ সীমান্তে ভারতের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানও কাশ্মীর এলাকাতে তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর জেরে ভারতীয় সেনা দুই প্রান্তেই ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়। উত্তরে গিলগিট অঞ্চলেও ভারতীয় সেনাকে ব্যতিব্যস্ত করতে তৈরি হচ্ছে পাক সেনা। তাছাড়া পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদতপুষ্ট জঙ্গিরা তো রয়েছেই। এই আবহে মস্কোর এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্যে বিশাল ধাক্কা।

এস-৪০০ ট্রায়ামফ মিসাইল নিয়ে কূটনীতি
এর আগে জুলাই মাসেই তিনদিনের সফরে রাশিয়া গিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বর্তমান ভারত-চিন উত্তপ্ত পরিস্থিতি মাথায় রেখে তাঁর সেই সফরে রাশিয়া জানায় যে ভারতকে দ্রুত এস-৪০০ ট্রায়ামফ দীর্ঘ পরিসীমার ভূমি থেকে বায়ু মিসাইল সিস্টেম পাঠানো হবে।

মস্কোর কাছে বড় ধাক্কা খায় বেজিং
শুধু তাই নয়, রাশিয়া জানায়, এখনই চিনকে দেওয়া হবে না এস ৪০০ মিসাইল। পরে কখন তা তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে তা নিয়েও কোনও স্পষ্ট বার্তা দেয়নি রাশিয়া। এর আগে ভারতকে এই মিসাইলসিস্টেম দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে রাশিয়া সম্মত হলে তা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল চিন। কারণ রাশিয়া থেকে লাদাখের জন্যে তারাও একই অস্ত্র কিনেছিল। তবে এখন দেখা যাচ্ছে চিনের হাতে সেই অস্ত্র আর পৌঁছাবে না।

উত্তপ্ত প্যাংগং
এদিকে কয়েকদিন আগে পূর্ব লাদাখের দক্ষিণে প্যাংগং হ্রদ এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে চিনা সেনা। কিন্তু, সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে ভারতীয় সেনা। গালওয়ানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারপর থেকে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার কূটনৈতিক ও সেনা স্তরে বৈঠক হয়েছে। তারই মাঝে প্যাংগং হ্রদ এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে চিনা সেনা।

চিনের উপর রাজনাথের চাপ সৃষ্টি
এই আবহে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং মস্কোয় চলা সাংহাই কোঅপরেশন অর্গানাইজেশনে চিনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে চাপে থাকা চিন, ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বার আবেদন জানিয়েছেন বলে খবর। এর ফলে শেষ পর্যন্ত মনে হয়, দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বৈঠকে বসবেন।












Click it and Unblock the Notifications