কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে জ্বলছে আমেরিকা, কার্ফু জারি হয়েছে ৪০টি শহরে
কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে জ্বলছে আমেরিকা, কার্ফু জারি হয়েছে ৪০টি শহরে
২৫ মে মৃত্যু পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয় কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের। তারপর থেকেই তাঁর মৃত্যুর বিচারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর। শুক্রবার এই বিক্ষোভ চলে আসে হোয়াইট হাউস চত্ত্বরের কাছে। যার ফলে প্রেসিডেন্টের সুরক্ষার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের মধ্যে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের। পুলিশ–বিক্ষোভকারাদের সংঘর্ষ রুখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান শহরে কার্ফু জারি করে দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারস্টেট ৩৫–এর পশ্চিমদিকের রাস্তা থেকে বিক্ষোভকারীরা আসার সময় তাঁদেরকে একটি ট্রাক ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় ওই রাস্তায় যানজট বন্ধ করে দেওয়া হয়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে মিনেসোটা পুলিশ ট্রাক চালককে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আগেই তাঁকে ট্রাক থেকে টেনে বের করে মারধর করে বিক্ষোভকারীরা। এক সংবাদ সংস্থার ছবিতে দেখা গিয়েছে যে ট্রাক চালকের শরীরে কোনও পোশাক নেই এবং তিনি মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন পুলিশের পাশে। মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অফ পাবলিক সেফটি টুইটারে বলে, 'আই–৩৫ডব্লিউতে ট্রাক চালকের ঘটনা খুবই বিরক্তিকর। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের এভাবে প্ররোচিত করা। ট্রাক চালকটি আহত হয়েছেন এবং তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও ট্রাকের ধাক্কায় কোনও বিক্ষোভকারী আহত হয়নি।’
পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীনই কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়, আর তারপর থেকেই ওই ঘটনার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মানুষের ক্ষোভ দানা বাঁধছে। রবিবার ছিল সেই বিক্ষোভের সপ্তম দিন। মিনেসোটার ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির কমিশনার জন হ্যারিংটন বলেন, 'গত সোমবার অর্থাৎ ২৫ মে হ্যান্ডকাফ পরা ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে কমপক্ষে পাঁচ মিনিট চেপে ধরে থাকেন ডেরেক শভিন নামের শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা। ওই কৃষ্ণাঙ্গকে পুলিশ যে অত্যাচার করেছে তা পথচারীরা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।’ লকডাউনের সপ্তাহ চলাকালীনই বিক্ষোভকারীরা এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। করোনা মহামারি যা এই দেশের লক্ষ মানুষকে আক্রান্ত করেছে তা জানা সত্ত্বেও কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের মৃত্যুর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে মানুষ।
শনিবার রাতে দেশের বিভিন্ন শহরে এই বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। গাড়ির জানলা ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা, পুলিশ বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেটস ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে। কিছু কিছু এলাকায় নীরব দর্শক ও সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করা হয়। মিনেসোটা, নিউইয়র্ক এবং আটলান্টায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ইতিমধ্যেই বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানী ওয়াশিংটন–সহ দেশের অন্তত ৪০টি শহরে জারি হয়েছে কার্ফু। একই সঙ্গে ২৫টি রাজ্যে পাঁচ হাজার নিরাপত্তা বাহিনী বলবৎ করা হয়েছে। এছাড়াও অতিরিক্ত দু’হাজার সেনাকে তৈরি রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলেই তাঁদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে












Click it and Unblock the Notifications