Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

প্রাণীরাও সংখ্যা বোঝে এবং হিসেব করে - কিন্তু কীভাবে করে, কেন করে?

বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে বিভিন্ন ভাবে সংখ্যার বোধ সৃষ্টি হয়
Getty Images
বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে বিভিন্ন ভাবে সংখ্যার বোধ সৃষ্টি হয়

মানুষ তার জীবনের প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে কোন না কোনভাবে সংখ্যা ব্যবহার করছে। সংখ্যা ছাড়া মানুষের জীবন কল্পনাই করা যায় না।

কিন্তু মানুষ এই সংখ্যার ধারণা বা সংখ্যা বোঝার ক্ষমতা কোথা থেকে পেলো?

গত কয়েক দশকের মধ্যে এটা ছিল একটা গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার যে মানুষ তার সংখ্যা ব্যবহারের ক্ষমতা ভাষা থেকে পায়নি, বরং এটা তার জৈব উত্তরাধিকার থেকেই পাওয়া।

তাই যদি হয়, তাহলে প্রশ্ন: একটা প্রাণীর সংখ্যা বোঝার ক্ষমতার প্রয়োজনটা কী?

যেটা জানা যাচ্ছে তাহলো, একটি প্রাণীর টিকে থাকার জন্য তার সংখ্যা বোঝার ক্ষমতা তাকে এক বড় সুবিধা এনে দেয়।

ঠিক সে কারণেই অনেক ধরণের প্রাণীর মধ্যে এই ক্ষমতা আছে বলে দেখা যায়।

বিভিন্ন প্রাণীকে তাদের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশে পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাদের খাদ্যের উৎসকে কাজে লাগানো, শিকার ধরা, অন্য প্রাণীর শিকার হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানো, তার আবাসভূমির মধ্যে চলাচলের পথ বের করা, এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ - সবক্ষেত্রেই তার সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এই সংখ্যার ধারণা।

ব্যাকটেরিয়াও সংখ্যা বোঝে

এমনকি ব্যাকটেরিয়ার মতো পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন এককোষী প্রাণী - যাদের খালি চোখে দেখা যায় না - তারাও সংখ্যা-ভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করতে পারতো।

ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকে তার আশপাশের পরিবেশ থেকে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন উপাদান খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা নিজেকে ভেঙে ভেঙে বহুগুণ সংখ্যাবৃদ্ধি করে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাইক্রোবায়োলজিস্টরা আবিষ্কার করেছেন যে এই ব্যাকটেরিয়ারও একটা 'সামাজিক জীবন' আছে, এবং তারা তাদের আশপাশে অন্য ব্যকটেরিয়ার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি বুঝতে পারে।

ভালুকের মাছ শিকার : তারা কি মাছ গুণতেও পারে?
Getty Images
ভালুকের মাছ শিকার : তারা কি মাছ গুণতেও পারে?

এটাকে আপনি এভাবেও বলতে পারেন যে তারা ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বুঝতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে সামুদ্রিক ব্যাকটেরিয়া ভিব্রিও ফিশেরি-র দিকে তাকানো যাক।

আলো-ছড়ানো ব্যাকটেরিয়া

এদের একটা বিশেষ ক্ষমতা আছে - তারা অনেকটা জোনাকির মত নিজেদের শরীর থেকে আলো সৃষ্টি করতে পারে, যাকে বলা হয় বায়োলুমিনিসেন্স।

দেখা গেছে, তারা যখন পাতলা পানির দ্রবণের মধ্যে একাকী থাকে, তখন তারা কোন আলো ছড়ায় না।

কিন্তু যখন তাদের সংখ্যা বেড়ে একটা বিশেষ অংকে পৌঁছায় - তখন তারা সবাই এক সাথে আলো ছড়াতে থাকে। তার মানে হচ্ছে ভিব্রিও ফিশেরি বুঝতে পারে কখন তারা একা, আর কখন তার আশপাশে অন্যরা আছে।

এটাও জানা গেছে, তারা এই আলো ছড়ায় একটা 'রাসায়নিক' ভাষা ব্যবহার করে।

সেটা হলো, ব্যাকটেরিয়া থেকে বিশেষ কিছু রাসায়নিক পদার্থের অণু নিঃসরণ হয়। আর পানিতে যখন ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ে, তার অনুপাতে সেই রাসায়নিক অণুর পরিমাণও বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে যখন তা একটা নির্দিষ্ট সংখ্যায় পৌঁছায়, তাকে বলে 'কোরাম।'

'কোরাম' হলেই ব্যাকটেরিয়ারা টের পায়, সেখানে তারা কতজন উপস্থিত আছে - এবং তখন তারা সবাই আলো ছড়াতে থাকে।

জোনাকির মতই একধরণের ব্যাকটেরিয়া্ আছে যারা আলো ছড়াতে পারে
Getty Images
জোনাকির মতই একধরণের ব্যাকটেরিয়া্ আছে যারা আলো ছড়াতে পারে

বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন 'কোরাম সেন্সিং'।

শুধু যে ভিব্রিও ফিশেরির-ই এ ক্ষমতা আছে তা নয়। সব ব্যাকটেরিয়াই নিজেদের মধ্যে তাদের সংখ্যা কত তা জানান দেয়, এবং সে জন্য ব্যবহার করে রাসায়নিক 'সিগন্যালিং অণু'।

এই কোরাম সেন্সিং যে শুধু ব্যাকটেরিয়ারই আছে তা নয়, অন্য অনেক প্রাণীরই এ ক্ষমতা আছে।

সংখ্যা হিসেব করে বাড়ি বদল করে জাপানি পিঁপড়ে

ধরা যাক জাপানী পিঁপড়ের কথা - যার বৈজ্ঞানিক নাম মায়ার্মেসিনা নিপ্পনিকা। এই পিঁপড়েরা যদি বুঝতে পারে যে তাদের কলোনির সংখ্যা একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা বা কোরামে পৌঁছেছে, তাহলে তারা একটা নতুন জায়গায় গিয়ে বসতি স্থাপন করে।

সেই নতুন জায়গাটা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একটা সংখ্যার হিসেব আছে।

এই পিঁপড়েরা যদি দেখে যে নতুন জায়গাটিতে আগে থেকেই একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক পিঁপড়ের বসতি আছে, তাহলেই তারা সবাই মিলে একমত হয় যে নতুন জায়গাটা বসবাসের জন্য নিরাপদ।

সংখ্যা হিসেব করে বাড়ি বদল করে জাপানি পিঁপড়ে
Getty Images
সংখ্যা হিসেব করে বাড়ি বদল করে জাপানি পিঁপড়ে

তার পরই তারা পুরো দল আর বাচ্চাকাচ্চা মিলে বাড়ি বদল শুরু করে।

যে কোন প্রাণীর পথ চিনে চলা এবং ঘুরে ঘুরে খাদ্যের সন্ধানের জন্য সংখ্যার জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মৌমাছিরা পথ চেনে কিভাবে?

দুজন জীববিজ্ঞানী - ম্যারি ডেক এবং মান্ডিয়াম শ্রীনিবাসন - ২০০৮ সালে একটা চমৎকার পরীক্ষা চালিয়েছিলেন মৌমাছিদের নিয়ে।

তারা দেখেছিলেন, কোথাও খাদ্যের সন্ধান পাওয়া গেলে পথের কি কি চিহ্ন দেখে সেখানে যাওয়া যাবে - তার সংখ্যা মৌমাছিরা বুঝে নিতে পারে। এই চিহ্নগুলোর স্থান অদল-বদল করে দিলেও তারা পথ ঠিকই চিনে নিতে পারে।

মৌমাছি তাদের আবাসস্থল অর্থাৎ চাক থেকে খাদ্যের উৎস পর্যন্ত পথের দূরত্ব মাপতে বিভিন্ন ল্যান্ডমার্ক বা পথের কোথায় কি আছে, তার ওপর নির্ভর করে।

এই হিসেবটা তাদের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

মেঠো ইঁদুর খাবার হিসেবে জ্যান্ত পিঁপড়ে পছন্দ করে।

কিন্তু পিঁপড়ে আক্রান্ত হলে কামড় দেয়, তাই তারা শিকার হিসেবে বেশ বিপজ্জনক। দেখা গেছে, এই ইঁদুরকে যদি দু'দল পিঁপড়ের সামনে হাজির করা হয়, তাহলে যে দলটিতে পিঁপড়ের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম, সেটিকেই তারা আক্রমণ করছে।

শিকারী প্রাণীরা তাদের শিকার বা প্রতিপক্ষের সংখ্যা হিসেব করতে পারে
Getty Images
শিকারী প্রাণীরা তাদের শিকার বা প্রতিপক্ষের সংখ্যা হিসেব করতে পারে

