বাংলাদেশে আন্দোলনের রাশ কি বিরোধী-মৌলবাদীদের দখলে, নতুন দাবিতে শেখ হাসিনাকে ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা

রবিবার সংরক্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে এদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতি থমথমে। ভারত ছাড়াও নেপাল-ভূটান-মালদ্বীপের পড়ুয়ারা দলে দলে বাংলাদেশ ছাড়ছেন। এদিন সকালে সেখানকার প্রশাসনের সহযোগিতা কলকাতায় ফিরেছেন শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার।

কলকাতায় ফেরার পরে সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পবিত্র সরকার বলেছেন, বাংলাদেশের আন্দোলনের রাশ এখন বিরোধী মৌলবাদী শক্তির হাতে চলে গিয়েছ। তবে শাসকদলও ক্ষমতা খলে রাখতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Sheikh Hasina

এদিকে, সোমবারও বাংলাদেশ জুড়ে কার্ফু জারি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পরে বিক্ষোভকারীরা নতুন দাবি পূরণের জন্য সরকারকে ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকার ২০১৮ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য চাকরিতে সংরক্ষণ বাতিলের পরে হাইকোর্ট গত জুন মাসে তা পুনর্বহাল করার পরে সেখানে অস্থিরতা শুরু। রবিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করার আদেশ দিয়েছে। অর্থাৎ সংরক্ষণ থাকছে মাত্র সাত শতাংশ। এর মধ্যে পাঁচ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য আর দুই শতাংশ জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী এবং ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য বরাদ্দ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

তবে আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবরা এখনও অসন্তুষ্ট বলে জানা গিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, সরকার গেজেট প্রকাশ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি তারা আটক ছাত্র-নেতাদের মুক্তি, কার্ফু প্রত্যাহার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়াশোনা শুরুর দাবি করেছে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ জনের বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন বিরোধী দলের নেতা-সহ গ্রেফতারের সংখ্যা পাঁচশোর ওপরে। মৃতদের মধ্যে পুলিশের অন্তত তিনজন রয়েছে। এছাড়া অন্তত ষাটজন পুলিশ কর্মী গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে, ঢাকা পুলিশের এক মুখপাত্র।

সোমবার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার সুযোগ করে দিতে তিনঘন্টার জন্য কার্ফু শিথিল করা হয়। সেই সময়তেও সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্কগুলিকে ঢাকার রাস্তায় টহল দিতে দেখা গিয়েছে। এখনও সেখানে ইন্টারনেট বন্ধ। ফলে প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

সংরক্ষণ ইস্যকে পুঁজি করে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলি শেখ হাসিনার অপসারণ দাবি করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় পার্টি অর্থাৎ বিএনপি জমিয়তে ইসলামির সহযোগিতায় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। বিরোধী নেতারা প্রাভাবিত করার চেষ্টা করলেন, সেনাবাহিনীও এখনও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিছনেই রয়েছে।

বাংলাদেশের অস্থিরতা পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে প্রাভাবিত করে। সেই কারণে ভারত সরকারও পুরো বিষয়টির ওপরে নজর রেখে চলেছে। তবে বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি সঠিকভাবে সামাল দেওয়া না গেলে হাসিনা বিরোদী আন্দোলন ভারত বিরোধী আন্দোলনের রূপ নিতে পারে। আর বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তি শক্তিশালী হলে, ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তা ক্ষতিকর হতে পারে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+