আব্দুল কাদের খান: চুরির অভিযোগের পরেও শ্রদ্ধেয় পাকিস্তানের পরমাণু বোমার জনক

আব্দুল কাদের খান: চুরির অভিযোগের পরেও শ্রদ্ধেয় পাকিস্তানের পরমাণু বোমার জনক

করোনা পরবর্তী শারীরিক অসুবিধায় মৃত্যু হয়েছে পাকিস্তানের পরমানু বোমার জনক (father of nuclear bomb) আব্দুল কাদের খানের (abdul qadeer khan)। তাঁকে বলা হত পাকিস্তানের পরমানু বোমার জনক। বলা হয়, তিনি একক প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের (pakistan) জন্য পরমানু বোমা তৈরি করেছিলেন। যে কারণে পাকিস্তান নিজেদের ভারতের সমকক্ষ বলে দাবি করে থাকে।

ভোপাল থেকে পাকিস্তানে

ভোপাল থেকে পাকিস্তানে

১৯৩৬ সালে ভোপালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আব্দুল কাদের খান। দেশভাগে স্বাধীনতায় পরিবারের সঙ্গে তিনি চলে যান পাকিস্তানে। পাকিস্তানে তিনি দেশপ্রেমিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু পারমানবিক প্রযুক্তি চুরি করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যা দেশকে বদমান করার শামিল। বিষয়টিকে অবশ্য তিনি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বলেও বর্ণনা করেছিলেন।

পেয়েছিলেন দেশের সর্বোচ্চ সম্মান

পেয়েছিলেন দেশের সর্বোচ্চ সম্মান

দেশের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান নিশান-ই-ইমতিয়াজ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল তাঁকে। এছাড়াও তাঁকে বহসিন-ই-পাকিস্তান সম্মানও দিয়েছিল দেশের সরকার। দেশের মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন হিরো।

উপেক্ষা করা হয়েছিল

উপেক্ষা করা হয়েছিল

যদিও দেশেরই উপেক্ষার পাত্র হয়ে উঠেছিলেন আব্দুল কাদের খান। পাকিস্তান পরমানু শক্তি কমিশনে, তাঁর সহকর্মীরা তাঁর পারমানবিক প্রমাণপত্র নিয়ে উপহাস করেছিলেন। কেননা তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ার। ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানে যখন প্রথমবার পারমানবিক বোমার পরীক্ষা করা হয়, সেই সময় তিনি সেই দলের প্রধানও ছিলেন না। তবে তিনি চাঘাইয়ে উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত চাঘাইয়ে পাকিস্তানের সেই পারমানবিক বোমার পরীক্ষা করার পরেই ভারত পোখরানে বিস্ফোরণ ঘটায়।

প্রযুক্তি বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে

প্রযুক্তি বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে

কবে ২০০৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের শাসক জেনারেল মুশারফকে আমেরিকা তথ্য দিয়ে অভিযোগ করে আব্দুল কাদের খান লিবিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের কাছে পারমানবিক প্রযুক্তি বিক্রি করছেন। সেই সময় মুশারফ বাধ্য হন আব্দুল রাদের খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। এরপরেই আব্দুল কাদের খানও জাতীয় টেলিভিশনে ভুলের কথা স্বীকার করেন। তাঁকে ক্ষমা করে দিলেও প্রেসিডেন্ট মুশারফ তাঁকে গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন। যদিও দেশের মানুষের কাছে এই ভুলের কোনও প্রভাব ছিল না। কেননা তাঁকে হিরো বলেই মেনে নিয়েছিলেন তাঁরা।

১৯ ৭৫ সালে ভারত যখন প্রথম পারমানবিক অস্ত্র তৈরি করে, সেই সময় আব্দুল কাদের খান হলান্ডের একটি ইউরেনিয়াম ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। এরপরেই তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের প্রস্তাব রাখেন দেশের জন্য। যদিও যে সংস্থায় তিনি কাজ করতেন, সেই সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই পাকিস্তানে চলে আসেন। ১৯৭৬ সালে তিনি পাকিস্তানের অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনে যোগদান করেন। এরই মধ্যে তাঁকে ডাচ কোর্ট দোষী সাব্যস্ত করে জেলের নির্দেশ দেয়।
আব্দুল কাদের খান দাবি করেছিলেন, ১৯৯৮ সালের ১০ বছর আগেই পাকিস্তানের হাতে পারমানবিক বোমার প্রযুক্তি এসে গিয়েছিল। যা ১৯৮৭ সালে ভারতীয় সাংবাদিক কুলদীপ নায়ারকে বলেছেন, আমেরিকা পুরো বিষয়টি জানে। তবে আমেরিকার সাহায্য বন্ধের ভয়েই নিজেদের শক্তি তাঁরা প্রকাশ করছেন না বলে জানিয়েছিলেন।

২০০৯ সালে মুক্তি

২০০৯ সালে মুক্তি

২০০৮ সালে জেনারেল মুশারফ পাকিস্তানের শাসকের পদ থেকে সরানো হয়। সেই সময় তৎকারীন পিপিপি সরকারের ওপরে আব্দুল কাদির খানকে মুক্ত করার ব্যাপারে প্রবল চাপ তৈরি হয়। যার জেরে ২০০৯ সালে তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন সরকার। তবে তাঁর মুক্ত হওয়ার পিছনে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। পাশাপাশি আমেরিকার কাছে এব্যাপারে মুচলেকাও দিতে হয়েছিল পাকিস্তান সরকারকে।

খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+