এক জরিপে দেখা গেছে, ইঁদুরের ক্ষমতা আছে ৫টি বনাম ১৫টি, ৫টি বনাম ৩০টি, এবং ১০টি বনাম ৩০টির দলের মধ্যে যেটিতে পিঁপড়ে সবচেয়ে কম - সেটাকে বেছে নেবার।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইঁদুর এভাবে সবচেয়ে ছোট পিঁপড়ের দলটিকে বেছে নিচ্ছে, যাতে শিকার করাটা সুবিধাজনক হয়, এবং কামড় খাবার সম্ভাবনাও অনেকটা কমানো যায়।

শিকারী প্রাণীরা শিকার করে হিসেব কষে

যেসব প্রাণী দলবদ্ধভাবে শিকার করে, তাদের ক্ষেত্রেও সংখ্যার বোধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন ধরা যাক নেকড়ে। তারা প্রায়ই বড় প্রাণী শিকার করে - যেমন ইল্ক বা বাইসন জাতীয় মহিষ। এরা লাথি বা গুঁতো মেরে বা পায়ে মাড়িয়ে একটা নেকড়ে মেরে ফেলার শক্তি রাখে।

সে কারণে দেখা যায়, কখন কোন প্রাণী শিকার করা হচ্ছে, সে অনুযায়ী নেকড়ের দলের সদস্য সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

একটা এল্ক শিকারে সাফল্য পেতে হলে নেকড়ের পালে দুই থেকে ছয়জন 'সদস্য' থাকতে হবে।

অন্যদিকে একটা বাইসন সফলভাবে শিকার করতে হলে ৯ থেকে ১৩টি নেকড়ের একটা দল দরকার।

তার মানে শিকারে সাফল্য পেতে হলে এই সংখ্যার হিসেবটা নেকড়েদের বুঝতে হয়।

একপাল সিংহী। তারাও সম্ভাব্য শত্রুর সংখ্যা আন্দাজ করে সিদ্ধান্ত নেয় - লড়াই করবে কিনা
Getty Images
একপাল সিংহী। তারাও সম্ভাব্য শত্রুর সংখ্যা আন্দাজ করে সিদ্ধান্ত নেয় - লড়াই করবে কিনা

অন্যদিকে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রেও একটা দলে কতগুলো প্রাণী আছে, তা গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল জীববিজ্ঞানী ২০০৫ সালে ইউরোপে এক গবেষণা চালান চিকাডি নামে চড়ুইজাতীয় পাখির আচরণের ওপর।

পাখির ডাকের মধ্যে সংখ্যার ইঙ্গিত

সেখানে তারা দেখতে পান যে এই পাখিরা যখন চিল বা প্যাঁচার মতো কোন সম্ভাব্য 'শত্রু' দেখতে পায়, তখন তারা বিশেষ এক ধরনের ডাক দিয়ে অন্য চিকাডিদের সতর্ক করে।

সেই ডাক বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন - এই ডাকের মধ্যে কত বার 'ডি-ডি-ডি' করা হচ্ছে তার সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, সম্ভাব্য শত্রুকে কতটা বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে।

যেমন পাখিটা যদি 'চিক-আ-ডি-ডি' বলে ডাকতে থাকে, তাহলে বোঝানো হচ্ছে সম্ভাব্য শত্রু তেমন বিপজ্জনক নয় - হয়তো একটা ধূসর প্যাঁচা। এরা আকারে বেশ বড় এবং ধীরগতির - তাই ছোট এবং দ্রুতগতির চিকাডির সাথে পেরে ওঠে না।

কিন্তু আশপাশে যদি দ্রুতগতিসম্পন্ন শিকারী পিগমি প্যাঁচা দেখা যায়, তাহলে চিকাডিদের ডাক হয় 'চিক-আ-ডি-ডি-ডি-ডি' অর্থাৎ 'ডি' ধ্বনির সংখ্যা বেড়ে যায় - যা গুরুতর বিপদের সতর্কবাণী।

একটি প্রাণী যদি তার খাদ্যের উৎস বা বিচরণক্ষেত্র একাই রক্ষা করতে না পারে, তাহলে তার কাছে দল এবং সেই দলের কতজন আছে, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ ।

চিকাডি পাখীর ডাকের মধ্যে আছে সংখ্যার ইঙ্গিত
Getty Images
চিকাডি পাখীর ডাকের মধ্যে আছে সংখ্যার ইঙ্গিত

