'পিএইচডি, মাস্টার্স ডিগ্রির এখন আর দাম নেই', আফগানিস্তানে তালিবানের শিক্ষামন্ত্রীর ভিডিও ভাইরাল
দীর্ঘ সংঘাত, রক্তক্ষয়ের পর আফগানিস্তানের মসনদে ফের একবার তালিবান। ২০ বছর আগের তালিবানরাজের আতঙ্কে ত্রস্ত ছিল গোটা আফগান মুলুক। এরপর ফের সেই তালিবানরাই আফগানিস্তান দখল করতেইদেশ ছাড়ার চেষ্টায় বহু মানুষ বিমানবন্দরের পথে পা বাড়ান। এদিকে তালিবানকে রুখতে পাঞ্জশির লড়াই চালিয়ে গিয়েছে মাসুদ বাহিনী, যা কার্যত বিফল বলে দাবি তালিবানের। এদিকে, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসবাদীদের নিয়ে গঠন হয়ে গিয়েছে, তালিবানের নয়া সরকার। সেই সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে কার্যত দিকে দিকে বহু আলোচনা শুরু হয়েছে।
|
ভাইরাল ভিডিও
তালিবানি কট্টরপন্থী হিসাবে পরিচিত মোল্লাহ মহম্মদ হাসান আখুন্দ। তালিবানি শাসনে থাকাকালীন তাঁর বহু অংশে প্রভাব প্রতিপত্তির কথা শোনা যায়। এছাড়াও হাক্কানি নেটওয়ার্কের তাবড় সদস্য হিসাবে তাঁর নাম পাওয়া যায়। তিনিই এখন আফগানিস্তানের শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী। এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, পিএইচডি বা মাস্টার্সের ডিগ্রি (স্নাতোকোত্তর) এখন আর দামী নয়। এরই সঙ্গে ওই ভিডিওতে বলা হয়েছ, 'দেখুন মোল্লাহ ও তালিবানরা এখন ক্ষমতায়। এঁদের কোনও পিএইচডি নেই, নেই মাস্টার্স বা ওকটি নিদেন পক্ষে স্কুলের সার্টিফিকেটও। তবে তাঁরা সবার সেরা।'

আফগান মুলুক ও শিক্ষা ব্যবস্থা
আফগানিস্তানে আপাতত ছেলে ও মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে একসঙ্গে বসে পড়াশোনা করতে পরবেন না বলে জানানো হয়েছে তালিবানের তরফে। তালিবান প্রশাসনের হুকুম অনুযায়ী, ক্লাসের একদিকে পুরুষ ও অন্দিকে মহিলা পড়ুয়াদের বসিয়ে মাঝখানে পর্দা টেনে দিতে হবে। পন্থা মানলে তবেই হবে পড়াশোনা। এদিকে, তালিবান সরকার সাফ জানিয়েছে যে আপাতত শরিয়ত আই মেনে ইরানের মতো শাসন ব্যবস্থা দেশে রাখা হবে।

তোপ মেহবুবার
এদিকে, শরিয়ত আইন নিয়ে যেখানে তালিবান বারবার নিজের বক্তব্য পেশ করছে, সেখানে কাশ্মীরের বুক থেকে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি তালিবানের বিরুদ্ধে প্রবল তোপ দেগে জানিয়েছেন যে, যদি সৎ মনেই শরিয়ত আই পালন করতে হয়, তাহলে মহিলাদের অধিকার তালিবানকে দিতে হবেকাশ্মীরের এই নেত্রী বসেছেন, তালিবান এখন বাস্তব। তিনি নিজের কথা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন তালিবানের আগের ভবামূর্তির। সেই সময় কীভাবে মারধর অত্যাচার চলত, কীভাবে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হত, তার প্রসঙ্গ তুলে মেহবুবা মুফতি জানিয়েছেন যে, যদি শরিয়া আইন সত্যিই মানতে হয়, তাহলে মহিলাদের অধিকার দিতে হবে।

তালিবানি শাসন, মহিলাদের অধিকার ও শিক্ষা
উল্লেখ্য, তালিবানের তরফে তাদের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে মহিলাদের সম্পূর্ণ সম্নান অধিকার দিয়ে শরিয়ত আইন অনুযায়ী প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার পর তালিবানের তরফে একই ক্লাসে বসে পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা ক্লাস করার বিষয়টি জানানো হয়। তালিবানের মতে মহিলা অধ্যাপকরা শুধু মহিলা ছাত্রীদের পড়াবেন ও পুরুষ অধ্যাপকরা এবার থেকে শুধুই পুরুষ পড়ুয়াদের পড়াতে পারবেন।












Click it and Unblock the Notifications