আফগানিস্তানে তালিবানি জমানা ফের শুরু! পরবর্তী সময়ে কোন সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের প্রতিদেশীকে ঘিরে
কার্যত বিভীষিকার মতো করে গোটা আফগানিস্তান দখল করে নিয়েছে তালিবান। সেদেশে তালিবান শাসনের পূর্ব স্মৃতি বলছে, কেবলই খুন, রক্তপাত, ধর্ষণ, নারকীয় যৌন অত্যাচারের কথা। সেই স্মৃতি মনে করে অনেকেই ত্রস্ত। দেখা যাচ্ছে , মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ছাড়ার প্রক্রিয়া শেষ না করতেই ২ সপ্তাহ আগে থেকেই সেদেশে তালিবানের নারকীয় প্রবৃত্তি শুরু হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকির মৃত্যু তার একটি উদাহরণ। এই পরিস্থিতিতে আগামীকে তালিবানের দাপটের হাত ধরে আফগানিস্তানের বুকে কী অপেক্ষা করে আছে দেখা যাক।

১৯৯০ সালের শেষের দিকে আফগানিস্তানের বুকে তালিবানের উত্থান শুরু হয়। তারপর আবার ২০২১ সালে তালিবান মাথাচাড়া দিয়ে গোটা আফগানিস্তান দখলে রেখেছে। এর মাঝে ২০০১ সালে আফগানিস্তানের বুক থেকে কার্যত তালিবানকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাবুলের বুকে নামে মার্কিন সেনা। এরপর ২০ বছরে আফগানিস্তানে গণতন্ত্রের শাসন প্রতিষ্ঠা ছিল। সেখানে নির্দিষ্ট নিয়মে গঠিত হয়েছে সরকার। এই তালিবানি শাসন ঘিরে রীতিমতো ত্রস্ত আফগানিস্তানের আম জনতা। আর সেই কারণেই তালিবান শাসনের আশঙ্কায় হু হু করে দেশ ছাড়ছেন আফগানবাসী। সেখানে রাতারাতি বন্ধ করা হয়েছে কাবুল বিমানবন্দর। অনেকেই মনে করছেন যে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ইসলামিক আইন যেভাবে সেদেশে প্রবর্তিত হয়, তার হাত ধরে ফের একবার তালিবান আফগানিস্তানে প্রচলন করতে পারে পুরনো ইসলামিক আইন। ১৯৯৬ সাল থেকে যখন তালিবান ২০০১ পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছে তখন সেখানে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মহিলাদের তালিবান আমলে বাধ্য করা হয়েছিল বোরখা পরতে। যাঁরাই পরকীয়ায় অভিযুক্ত হতেন তাঁদের পাথর মেরে নেরে ফেলা হত। গান শোনা নিষিদ্ধ ছিল তলিবানের দখলে থাকা আফগানিস্তানের বুকে। এছাড়াও চোরদের হাত সেই সময় কেটে দেওয়া হত। তবে সেই জায়গা থেকে বহু তালিবান দাবি করছেন যে এখনের তালিবান আর পুরনো তালিবানে অনেক ফারাক রয়েছে। এখনের সংগঠন তেমন নারকীয় নয়।
বহু বছর ধরে আফগানিস্তানের বুকে তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে আমেরিকা। এরপর বহুদিন ধেরই আমেরিকা নিজের সেনা আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে আনতে চায়। কারণ ততদিনে সেখানে পর পর সরকার গঠন হয়ে গিয়েছে। তবে সেদেশ থেকে সরে গেলেও আমেরিকা বহুদিন ধরেই আফগান সেনাবাহিনীকে যাবতীয় অস্ত্র ও যুদ্ধের সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এদিকে, আফগানস্তানের ফোর্সকে ন্যাটো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাবতীয় সহযোগিতা দিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। কয়েক বিলিয়ন ডলার আমেরিকা আফগান ফোর্সকে তৈরি করতে ব্যয় করেছিল। তবে শোনা যায় আফগান সেনার মধ্যে এতটাই দুর্নীতি ছিল যে তার ফলে আমেরিকা থেকে আসা টাকা কার্যত আত্মসাৎ হয়ে যায়।
এদিকে, দেশ যখন বিপর্যস্ত, কাবুল কার্যত নিজেকে আফগান বাহিনীর হাতে অসহায় আত্মসম্পর্ণ করিয়েছে, তখন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি এখন কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাশিয়া নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, একটি হেলিকপ্টার ও চারটি গাড়ি , নগদ টাকা নিয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়েছেন সেদেশের সদ্য ইস্তফা দেওয়া প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি। নিজের ইস্তফার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি দেশ ছাড়া হওয়ার পথে যাচ্ছিলেন। কাবুলের পতন কার্যত ১৯৭৫ সালের সাইগাঁও পতনের কথা মনে করাচ্ছে। যে বছর ভিয়েৎনামের সেনার কাছে পর্যুদস্ত হয় এই শহর। যদিও আমেরিকা তা মানতে রাজি নয়।
একই সঙ্গে লাখ টাকার প্রশ্ন হল এরপর আফগানিস্তানের বুকে কী ঘটবে? যার উত্তর সকলের কাছে অজানা। সেদেশে মহিলা নিরাপত্তা দিকই বা কোনদিকে যাবে, তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। জানা গিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরনো আফগান সরকারের সঙ্গে কথা বলছে তালিবান নেতারা। তালিবানরা 'সরকার' গঠন করতে চায় বলে জানিয়েছে। আফগানিস্তানকে ,' ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান ' বলেও উল্লেখ করা শুরু করেছে তালিবানরা। তারা জানিয়েছে, সারা দেশের পরিস্থিতি তারা স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধ পরিকর। তবে আফগানিস্তানের বাসিন্দারা কেউ তালিবানকে বিশ্বাস করে না। এদিকে তালিবান এখনও সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে কি না , তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। কারণ , তালিবানের ঘরেই কার্যত জন্ম নেয় আল কায়দার মতো সংগঠন। তবে সাম্প্রতিককালে আমেরিকার সঙ্গে শান্তি চুক্তির সময় তালিবান জানিয়ে দেয় যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তে তারা বদ্ধপরিকর। সেই জায়গা থেকে আগামীর তালিবান শাসন আর পুরনো তালিবান শাসন একই প্রকার হবে কি না, জল্পনা থেকেই যাচ্ছে। উত্তর তোলা থাক সময়ের কাছে।












Click it and Unblock the Notifications