সেই দলকে যদি কোন প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে বিপক্ষ দলটি কত বড় তার আন্দাজটাও টিকে থাকার জন্য জরুরি।

বেশ কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণী নিয়ে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে যুদ্ধের ফলাফল কি হবে, তা অনেক সময়ই নির্ধারিত হয় সংখ্যা দিয়ে।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞানী কারেন ম্যাককম্ব এবং তার সহযোগীরা দক্ষিণ আফ্রিকার সেরেংগেটি জাতীয় উদ্যানের সিংহীদের আচরণের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন যে যখন তাদের গোপন স্পিকার থেকে তাদের দলের বাইরের অন্য একটি সিংহীর গর্জন শোনানো হয়, তখন তারা আক্রমণাত্মকভাবে শব্দ যেদিক থেকে এসেছে সেদিকে ছুটে যায়।

কিন্তু এক সাথে তিনটি সিংহীর গর্জন শোনানো হলে তারা কম আক্রমণাত্মক ভাব দেখায়।

তবে যখন তাদের দলে পাঁচ বা তার চেয়ে বেশি সিংহী থাকে, তখন আবার তারা তিনটি সিংহীর আওয়াজ যেদিক থেকে এসেছে সেদিকে ছুটে যায়।

তার মানে তারা অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যে পাল্টা আক্রমণ করা হবে কি-না।

সামরিক কৌশলবিদ

প্রাণীজগতে মানুষের সবচাইতে নিকট আত্মীয় হচ্ছে শিম্পাঞ্জীরা।

তাদের ওপর একই পদ্ধতিতে একটি গবেষণা চালিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইকেল উইলসন।

তিনি দেখেছেন, শিম্পাঞ্জীদেরকে যখন অন্য শিম্পাঞ্জীদের ডাক শোনানো হচ্ছে, তখন তারা একজন সামরিক কৌশলবিদের মতোই তার নিজ দলের তুলনায় প্রতিপক্ষের শক্তি কতটা - তা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

প্রাণীজগতে মানুষের সবচাইতে নিকট আত্মীয় হচ্ছে শিম্পাঞ্জীরা।
Getty Images
প্রাণীজগতে মানুষের সবচাইতে নিকট আত্মীয় হচ্ছে শিম্পাঞ্জীরা।

এতে দেখা যাচ্ছে, শিম্পাঞ্জীদের দলটি যদি মনে করে যে প্রতিপক্ষের তুলনায় তাদের সদস্য সংখ্যা অন্তত দেড়গুণ বেশি - শুধু তাহলেই তারা যুদ্ধ করতে আগ্রহী হয়।

কারণ জীববৈজ্ঞানিক দিক থেকে তাদের বেঁচে থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর লক্ষ্য হচ্ছে তাদের জিনকে পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয়া।

টেনেব্রিও মলিটর নামে এক ধরণের গুবরে পোকাদের মধ্যে দেখা যায় পুরুষ পোকাটি যত বেশি সম্ভব স্ত্রী-পোকার সাথে যৌনমিলন করছে, এবং এ জন্যে প্রতিযোগিতাও হয় তীব্র।

যৌনমিলনের পর পুরুষ পোকাটি স্ত্রী-পোকাকে কিছু সময় ধরে পাহারাও দেয় - যাতে সে অন্য কারো সাথে মিলিত হতে না পারে। মিলনের আগে পুরুষ পোকাটি যত বেশি সংখ্যক প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবিলা করে - মিলনের পর সে তত বেশি সময় ধরে স্ত্রী পোকাটিকে পাহারা দেয়।

প্রজননের ক্ষেত্রে এই আচরণের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে, এবং এখানেও পুরুষ গুবরে পোকা তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সংখ্যা হিসেব করছে।

শুক্রাণুর প্রতিযোগিতা

কারণ, এর পেছনে যে শুধু যৌনমিলন করতে সফল হবার তাড়নাই কাজ করছে তাই নয় - বরং এখানে আসল পুরস্কারটা হচ্ছে, কার শুক্রাণু দিয়ে স্ত্রী-প্রাণীর ডিম্বাণু নিষিক্ত হচ্ছে, সেটা।

শুক্রাণুর এই প্রতিযোগিতা বিভিন্ন প্রাণীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন আচরণের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেতে দেখা যায়।

কিছু পাখি ডিম ফোটানো এবং বাচ্চাদের বড় করার কষ্টকর কাজটি এড়াতে নানা রকম কৌশলের আশ্রয় নেয়।

এই বিছাদের মধ্যে দেখা যায় একটি পুরুষ-বিছা একাধিক স্ত্রী বিছার সাথে যৌনমিলন করছে।
Getty Images
এই বিছাদের মধ্যে দেখা যায় একটি পুরুষ-বিছা একাধিক স্ত্রী বিছার সাথে যৌনমিলন করছে।

তারা অন্য পাখির বাসায় গিয়ে তাদের ডিমের মধ্যেই নিজের ডিম পেড়ে আসে।

আমেরিকান কুট নামে এক ধরণের পাখি এভাবেই ডিম পাড়ে।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা এদের ওপর গবেষণা চালাতে গিয়ে দেখেছেন যে প্রতিবেশী অন্য পাখিরা নিজেদের ডিম গুণে রাখে - যাতে তাদের বাসায় আমেরিকান কুট ডিম পেড়ে গেলে তা ধরা পড়ে যায়।

বুদ্ধিমান কাউবার্ড

কাউবার্ড নামে আরেক জাতের পাখিও এই একই কাজ করে।

কিন্তু এতে তারা যেন ধরা না পড়ে এবং ডিমটা থেকে যেন সফলভাবে বাচ্চা ফোটে, তা নিশ্চিত করতে তাদের অনেক হিসেব-নিকেশ করতে হয়।

গবেষকরা দেখেছেন, এ জন্য তারা প্রতিবেশী অনেকগুলো পাখির বাসার ওপর নজর রাখে - কে কখন ডিম দিচ্ছে।

কাউবার্ড যেভাবে অন্য পাথীর বাসা ডিম পেড়ে আসার দিনক্ষণ হিসেব করে তা প্রায় অবিশ্বাস্য
Getty Images
কাউবার্ড যেভাবে অন্য পাথীর বাসা ডিম পেড়ে আসার দিনক্ষণ হিসেব করে তা প্রায় অবিশ্বাস্য

তারপর এমনভাবে সময় হিসেব করে, সুযোগ বুঝে, তাদের বাসায় নিজের ডিম পেড়ে আসে, যেন অন্য পাখির বাচ্চা ফোটার সাথে সাথেই তাদের ডিমও ফোটে।

এই হিসেবে ভুল হলে তার ডিমটা ধরা পড়ে যাবে এবং তা নিশ্চিতভাবেই নষ্ট করে ফেলা হবে।

আর যদি বেশি দেরি হয়ে যায়, তাহলে হোস্ট পাখির ডিমে তা দেয়ার সময় শেষ হয়ে যাবে - কাউবার্ডের ডিম ফোটার আগেই।

তার মানে হচ্ছে, সফলভাবে অন্যকে দিয়ে নিজের ডিম ফোটানোর কাজ করাতে হলে একটি কাউবার্ডকে দিনক্ষণ থেকে শুরু করে ডিমের সংখ্যা - সবকিছুরই এক জটিল হিসেব করতে হয়।

কাউবার্ডের মধ্যে মাফিয়া-প্রবণতাও দেখা যায়।

কাউবার্ড
Getty Images
কাউবার্ড

অন্য পাখিরা তার ডিম ভেঙে দিলে এরা নিজেরা আবার অন্য পাখির ডিম ঠুকরে ফুটো করে দিয়ে আসে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সংখ্যার এই বোধ জীবনধারণ ও বংশবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সব প্রাণীই এ ক্ষমতাকে কোন না কোনভাবে ব্যবহার করে।

তারা আরো বলছেন, বিবর্তনবাদের দিক থেকে এ ক্ষমতার উৎস যাই হোক না কেন, একটা বিষয় প্রায় নিশ্চিত যে এটি এমন এক ক্ষমতা, যার সাথে প্রাণীদের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেবার প্রক্রিয়ার সম্পর্ক আছে।

(টিউবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক এ্যান্ড্রেয়াস নিডারের এই নিবন্ধটি এমআইটি প্রেস রিডারে প্রথম প্রকাশিত হয়, যা অনুমতি নিয়ে পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে। )

আরো পড়তে পারেন:

পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে আবারও বাঘ ছাড়ার চিন্তা, সমীক্ষা প্রস্তাবের অনুমোদন

পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণীগুলো

মহাসাগরের নিচে খোঁজ মিলেছে 'অতিদানব তেলাপোকা'র

আমাজনের এক চা চামচ মাটিতে মেলে যত হাজার প্রাণ

করোনাভাইরাসের জন্য বাদুড় আসলে কতটা দায়ী?

BBC
More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+