ভেনেজুয়েলার পর গ্রিনল্যান্ড? নিরাপত্তার অজুহাতে আর্কটিক দ্বীপে নজর ট্রাম্পের
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এল গ্রিনল্যান্ড। রবিবার এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিলেন, আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য "অত্যন্ত জরুরি"।
ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজন মূলত তার প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য নয়, বরং কৌশলগত অবস্থানের জন্য। তাঁর কথায়, "গ্রিনল্যান্ড আমাদের একেবারেই দরকার।" একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দ্বীপটির চারপাশে রাশিয়া ও চিনের জাহাজের উপস্থিতি বেড়ে চলেছে, যা আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা হয়তো শেষ দেশ নয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে। তাঁর মতে, পশ্চিম গোলার্ধকে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির প্রভাব থেকে রক্ষা করাই আমেরিকার প্রধান দায়িত্ব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলছে। এর জেরে নতুন সমুদ্রপথ খুলে যাচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে সামরিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও চিনের তৎপরতা বাড়ায় গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত মূল্য আরও বেড়েছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
উল্লেখ্য, গত বছরও ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র একদিন গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ পাবে ও দ্বীপটির প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দা "আমেরিকার সঙ্গেই থাকতে চান"। এর আগেও, ২০১৯ সালে প্রথম দফার প্রেসিডেন্সির সময় গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছিলেন তিনি। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ "একান্ত প্রয়োজন"।
উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি অবস্থিত গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে মার্কিন থুলে এয়ার বেস, যা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতীতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের বিরল খনিজ, তেল ও গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডারের কথাও উল্লেখ করেছিলেন, যা মার্কিন সরবরাহ শৃঙ্খল ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁর দাবি।
সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলার পর এবার গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়াল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।












Click it and Unblock the Notifications