দেওয়াল লিখন স্পষ্ট, আস্থা ভোটের আগে সমর্থকদের পাকিস্তানের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ডাক ইমরান খানের

পাকিস্তানে ইমরান খানের সরকারের মেয়াদ শনিবার কার্যত সমাপ্ত হতে চলেছে। পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেদেশের সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে এভাবে অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল করা যায় না। ইমরান খানকে আস্থা ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। তারপরই একপ্রকার দেওয়াল লিখন অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

পাকিস্তানের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ডাক ইমরান খানের

অর্থাৎ এবারের মতো পাকাপাকিভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর গদিতে থেকে সরে যেতে হবে ইমরান খানকে। কারণ শনিবার আস্থা ভোট হবে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে। এবং সেখানে জেতার মতো সংসদ সংখ্যা ইমরান খানের হাতে নেই। আর সেই জন্যই পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেও নতুন করে দলের সদস্য-সমর্থকদের লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন ইমরান খান।

তিনি জানেন যে শনিবার আস্থা ভোটে তাঁর পরাজয় নিশ্চিত। আর সেজন্যই রবিবার সন্ধ্যায় দলের সদস্য সমর্থকদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হতে ডাক দিয়েছেন ইমরান খান।

এই মুহূর্তে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের ৩৪২ টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ১৭২ টি আসন। ইমরান খানের দলের কাছে রয়েছে মাত্র ১৬৪ টি আসন এবং বিরোধী জোটের কাছে রয়েছে ১৭৭ টি আসন।

এদিন নিজের দেশের অবস্থা বোঝাতে গিয়ে ভারতের প্রসঙ্গ টেনে আনেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, কোনও সুপার পাওয়ার ভারতকে দমিয়ে রাখতে পারে না। রাশিয়া ইস্যুতে ভারত কোনও পক্ষের সমর্থনে না দাঁড়ালেও তাদের কেউ প্রশ্ন করতে পারে না। অথচ পাকিস্তানকে বারবার কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়। আমার রাশিয়া সফর নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অখুশি ছিল। এদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে ইমরান খান বলেন, পাকিস্তান কোনও টিস্যু পেপার নয় যে যখন ইচ্ছে তাদের ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া যায়।

সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে তিনি বিষণ্ণ। যদিও তিনি আইন ব্যবস্থাকে সম্মান করেন এই জানিয়ে ইমরানের বলেছেন, বিদেশি ষড়যন্ত্রের যে প্রমাণ পেশ করা হয়েছিল তা সুপ্রিম কোর্টের খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। এবং তা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া যেত। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি শক্তির কাছে দেশের কিছু নেতা বিকিয়ে গিয়েছেন। তবে কোনওভাবেই হেরে ময়দান থেকে পালিয়ে যাবেন না বললেও আস্থা ভোটের আগে হুঙ্কার দিয়েছেন ইমরান খান।

২০১৮ সালে অনেক প্রত্যাশা জাগিয়ে নতুন পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখিয়ে সরকারে আসেন ইমরান খান। তবে তিনি চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন বলে বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বেলাগাম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি কোনওভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তাঁর সরকার। আর সেজন্যই মে মাসের শেষে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে বিরোধী নেতা শাহবাজ শরিফ ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। গত ৩ এপ্রিল জাতীয় সংসদে আস্থা ভোট হওয়ার কথা ছিল। যদিও ডেপুটি স্পিকার এই অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল করে দেন। এর বিরুদ্ধে বিরোধীরা সুপ্রিম কোর্টে গেলে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব অসাংবিধানিক নয়। আস্থাভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে ইমরান খানকে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+