এক সন্তান নীতির জন্য তারুণ্য কমছে, বাধ্য হয়ে তিন সন্তান নীতিতে অনুমোদন চিনের
এক সন্তান নীতির জন্য তারুণ্য কমছে, বাধ্য হয়ে তিন সন্তান নীতিতে অনুমোদন চিনের
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা দেশ চিন৷ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বহু বছর ধরে একসন্তান নীতি নিয়েছিল কমিউনিস্ট দেশটি। কিন্তু তার যে উল্টো ফল হবে এটা ভেবে দেখেনি চিন৷ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে ২০২০ সালে ১.৩ জন মহিলা প্রতি একটি সন্তানের জন্মহারে পৌঁছে গিয়েছিল চিন৷ এরপরই নড়েচড়ে বসে শি জিনপিং প্রশাসন৷ ৫ বছর আগেই একসন্তান নীতি থেকে সরে এসেছে দেশটি এবার দেশের তারুণ্য ফিরিয়ে আনতে তিন সন্তান নীতিতে অনুমোদন দিল দেশটি৷

চিনা পলিটব্যুরোর সুপারিশ
বৃহস্পতিবার চিনের পলিটব্যুরোর সুপারিশে 'তিন-সন্তানের নীতি'-এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ চিনের জাতীয় আইনসভা ১৯ আগস্ট জানিয়েছে দেশের দম্পতিদের তিনটি পর্যন্ত সন্তান ধারণের অনুমতি দেওয়া হলে তা চিনের জনসংখ্যা কাঠামো উন্নতির সহায়ক হবে।

ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের সুপারিশ
১৯ অগাস্ট ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) স্থায়ী কমিটি অনুমোদিত সংশোধিত জনসংখ্যা ও পরিবার পরিকল্পনা আইনে, চিন পরিবারগুলিকে তিনজন পর্যন্ত সন্তান রাখার অনুমতি দিয়েছে। এর আগে চিনের এক সন্তান নীতির জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে তরুণদের পিতামাতা হতে অনীহা তৈরি হয়েছিল৷ যা নিয়ে চিন্তিত জিনপিং সরকার। এমনকি একটি শিশুকেই মানুষ করার জন্য সরকারের কাছে আরো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা চেয়ে আসছিলেন নাগরিকরা।আবার এমনটাও দেখা গিয়েছে এক-সন্তান নীতির ফলে চিনে লক্ষ লক্ষ পরিবার কোনও শিশু ছাড়াই রয়ে গিয়েছে। বৃদ্ধ বয়সে এই নিঃসন্তান দম্পতিরা একাকীত্ব এবং হতাশায় ভুগছেন।

ভারতের তুলনায় চিনের জনসংখ্যা বয়ষ্ক
পাশাপাশি কোভিডের কারণে দেশে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়াতেও কম জন্মহার নিয়ে চিন্তিত চিন৷ আগে থেকেই এক সন্তান নীতির জন্য চিনের গড় বয়স ভারতের তুলনায় প্রবীন৷ ভারতের মোট জনসংখ্যার ২৮.৬ শতাংশ হচ্ছে ০ থেকে ১৫ বছর বয়সী মানুষ (শিশু)। যেখানে চিনে এই সংখ্যা হচ্ছে ১৭.৯৬ প্রায়। ভারতে মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫.৩ শতাংশ ষাটোর্ধ ব্যক্তি, যেখানে চিনের মোট জনসংখ্যার ১৮ শতাংশেরও বেশি ষাটোর্ধ ব্যক্তি রয়েছেন৷ আবার চিনে ৬৫ বছরের উপর প্রায় ১৩.৫ শতাংশ মানুষ রয়েছেন৷

সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে চায় চিন!
মোট জনসংখ্যার বার্ধ্যক্য আটকানো এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে 'হিউম্যান রিসোর্সের' পরিমাপ সঠিক রাখার চাপ রয়েছে চিনের উপর৷ তাই দেশের মোট জনসংখ্যায় তারুণ্যের নম্বর বাড়াতে জন্মহারের উপর জোর দেওয়া শুরু করেছে চিনের জিনপিং সরকার৷ এমনকি শুধু অনুমোদন নয়, যাতে চিনের যুগলরা সন্তান নিতে আগ্রহী হন তার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প ও উৎসাহ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে চিন।












Click it and Unblock the Notifications