একের পর এক বিস্ফোরণ-ড্রোন হামলা, আতঙ্কে যেকোনও মূল্যে দেশ ছাড়তে চান আফগানরা
একের পর এক বিস্ফোরণ-ড্রোন হামলা, আতঙ্কে যেকোনও মূল্যে দেশ ছাড়তে চান আফগানরা
পর পর বিস্ফোরণ, পাল্টা ড্রোন হামলা। চরম অরাজকতা চলছে আফগানিস্তানে। আতঙ্কতো ছিলই এবার যেন মরিয়া হয়ে উঠেছেন আফগানিস্তানের বাসিন্দারা। এবার যেকোনও মূল্যে দেশছাড়তে চাইছেন তাঁরা। যেভাবেই হোক দেশ থেকে পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। আগে কেবল কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় করেছিলেন তাঁরা। এবার দেশের যেকোনও সীমান্ত দিয়ে পালানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তাঁরা।

কাবুল বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ
গত বৃহস্পতিবার রাতে কাবুল বিমানবন্দর কেঁপে ওঠে বিস্ফোরণে। মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গিেয়ছে। আহতের সংখ্যা প্রায় দেড়শতাধিক। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশে। পর পর বিস্ফোরণের পরে গুলি চালানোও হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় ১৩ জন মার্কিন সেনাও মারা গিয়েছেন। রাগে ফুঁসছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুমকি দিয়েছেন এর প্রতিশোধ নিতেই হবে। যাঁরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তাঁদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতেই হবে। আমেিরকার এই হুমকিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। আতঙ্কে কাঁপছিলেন আফগানরা। এবার বুঝি যুদ্ধ লাগল।

প্রতিশোধ নিল আমেরিকা
কাবুল বিমানবন্দরে পর বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছিল আইএস জঙ্গি সংগঠন। তারপরেই ড্রোন হামলা ঘটিয়ে প্রতিশোধ নিল আমেরিকা। তাতে মারা গিয়েছেন আইএসের শীর্ষ নেতা। কাবুল বিমানবন্দর ফের মার্কিন সেনার দখলে চলে গিয়েছে। ৩১ অগাস্টের আগেই মার্কিন সেনাকে দেশ ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে তালিবানরা। নইলে বড় সমস্যায় পড়তে হবে বলেহুমকি দিয়েছে। পেন্টাগন পাল্টা দাবিকরেছে৩১অহাস্ট পর্যন্ত মার্কিন সেনা কাবুলে থাকবে এবং যাঁরা আফগানিস্তান ছেড়ে আসতে চায় তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হবে। আমেরিকার সঙ্গে তালিবানদের এক প্রকার ঠান্ডা যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে।

আতঙ্কে আফগানরা
তালিবানরা দেশ দখল করার পরেই আফগানিস্তান ছাড়ার হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে দিয়েছিল।কাবুল বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছিলেন। বিমানে ওঠার হুড়োহুড়ির ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। আফগানিস্তানের বাসিন্দারা যেভাবেই হোক পালাতে চাইছিলেন। বিমানের চাকায় চড়ে পালাতে গিয়ে একাধিক আফগানের মৃত্যুর ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে এসেছিল। কাবুল বিমানবন্দরের পাঁচিল বেয়ে উঠে কোলের সন্তানকে মার্কিন সেনার কাছে ছুঁড়ে দেওয়ার ঘটনা সকলেই দেখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিসা ছাড়াই তাঁরা দেশ ছাড়তে চাইছিলেন। ইতিমধ্যেই মার্কিন সেনাকয়েক হাজার আফগানকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে। আরও উদ্ধার কাজ চলছে। অন্যান্য দেশওআফগানদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। ভারত,জাপান খুলে দিয়েছে দরজা। ভারতও অসংখ্য ভারতীয়কে উদ্ধার করে নিয়েএসেছে েদশে। আফগানদেরও উদ্ধার করেেছ। রাষ্টপুঞ্জ একাধিক দেশকে সীমান্তখুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। পর পর বিস্ফোরণ ও ড্রোন হামলার পর আফগানরা যেকোনও সীমান্ত দিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

তালিবানি ফতোয়া
তালিবানরা দেশ দখল করার চরম অরাজকতা তৈরি হয়েছে সেখানে। নারীরা ২০ বছর আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন। ইতিমধ্যেই একাধিক ফতোয়া জারি করেছে তারা। মহিলা সঞ্চালকদের কাজ চলে গিয়েছে টেলিভিশন চ্যানেল থেকে। স্কুলে পড়া বন্ধ করে দিয়েছে তালিবানরা। ২০ বছর আগে তালিবান শাসনে অন্ধকার জগতে চলে গিয়েছিলেন নারীরা। তাঁদের বাইরে বেরোতে হত পুরুষ সদস্যকে সঙ্গে করে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত বোরখায় ঢাকা যেত। চটির অংশ দেখা গেলেও প্রকাশ্য রাস্তায় পাথর ছুরে মেরে শাস্তি দেওয়া হত। পড়াশোনার কোনও অধিকার তাঁদের ছিল না। বাড়ির ব্যালকনিতেও তাঁরা দাঁড়াতে পারতেন না।












Click it and Unblock the Notifications