মার্কিন মাটি থেকে দিল্লিতে পা রাখতেই গ্রেপ্তার আনমোল বিশ্নোই! বাবা সিদ্দিকির খুনকাণ্ডে বড় সাফল্য এনআইএর
দীর্ঘদিনের তল্লাশির পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎপরতায় অবশেষে এনআইএর জালে ধরা পড়ল কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোইয়ের ভাই আনমোল বিশ্নোই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাকে ফেরত পাঠানো মাত্র দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই তাকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইতিমধ্যেই টার্মিনাল ৩ এ কড়া নিরাপত্তায় তল্লাশি চালানো হচ্ছিল, আর বিমান নামতেই সেখানেই সম্পন্ন হয় সমস্ত প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া।
২০২২ সাল থেকে পলাতক থাকা আনমোলকে এনআইএ তাদের 'সন্ত্রাসী চক্র' মামলার ১৯তম গ্রেপ্তার হিসাবে চিহ্নিত করেছে। ২০২০ থেকে ২০২৩ এই তিন বছরে দেশজুড়ে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ সংগঠনে লরেন্স বিশ্নোই ও গোল্ডি ব্রারকে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের মার্চেই এনআইএ চার্জশিটে তার নাম তোলে।

তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশে বসেই লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের বিভিন্ন অপারেশনের হদিশ দিচ্ছিল আনমোল। গ্যাংয়ের শ্যুটারদের জন্য আশ্রয়, লজিস্টিক সাহায্য সবই সে বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ করত। এমনকি ভারতীয় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের থেকে চাঁদাবাজির মতো অপরাধেও জড়িত ছিল বলে দাবি এনআইএর।
তার আগমনের সময় বুধবার আইজিআই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যাবহা ছিল কঠোর। কারণ, আনমোলই গত বছরের অক্টোবরে এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকির হত্যাকাণ্ডে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত।
পরিবারের দাবি আনমোলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক কেন্দ্র,
আনমোলের দেশে ফেরার খবর মিলতেই তার কাজিন রমেশ বিশ্নোই প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন করেছেন। এনআইএ কে তিনি বলেন, "আইন নিজের পথে চলবে। আমাদের পরিবার আইন মেনে চলে, তবে দেশের মাটিতে ফিরলে তার নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত করা হয় এই আমাদের একমাত্র দাবি।"
মহারাষ্ট্র পুলিশ জানিয়েছে, আনমোলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক মামলা রয়েছে। কোন সংস্থা আগে হেফাজত পাবে, তা কেন্দ্র নির্ধারণ করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বারবার ঘুরে বেড়ানো আনমোলকে সম্প্রতি কানাডায় রুশ পাসপোর্টসহ আটক করা হয়েছিল, যা নাকি জাল নথির মাধ্যমে তৈরি।
গত বছর নভেম্বরেও তাকে আমেরিকায় আটকে রাখা হয়েছিল। এনআইএ তার মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ১০ লাখ টাকা। ২০২২ সালে পঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডেও তার নাম সামনে আসে।
বাবা সিদ্দিকির ছেলে জিশান সিদ্দিকি বলেছেন, তিনি একটি ইমেল পেয়েছেন যেখানে জানানো হয়েছে যে আনমোলকে "যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরানো হয়েছে" অর্থাৎ তাকে ভারত ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তার কথায়, "ভারতে এনে তার অপরাধের বিচার হওয়াই উচিত।"
২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর রাতে বান্দ্রায় জিশানের অফিসের সামনে গুলি চালিয়ে খুন করা হয় বাবা সিদ্দিকিকে। সেই ঘটনার পর লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এবার হাতকড়া পড়ল লরেন্সের ভাই আনমোলেরও।












Click it and Unblock the Notifications