জেনেভায় পরমাণু আলোচনা শুরুর মাঝেই ট্রাম্পকে খামেনির চ্যালেঞ্জ, ইরানকে কখনও নির্মূল করা যাবে না

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে নতুন দফার আলোচনা শুরু হতেই কড়া বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। জেনেভায় পরোক্ষ বৈঠক শুরুর প্রেক্ষাপটে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে, "ইরানকে কখনও নির্মূল করা যাবে না।" তাঁর দাবি, পৃথিবীর তথাকথিত 'সবচেয়ে শক্তিশালী' সেনাবাহিনীও এমন আঘাত পেতে পারে, যেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের পরমাণু টানাপোড়েন মেটাতে জেনেভায় শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা। বৈঠক শুরুর আগেই ট্রাম্প আশাবাদী সুরে বলেছিলেন, তেহরান সমঝোতার পথে হাঁটতে আগ্রহী। তবে খামেনেই সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে পরপর চারটি বার্তায় তিনি আমেরিকার সামরিক শক্তিকে কটাক্ষ করেন ও ইরানের আশপাশে মার্কিন নৌ সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেন।

খামেনি লেখেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার বলেন তাঁদের সামরিক শক্তি বিশ্বের সবচেয়ে বড়। কিন্তু সেই শক্তিও এমন আঘাতে বিধ্বস্ত হতে পারে, যাতে আর উঠে দাঁড়াতে না পারে।"

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যুদ্ধজাহাজ অবশ্যই বিপজ্জনক। তবে তার থেকেও বেশি বিপজ্জনক সেই অস্ত্র, যা মুহূর্তে সেই জাহাজকে সাগরের তলায় পাঠাতে পারে।"

ট্রাম্পের অতীত মন্তব্য টেনে খামেনি আরও বলেন, "৪৭ বছরেও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক রিপাবলিককে সরাতে পারেনি এটা একরকম স্বীকারোক্তি। আমিও বলছি, ভবিষ্যতেও পারবেন না।" তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট শুধু সামরিক শক্তি দেখিয়ে ইরানকে দমিয়ে রাখা যাবে না।

মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার জেনেভায় আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। বৈঠক হচ্ছে পরোক্ষভাবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের বার্তা আদানপ্রদান হবে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি "পরোক্ষভাবে" এই আলোচনায় যুক্ত থাকবেন। অতীতে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "চুক্তি না হলে তার পরিণতি ভালো হবে না। আমরা চাই সমঝোতা হোক, কিন্তু প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হব না।"

এর আগে প্রথম দফার বৈঠক হয়েছিল ৬ ফেব্রুয়ারি, আরব উপদ্বীপের পূর্ব প্রান্তের সুলতানাত ওমানে। সেখানে এমন প্রোটোকল মানা হয়েছিল যাতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের সরাসরি মুখোমুখি হতে না হয়। মার্কিন পতাকাবাহী গাড়িবহর নাকি তখনই বৈঠকস্থলে প্রবেশ করে, যখন ইরানি প্রতিনিধিরা স্থান ত্যাগ করেছিলেন।

জেনেভার এই দফার আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিন্যাস এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে খামেনি তীব্র বার্তা ও ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা দুই পক্ষের অবস্থান যে এখনও দূরত্বে, তা স্পষ্ট। এখন নজর জেনেভার টেবিলে বাকযুদ্ধ কি গলবে কূটনীতির উষ্ণতায়, নাকি আরও বাড়বে সংঘাতের শীতলতা?

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+