পৃথিবীর পাশ দিয়ে ২৪ হাজার কিমি বেগে ধেয়ে যাবে আইফেল টাওয়ারের থেকেও বড় গ্রহাণু
ঘণ্টায় ২৪ হাজার কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর পাশ দিয়ে ধেয়ে যাবে গ্রহাণু নেরিয়াস। শনিবার ১১ ডিসেম্বর তা পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসছে। এবং পৃথিবীর পাশ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। গ্রহাণুটি পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল।
ঘণ্টায় ২৪ হাজার কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর পাশ দিয়ে ধেয়ে যাবে গ্রহাণু নেরিয়াস। শনিবার ১১ ডিসেম্বর তা পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসছে। এবং পৃথিবীর পাশ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। গ্রহাণুটি পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সেই আশঙ্কা কাটিয়ে পৃথিবীর থেকে গ্রহাণুটির দূরত্ব চাঁদের দূরত্বের থেকে প্রায় ২০ গুণ।

প্রতি শতাব্দীতে কয়েকবার পৃথিবীর কাছাকাছি আসে
এই গ্রহাণুটি প্রতি শতাব্দীতে কয়েকবার পৃথিবীর কাছাকাছি আসে। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা নেরিয়াসের দিকেও তাদের সজাগ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে৷ মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কিছু রিপোর্ট অনুসারে, ওই মহাকাশ শিলাটির মূল্য আনুমানিক ৫ বিলিয়ন ডলার। নেরিয়াস প্রতি ৬৬১ দিনে সূর্যের চারপাশে একবার প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করে। শনিবারের পর ২০৬০ সালে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে, যখন নেরিয়াস মাত্র তিনটি চন্দ্র-দূরত্ব অতিক্রম করবে।

খালি চোখে কি দেখা যাবে গ্রহাণুর বিদ্যুৎ গতিতে উড়ে যাওয়ার দৃশ্য
পৃথিবীর আকাশে খালি চোখে কি দেখা যাবে গ্রহাণুর বিদ্যুৎ গতিতে উড়ে যাওয়ার দৃশ্য। বি্জ্ঞানীরা বলছে, এটা খালি চোখে দেখা যাবে না। আপনি এটা দেখতে পাবেন, শুধুমাত্র আপনার কাছে কমপক্ষে একটি ৮ ইঞ্চি বা ২০ সেন্টিমিটার বা তার থেকে বড় টেলিস্কোপ থাকলে।

খুব আকর্ষণীয় বস্তু হিসেবে উল্লেখ গ্রহাণু নেরিয়াসকে
জ্যোতির্বিজ্ঞানী আলেসান্দ্রো মার্চিনি আর্থস্কাইকে ইমেল করে বলেছেন, সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার গ্রুপ এই সপ্তাহে গ্রহাণু ৪৬৬০ নেরিয়াস পর্যবেক্ষণে কিছু সময় কাটিয়েছে। তিনি এটিকে খুব আকর্ষণীয় বস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গ্রহাণুগুলি আমাদের গবেষণা ক্ষেত্রগুলির মধ্যে একটি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের উজ্জ্বলতার পরিবর্তনগুলি বিশ্লেষণ করে আমরা তাদের আকৃতি এবং তাদের ঘূর্ণন সময়কাল অনুমান করতে পারি।

গ্রহাণু নেরিয়াস ঘণ্টায় কত গতিবেগে উড়ে আসছে
তিনি বলেন, আমি ৭ ডিসেম্বর গ্রহাণু নেরিয়াসকে নক্ষত্রের মধ্যে ভিড়ের মধ্যে আমাদের টেলিস্কোপ দিয়ে তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে একটি টাইম-ল্যাপস ভিডিও তৈরি করেছি। সেখান থেকে সংগৃহীত চিত্রগুলি নিয়ে মহাকাশ উদ্যোক্তারা এটির দিকে নজর রাখছেন। এই গ্রহাণু নেরিয়াস ঘণ্টায় ১৪৭১৯ মাইল বা ২৩৬৮৮ কিলোমিটার বেগে ভ্রমণ করে।

মহাকাশযান এই গ্রহাণুর সঙ্গে আরও সহজে মিলিত পারবে
নেরিয়াস প্রকৃতপক্ষে অন্যান্য অনেক গ্রহাণুর তুলনায় একটি ধীর গতির মহাকাশ শিলা। যারা ভবিষ্যতে একটি রোবোটিক মহাকাশযান পাঠাতে চান তাদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম গতি সুবিধা দেবে। ধীর গতি মানে একটি মহাকাশযান গ্রহাণুর সঙ্গে আরও সহজে মিলিত হতে পারে। ২০০৯ সালে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা নেরিয়াসকে একটি মিশনের জন্য আদর্শ বলে মনে করেছিলেন। একটি রোবোটিক মহাকাশযানের নেরিয়াসের চারপাশে কক্ষপথে প্রবেশ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে।












Click it and Unblock the Notifications