'সবাই তো আমরা সরকারি চাকরি করিনা' - দ্রব্যমূল্য নিয়ে ক্ষোভ আর হতাশা
শুক্রবার সকাল ১০টায় মহাখালী কাঁচাবাজার। শুক্রবার সকাল ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে যতটা ভিড় থাকে, আজ সেটা দেখা যায়নি। হাতে গোনা যেসব ক্রেতা দেখা গেল, তারা তীব্র দামাদামিতে ব্যস্ত।
বাজার করতে এসেছেন স্কুল শিক্ষক আব্দুল মোমেন। জিনিসপত্রের দাম নিয়ে কথা বলতে গেলেই একরাশ হতাশা প্রকাশ করলেন তিনি।

"পাঁচশ টাকার মাছ ৮০০ টাকা, ৪০ টাকার সবজি ৮০ টাকা। সবকিছুতে নাভিশ্বাস উঠে গেছে আমাদের। এটা বলে শেষ করা যাবে না। সামান্য কয়েকটা জিনিস বাজার করে নিয়ে যাচ্ছি," বলেন মি. মোমেন।
জিনিসপত্রের দাম নিয়ে বাজার জুড়ে শুধুই হতাশা আর ক্ষোভ। ভোজ্য তেল থেকে শুরু করে সবজি - দাম বাড়েনি এমন জিনিস খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এ বৃদ্ধি ছোটখাটো বৃদ্ধি নয়, বেশ বড় আকারের বৃদ্ধি।
মহাখালী বাজারে আরেক ক্রেতা রিটা আক্তার জানালেন, যে টাকা নিয়ে তারা বাজার করতে এসেছেন সেটি দিয়ে কোন হিসেব মেলাতে পারছেন না।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জিনিসপত্রের দাম প্রতিমাসেই বাড়তেছে। ৪৫০ টাকা পাঁচ লিটার তেল এখন হইছে ৮০০ টাকা।"
বিক্রেতারাও বলছেন, গত একমাস যাবত জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সজীব মিয়া একটি ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করেন।
বিবিসি বাংলায় সম্পর্কিত আরো খবর:
চাল-ডাল-তেলসহ ৫ টি পণ্যের দাম গত ৫ বছরে যেভাবে বেড়েছে
বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কেন, কী বলছে সরকার?
খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে, চাপে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা
'ফকিন্নির বাজার' আর টিসিবির ট্রাকের লাইনে কম রোজগেরেদের ভিড়
তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে একেক সময়ে একেক রকম দাম।
"শসা আগে কিনছিলাম ৩০ টাকা কেজি। আজকে কিনছি ৪৫ টাকা। কাঁচা মরিচ পাঁচ কেজির এক পাল্লা ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা ছিল। এখন সেইটা আড়াইশ থেকে তিনশ টাকা হয়ে গেছে," বলেন সজীব মিয়া।
কয়েকদিন আগেই তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও মানুষের আয়ও বেড়েছে। ফলে ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কিন্তু ঢাকার বাজারগুলো ঘুরে এ দাবির পক্ষে কোন যুক্তি পাওয়া গেল না। ঢাকার বনানী বাজারের কয়েকজন ক্রেতা বলছিলেন, ব্যয় সামাল দিতে এখন ক্রয় কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
এদের মধ্যে একজন আজিজুল ইসলাম। তিনি মনে করেন, যারা সরকারি চাকরি শুধু তারাই বাজারের সাথে তাল মেলাতে পারছে।
"সবাই তো আমরা সরকারি চাকরি করিনা। যারা সরকারি চাকরি করে তাদের বেতনও ভালো, ইনকামও ভালো। আমরা যারা প্রাইভেট চাকরি করি, আমরা মোটেও ভালো নেই," বলেন মি. ইসলাম।
বিবিসি বাংলায় আজকের আরো খবর:
কিয়েভের কাছে অবস্থান নিচ্ছে রুশ সেনাবহর
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তুরস্কের ভূমিকা আসলে কী
কিডনির অসুখ সম্পর্কে খালি চোখে বোঝার কোন উপায় আছে?
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত বাজার মনিটরিং বা পর্যবেক্ষণের দাবি করছে।
ঢাকার কোন কোন বাজারে মাঝে মধ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করে।
কিন্তু বনানী বাজারের একজন বিক্রেতার অভিযোগ হচ্ছে, এসবই লোক দেখানো বিষয়। কারণ, মজুতদারদের উপর কেউ হাত দিতে চায় না
একজন বিক্রেতা বলেন, "আমরা যেভাবে কিনি সেভাবে বিক্রি করি। আমরা কি আর বেশি দামে বিক্রি করতে পারবো?"
" আমি তো এক বস্তা আনি। তারা (বড় ব্যবসায়ী) তো টনে টন মজুত করে লুকায় রাখছে।"
সাধারণ মানুষ বলছেন,যেভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, তাতে জীবন থমকে যাবার উপক্রম হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই ঊর্ধ্বগতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে - সেটি ভেবে তাদের মধ্যে আরো আতঙ্ক আর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications