জিনপিংকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক! মানবাধিকার নিয়ে চিনের উপর চাপ সৃষ্টি রাষ্ট্রসংঘে
রাষ্ট্রসংঘ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে সরব হলেন উইঘুর মুসলিমরা। ওই অভিযোগে চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং সহ ৩০ জনের বেশি কর্মকর্তাকে বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়েছে। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম, যদিও আইসিসির বিচারব্যবস্থা চিন স্বীকার করে না।

উইঘুর মুসলিম নির্যাতনের কাহিনী
চিনের জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিম নির্যাতনের কাহিনী বহু পুরোনো। জিনজিয়াং কাগজে কলমে স্বায়ত্তশাসিত হলেও, চিনের সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। এই অঞ্চলের শহরগুলোর ভেতর দিয়েই গেছে সিল্ক রোড, তাই শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে জিনজিয়াং এর অর্থনীতি কৃষি ও বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। জন্ম নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ধর্ম পালন করায় বাধা সহ একাধিক নির্যাতনের সম্মুখীন এখানকার মানুষরা।

চিনের অন্তর্গত জিনজিয়াং প্রদেশ
বিংশ শতাব্দির শুরুর দিকে উইঘুররা নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৯৪৯ সালে চিনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কিছুদিন পর চিনের কমিউনিস্ট সরকার উইঘুরদের বৃহত্তর চিনের সাথে যোগ দেয়ার প্রস্তাব জানায়। প্রস্তাব মেনে না নেয়ার পর থেকে শুরু হয় উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতন। তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়। ধর্মীয় প্রার্থনালয় ভেঙে দেওয়া হয়।

উইঘুরদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ
উইঘুরদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এক মূল মন্ত্র হল তাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা। আর এই বিষয়ে চিনে সরকার বেশ কঠোর। দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে গরিব উইঘুরদের থেকে বড় পরিমাণে জরিমনা নেওয়া হয়। এর জেরে ১৯৪৯ সালে জিনজিয়াং এ যেখানে উইঘুর মুসলিমদের সংখ্যা ছিল ৯৫ শতাংশ, ১৯৮০ সালের মধ্যেই তা ৫৫ শতাংশে নেমে আসে। এছাড়া ২০১৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে চিনের 'সন্ত্রাসবাদ' কেন্দ্রগুলিতে আটক রাখা হয়েছে।

পূর্ব লাদাখে ভারতীয় সেনা সমারোহ
এদিকে এই পরিস্থিতিতে লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিন সেনা সমারোহ বাড়ার সঙ্গেই ভারতও কিন্তু সমরসজ্জা শুরু করে দিয়েছে। সেনা বাহিনীর তিনটি ডিভিশনকে মোতায়েন করে, ভারতও শক্তি বাড়িয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাংকও ক'দিন হল নিয়ে আসা হয়েছে পূর্ব লাদাখে। বর্তমানে লাদাখে ৪৫ হাজার সেনা রয়েছে বলে খবর।

বড় ফ্যাক্টর জিনজিয়াং
তিব্বত থেকে জিনজিয়াং প্রদেশে যাওয়ার মসৃণ পথ আকসাই। যদি, এই পথটি কোনও ভাবে ভারতে আটকে দেয়, তবে চিনকে কারাকোরাম হয়ে বিকল্প পথে পৌঁছতে হবে। এখন ভারত যদি আকসাই চিনের দিকে এগোয়, জিনজিয়াং প্রদেশের উপর থেকে চিনের দখল হারিয়ে ফেলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এই জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের উপর চিনা সরকারের অত্যাচারের বিষয়ে সারা বিশ্ব অবগত।












Click it and Unblock the Notifications